২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে ভূঞাপুরে ১০ গ্রামের ঈদ আনন্দ বিলীন

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৬, ০৪:১৫ পি. এম.
যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে ভূঞাপুরে ১০ গ্রামের ঈদ আনন্দ বিলীন

ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল ।। যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে ১০ গ্রামের ৮শ’ পরিবারের এবার ঈদ আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। বর্ষার শুরুতেই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহের তীব্র ভাঙনে কবলে অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায় ৮শ’ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গৃহহীনদের সাহায্যে এগিয়ে না আসায় অনেকেই খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা যায়, টানা বর্ষন ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিগত এক সপ্তাহে ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আর এ ভাঙনে অর্জুনা ইউনিয়নের চর অর্জুনা, রামাইল, গোবিন্দপুর, বাসুদেবকোল, জগৎপুড়া গ্রামের ৪৩৯টি পরিবার এবং গাবসারা ইউনিয়নের রাজাপুর, চন্দনী, বিহারী, ফলদাপাড়া, ভূঞাপাড়া গ্রামের ৩৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গোবিন্দপুরে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। আর বিলীন হওয়ার পথে গোবিন্দপুর হাট। সরকারীভাবে গৃহহীনদের সাহায্যে এগিয়ে না আসায় অনেকেই খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে রামাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইদ্রিস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যমুনা নদীর মধ্যবর্তী এসব দূর্গম এলাকাগুলোতে এবার ঈদ আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত ৮শ’ পরিবার এখন নতুন করে বাঁচার জন্য অন্যত্র মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজছে।

এদিকে ভূঞাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুল হালিম ভাঙন কবলিত গ্রামগুলো পরিদর্শন করেছেন। অর্জুনা ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা বলেন, ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দপুর গ্রামটি চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ভাঙন কবলিত অর্র্জুনা ইউনিয়নের ৪৩৯টি ও গাবসারা ইউনিয়নের ৩৫০টি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছি। কিন্তু ঈদে এদের জন্য কোন সহযোগিতা করা যাচ্ছে না।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল জানান, চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা হাতে পেয়েছি। জি.আরের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের বলা হয়েছে। তারা তালিকা পাঠালেই আমরা সরকারী ত্রাণ তহবিল থেকে সাহায্য করবো।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৬, ০৪:১৫ পি. এম.

০৪/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: