১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কীর্তনখোলায় লঞ্চ-স্টিমার সংঘর্ষে নিহত ৫ আহত ১৫


স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ কীর্তনখোলা নদীতে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের ঢাকাগামী সুরভি-৭ লঞ্চের সঙ্গে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জগামী পিএস মাসুদ স্টিমারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ যাত্রী নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর চারটার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকার কীর্তনখোলা নদীতে। দুর্ঘটনার পর সুরভী-৭ লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত পিএস মাসুদের মাস্টার জয়নাল আবেদীন জানান, স্টিমারটি ঢাকা থেকে চাঁদপুর হয়ে ভায়া বরিশাল থেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে শেষ গন্তব্য করার কথা ছিল। বরিশাল ঘাটে পৌঁছার পূর্বেই ভোর চারটার দিকে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী সুরভী-৭ লঞ্চটি একটানা হর্ন বাজাতে থাকে। তিনি আরও জানান, নৌ-আইন অনুযায়ী একটানা হর্ন দিলে নৌ-যানগুলো যে যার ডান দিক থেকে চলবে। হর্ন অনুযায়ী স্টিমারটি ডান দিকে নিয়ে যাওয়া হলেও সুরভী লঞ্চটি তার দিক পরিবর্তন না করে সরাসরি পিএস মাসুদের মাঝ বরাবর আঘাত করে। যাতে বামপাশের পেডেলসহ ডেকের অংশ ও চারটি স্টাফ কেবিন দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ৫ যাত্রী নিহত ও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। দুর্ঘটনায় জাহাজটি চলাচলে অক্ষম হয়ে পড়লে নদীর ওই স্থানে নোঙর করা হয়। খবর পেয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নগরীর কাশিপুর এলাকার কালু (৩০), মোরেলগঞ্জের ফারজানা (১৯), বাগেরহাটের শাকিল সরদার (২১), রুবেল (২২), চাঁদপুরের নুরুল ইসলামসহ (৫০) অজ্ঞাত ৩৫ বছরের এক নারী ও অজ্ঞাত ৪০ বছরের দুই ব্যক্তিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত ৫ জনের মধ্যে নগরীর কাউনিয়া এলাকার জামাল উদ্দিনের মেয়ে তামান্না (১২) ও বাগেরহাট সূতালড়ি গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে সিমা আকতারের (২০) পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম জানান, ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে একে একে স্টিমারের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্টাফ কেবিন থেকে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তিনি আরও জানান, স্টিমারটিতে ৭শ’ যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর আটকে পড়া স্টিমারের যাত্রীদের সরকারী যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মধুমতির সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত স্টিমারের আহত যাত্রী রুবেল জানান, জাহাজটিতে প্রায় দেড় হাজার যাত্রী ছিল।

সুরভী-৭ লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত ॥ এমভি সুরভী-৭ লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার দুপুর একটার দিকে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: