২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাত্রী কল্যাণ সমিতির


স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবারের ঈদে দেশের সড়ক পথে প্রায় ২ হাজার ২০০, নৌ-পথে প্রায় ১ হাজার ২০০, রেলপথে টিকেট কালোবাজারিরা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নামে লুটপাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন সংগঠনটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ঈদে লম্বা ছুটির কারণে ২৫ রমজান পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে পরিবহনগুলো সুবিধা করতে না পারলেও ২৬ রমজান থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন গন্তব্যে বিভিন্ন পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও লুটপাট শুরু হয়েছে। রিকশা, অটোরিক্সা, টেম্পু, হিউম্যান হলার, বাস, মিনিবাস, লঞ্চ, ট্রলার, নৌকা, স্পীড বোট এমনকি রেলপথেও চলছে এই নৈরাজ্য। এসব নৈরাজ্য বন্ধে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সংশি¬ষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানালেও তাতে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নামে মাত্র বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে কিছু অভিযান এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুটিকয়েক কাউন্টারে অভিযান চালালেও এসব অভিযান নৈরাজ্য বন্ধে উলে¬খযোগ্য কোন ভূমিকা রাখছে না। এতে করে ২৬ রমজান থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত পাঁচ দিনে সারাদেশে প্রায় ৮০ লক্ষ যাত্রী এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। বিশেষত নিম্ন আয়ের লোকজন বা বেসরকারি কারখানার কম বেতনভুক্ত শ্রমজীবী-কর্মজীবী মানুষ এবং গার্মেন্টস কারখানার অল্প আয়ের নারী শ্রমিকরা এই নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রিকশায় গন্তব্যভেদে ঈদ বকশিশের নামে ১০-১০০ টাকা পর্যন্ত, টেম্পু হিউম্যান হলারে যাত্রাপথে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত, বাস-মিনিবাসে ১০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত, লঞ্চে ১০০-১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত, সিএনজি অটোরিক্সা ও টেক্সিক্যাবে ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এতে করে এই তিনপথের ৮০ লক্ষ যাত্রী থেকে সড়কপথে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা, নৌ-পথে প্রায় ১হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং রেলপথে টিকেট কালোবাজারিরা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়ার নামে লুটে নিচ্ছে।

সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের ঈদে লম্বা ছুটি কাজে লাগাতে দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথে ঢাকা থেকে ৯২ লাখ, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ৩১ লাখ, সিলেট থেকে ৮ লাখ, খুলনা থেকে ১২ লাখ, রাজশাহী থেকে ৯ লাখ, বরিশাল থেকে ৩ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে। এর মধ্যে ৩ লাখ যাত্রী ওমরা পালন সহ বিদেশে ঈদ ভ্রমণ করছে। এছাড়াও দেশের এক জেলা থেকে অপর জেলায় যাতায়াত করছে আরো ৪ কোটি ৬০ লক্ষ যাত্রী।

প্রতিবেদনে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ব্যবস্থাপনায় গলদ থাকায় প্রতিবছর ঈদ আনন্দ যাত্রায় দেশের যাত্রী সাধারণ ভোগান্তি, হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্যসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়। দেশের সকল পথে গণপরিবহনের সংকটকে পুঁজি করে ঘটছে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও হয়রানি। প্রকৃতপক্ষে ঈদের এই পাঁচদিনে দেশের সকল পথে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। এতে গণপরিবহনের চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে গলদঘর্ম হতে হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: