২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নৌ-বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার


রাজন ভট্টাচার্য ॥ গুলশান ট্র্যাজেডির পর ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নৌ-বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি শুরু হয় সকাল থেকেই। এদিকে বেসরকারী চাকরিজীবীদের জন্য শেষ কর্মদিবস ছিল সোমবার। সকাল থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের বাড়তি চাপ। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে টিকেটের খোঁজে ছিলেন সবাই। তবে বেশিরভাগ যাত্রী বাড়তি বাস ভাড়া নেয়ার অভিযোগ করেছেন। যদিও মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। টিকেট পেতে কিছুটা ভোগান্তি হলেও রাস্তায় যানজটের খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। ফোর লেন উদ্বোধনের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রুটে যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন ঘরমুখো মানুষ। টাঙ্গাইল সড়কে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে।

কমলাপুরে ঘরমুখো মানুষের ঢল ॥ সোমবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে আগের দিনের চেয়ে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সবার চেষ্টা ছিল স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করা। এজন্য লাইনও ছিল বেশ দীর্ঘ। ট্রেনের ছাদে উঠেও যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অধিকাংশ ট্রেন ছেড়ে গেছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। তবে ভোর থেকেই রেল স্টেশন এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়ানো হয়। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করে ছাড়া হয়। কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, গুলশানের ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করে ছাড়তে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ট্রেনের মধ্যে রেল পুলিশও এখন থেকে বাড়তি সতর্কতায় আছে। টিকেট ছাড়া কাউকে প্লাট ফরমে ঠুকতে দেয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

যাত্রী সঙ্কট সায়েদাবাদে ॥ অন্য বছরের তুলনায় এবছর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় এখনও বাড়েনি। এই টার্মিনাল থেকে এবারও কোন গন্তব্যের অগ্রিম টিকেট দেয়া হয়নি। তাই বাস ধরতে আসা যাত্রীদের টিকেটের জন্য কাউন্টারগুলোতে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। এখান থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু গন্তব্যের বাস ছাড়ে। টিকেটের দাম বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তৃষা পরিবহনের যাত্রী আজিজ মিয়া জানান, তিনি যাবেন কুমিল্লার মুরাদনগরে। আগে সব সময় ভাড়া নিত ১৮০ টাকা, আজ দিতে হয়েছে ৩০০ টাকা। সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পরিবহনে সাড়ে ৪০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।

মহাখালী গেলেন মন্ত্রী, তবুও বাড়তি ভাড়া ॥ মহাখালী বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানি বাড়তি ভাড়া আদায় করছে এমন অভিযোগ যাত্রীদের। সকাল থেকেই যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসতে থাকে। নেত্রকোনাগামী শাহজালাল এক্সপ্রেসের যাত্রী কল্যাণ জানান, সর্বশেষ বাসভাড়া কমানোর পরও এই পরিবহনটি সরকারী নির্দেশনার কোন তোয়াক্কা করেনি। ফলে এক টাকাও ভাড়া কমানো হয়নি। অথচ তেলের দাম কমার পর সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে এক পয়সা ভাড়া কমার কথা। কিন্তু নেয়া হচ্ছিল আগের ভাড়া ২৫০ টাকাই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: