১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কলাপাড়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ভাসছে বাড়িঘরসহ ফসলী জমি


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ কলাপাড়ার ১৭ গ্রামের অন্তত দশ হাজার পরিবারে এবছরের ঈদের উৎসব নেই। এসব পরিবারের জমিজমা, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট সব অস্বাভাবিক জোয়ারে ভাসছে। এদের চরম দুরাবস্থায় কাটছে একেকটি প্রহর। উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর, সুধিরপুর, পুরানমহিপুর, ইউসুফপুর। লালুয়ার মুন্সিপাড়া। ধানখালীর পশ্চিম লোন্দা, পাঁচজুনিয়া, দেবপুর। লতাচাপলীর আলীপুর স্লুইসসহ বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে কচ্ছপখালী, আলীপুর, ফাসিপাড়া, নাইয়রীপাড়াসহ সাতটি গ্রামের এমন দুরাবস্থা। বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে এসব গ্রাম এখন থৈ থৈ করছে। চারদিকে পানি আর পানি। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। এসব পরিবারের দুরাবস্থা চোখে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। নিজামপুর গ্রামের সিদ্দিক মিস্ত্রি জানান, সাতজনের সংসারে এখন বেহাল দশা। নদীতে ভাটার সময় একটি আলগা চুলায় চৌকির উপরে রান্না করে সেহরিসহ রাতের খাবার খেতে হয়। আর ইফতারি চলে শুধু পানি আর মুড়ি দিয়ে। একই দশার কথা জানালেন, ইসমাইল মিস্ত্রি, নুরইসলাম ফকির, নুরআলম ঘরামী, ইব্রাহিম মৃধা, মজিবর গাজী, রুস্তুম হাওলাদার, জালাল হাওলাদারসহ সকল বাসিন্দা। সিদ্দিক মুন্সি জানালেন, ঈদের নামাজ পড়ার মতো দু’টি মসজিদ পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকছে। পুরো রোজার মাস ভাটার সময় ধোঁয়ামোছা করে নামাজ পড়তে হয়েছে। ঈদের জামাতের কী হবে তা তাদের জানা নেই। এতো গেল মহিপুর ইউনিয়নের চার গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবারের দুরাবস্থা। ধানখালীর দেবপুরের মানুষতো ভাসছে দুই মাস ধরে। জোয়ারের সময় বাড়ির উঠোন পর্যন্ত ডুবে যায়। বহু কাঁচা বাড়িঘরের মাটির পিড়া ধুয়ে ঘরটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখন দুইদিন ধরে জোয়ারের চাপ যেন আরও বাড়ছে। সেইসঙ্গে ঝড়োহাওয়া বইছে। বিরামহীন বৃষ্টিপাত চলছে। জীবন-জীবিকা সব যেন পানিবন্দী দশায় আটকে আছে। লালুয়ার মুন্সিপাড়া গ্রামের মানুষের একই দশা। বেড়িবাঁধটি বিধ্বস্ত হওয়ায় জোয়ার-ভাটায় মানুষ ভাসছে। জোয়ারের সময় মানুষ পানিবন্দী থাকছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে এসব মানুষ ঈদের নামাজসহ শুভেচ্ছা জানাতে একে অপরের বাড়িতে পর্যন্ত যেতে পারবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের জানান, দেবপুরে সাধারণ মানুষ বেড়িবাঁধ করতে পর্যাপ্ত জমি না দেয়ায় এ মুহুর্তে বিকল্প বেড়িবাঁধ করা যাচ্ছে না। আর নিজামপুরের সমস্যা সমাধানে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: