১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গার্মেন্টসে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পোশাকের বড় ক্রেতাদের বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারকদের বড় সংগঠন বিজিএমইএ। বরং বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো রয়েছে তা আরও এগিয়ে নেয়া হবে। গুলশান ট্র্যাজেডির কারণে ইমেজের উপর ধাক্কা লাগলেও পোশাকখাতের উপর আপাতত নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোন আশঙ্কা নেই বলেও মনে করে সংগঠনটি। সোমবার আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর সামনে রেখে রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ। সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে গুলশান ট্রাজেডিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গুলশানে সন্ত্রাসীদের হামলায় যারাই মারা গেছে তারা আমাদের আপনজন। তবে এ ঘটনায় একটা ধাক্কা লাগলেও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোন আশঙ্কা নেই। ইতোমধ্যে দু’একজন বড় ক্রেতা আমাদের জানিয়েছেন, তারা এদেশে ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমাবে না। বিদেশী ক্রেতারা যেভাবে পণ্য নিচ্ছেন সেটা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ আসে এ শিল্পে। বিদেশী ক্রেতাদের চাপের মুখে ছিল এ শিল্পখাত। সেই সঙ্কট আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি, এবারের পরিস্থিতিও সামাল দেয়া যাবে। এবারের ঘটনায় সে ধরনের আন্তর্জাতিক কোন চাপ নেই। সন্ত্রাসীরা সারাবিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এটা একটা গ্লোবাল ইস্যু। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সন্তানদের দিকে বাবা-মার খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানরা কোথায় যায়, কার কাছে যায়, কি করে এসব খোঁজখবর রাখার দায়িত্ব বাবা-মার।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জঙ্গীদের ওই হামলায় নিহত ইতালির ৬ জন বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে দু’থেকে তিনজন আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া বিজিএমইএ’র সদস্য ও একজন গার্মেন্টস মালিকের কন্যা সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন। তাই গুলশানে সংঘটিত অনাকাক্সিক্ষত নৃশংস ঘটনায় নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি ও শোক-সন্তপ্ত পরিবারগুলোকে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঈদ সামনে রেখে এবারে উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ কারখানায়। জুন মাসের বেতন অধিকাংশ কারখানায় প্রদান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ছুটি প্রদান করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ কারখানায়। এছাড়া সোমবার (গতকাল) বিকেল ৪টা নাগাদ শতভাগ কারখানায় ছুটি হয়ে যাবে। ঈদের আগে বেতন-ভাতা বিষয়ে সমস্যা হতে পারে এরকম ৩৫০টি গার্মেন্টসের নামের তালিকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ডিএমপি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়েছিল। এগুলোসহ বিজিএমইএ’র সমন্বয়ে মোট ১২০০টি প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ১৩১৯টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনকৃত কারখানাগুলোর মধ্যে ৪৪টি কারখানায় সমস্যা ও সমস্যার ধরন বুঝে সমাধান করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন-ভাতাদি পায়, সে লক্ষ্যে সরকার এবং বিজিএমইএ মিলে অগ্রিম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় ঢাকায় গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকাকে ৯টি ভাগে ভাগ করে বিজিএমইএ’র পরিচালক, পোশাক শিল্প মালিক এবং বিজিএমইএ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৯টি আঞ্চলিক কমিটি এবং ১৫টি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া ছুটির দিনে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে ব্যাংক খোলা এবং বন্দরগুলো চালু রাখায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান, বিজিএমইএ’র সহসভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাসির, সহসভাপতি ফেরদৌস পারভেজ বিভন, মাহমুদ হাসান খান বাবু প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: