১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মিতু হত্যা মুসাকে আদালতে তোলার দাবি স্ত্রী পান্নার


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ এসপিপতœী মিতু আক্তার হত্যাকা-ের তদন্ত ও আসামিদের জবানবন্দীর বক্তব্য থেমে যাচ্ছে কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসা পর্যন্ত গিয়ে। আসামি ও পুলিশ সকলেরই এক কথাÑ ‘সবই জানে মুসা।’ কিন্তু আলোচিত সেই মুসা এখন কোথায়? তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুসা ইতোমধ্যেই গুম হয়ে গেছে নাকি পুলিশ হেফাজতেÑএই প্রশ্ন অনেকের। মুসার পরিবারের সদস্যদের দাবি, পুলিশ মুসাকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার এক বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। অপরদিকে, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তের সকল পয়েন্টে বার্তাও পাঠানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এমনই অবস্থায় সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাকে আদালতে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন তারই স্ত্রী পান্না আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে পান্না আক্তার জানান, মুসার সঙ্গে তার ভাই সাইদুল আলম সিকদার ওরফে সাইদুল আলম সাকুকেও আটক করেছিল পুলিশ। পরে সাকুর গ্রেফতারের খবর স্বীকার করা হলেও মুসাকে আটকের বিষয়টি পুলিশের তরফে স্বীকার করা হয়নি। তিনি বলেন, বন্দর থানা এলাকার পরিচিত এক ব্যক্তির বাসা থেকে গত ২২ জুন সকাল ৯টা থেকে মুসাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে সকাল ৭টায় তাকে নজরবন্দী করা হয়েছিল। বন্দর থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম ও পরিদর্শক নেজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ তার স্বামীকে আটক করেছিল বলে জানান পান্না আক্তার। মিতু হত্যাকা-ের সেই সকালে মুসা বাসায় ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার বলেন, এসপি বাবুল আক্তারকে আমি চিনি না, কখনও তার নাম শুনিনি। তার সঙ্গে আর কখনও দেখা হয়নি। বাবুল আক্তার বিষয়ে আমার স্বামী আমাকে কিছু বলেওনি। সন্তানের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসপি বাবুল আক্তার গিয়েছিলেন এমনই একটি কথা চাউর হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে পান্না আক্তার বলেন, খুবই ঘরোয়া পরিবেশে এ অনুষ্ঠান হয়েছিল। আমরা আত্মীয়স্বজনদেরও বলিনি। এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুসা অনেকেরই সোর্স ছিলেন। কিন্তু এসপি বাবুল আক্তারের নাম সে কখনও বলেনি। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাবুল আক্তারের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকলে সে তার স্ত্রীকে মারবে কেন? মিতু আক্তারকে হত্যা করায় মুসার স্বার্থ কী?

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় নৃশংসভাবে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। তিনি তার ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে বেরিয়েছিলেন। এ হত্যাকা-ের পর প্রথমেই সন্দেহের তীর যায় জঙ্গীদের দিকে।

এদিকে, মুসা অনেক আগে থেকেই পুলিশী হেফাজতে রয়েছে বলে দাবি করে তার স্ত্রী বলেন, বাসা থেকেই তাকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বন্দর থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম ও পরিদর্শক নেজাম উদ্দিন। তবে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা মুসার স্ত্রীর দাবি অস্বীকার করেছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: