২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কঠিন সময়, স্বীকার করছেন ম্যাথুস


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনের মতো অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার অবসরে যাওয়ায় লঙ্কানদের জন্য এবারের ইংল্যান্ড সফরটা ছিল কঠিন এক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল। প্রথমে তিন টেস্টের সিরিজ ২-০তে, এরপর পাঁচ ওয়ানডেতে হার ৩-০ ব্যবধানে। ১২২ রানে হারের পথে শেষ ওয়ানডেতেও উড়ে যায় অতিথিরা। শনিবার কার্ডিফে ৩২৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে ৪২.৪ ওভারে ২০২ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। ৪৫ বলে ৭০ রানের ড্যাশিং ইনিংস উপহার দিয়ে ম্যাচসেরা জস বাটলার। দুরন্ত ব্যাটিংয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন ওপেনার জেসন রয়। এমন ভরাডুবির পর লঙ্কান অধিনায়ক স্বীকার করেছেন, তাদের জন্য সময়টা আসলেই কঠিন। তবে এখনই নেতৃত্ব ছাড়ার ইচ্ছে নেই বলেও জানিয়েছেন দলটির সময়ের সেরা এই অলরাউন্ডার।

‘ক্রিকেটে ভাল সময় খারাপ সময় দুটোই আসে। স্বীকার করছি, অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার ও দলের জন্য খুব কঠিন সময়। কিন্তু ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলে দেশের জন্য কিছু করা যায় না। দিনে দিনে উন্নতি করতে পারলে অবশ্যই আমরা এই গর্ত থেকে উঠে দাঁড়াতে পারব।’ সেই টেস্ট থেকে শুরু করে শেষ ওয়ানডে পর্যন্ত ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং প্রতি বিভাগে ইংলিশদের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে লঙ্কানরা। তবে তাদের বেশি ভুগিয়েছে ব্যাটিং। ওয়ানডে সিরিজে শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহকের মধ্যে একমাত্র লঙ্কান অধিনায়ক নিজে। ৬৩ গড়ে করেছেন ২৫৩ রান। উইকেট শিকারে সেরা পাঁচে চারজন ইংল্যান্ডের। গোটা সফরে সাঙ্গা-মাহেলার অভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দু-এক ম্যাচে হয়ত কুশল মেন্ডিজ, দীনেশ চান্দিমাল জ্বলে উঠেছেন, কিন্তু ম্যাথুসের মতো ধারাবাহিক হতে পারেননি।

ম্যাথুস ব্যাটে-বলে প্রায় একাই লড়ে যাচ্ছেন। বিপদের মধ্যে পারফর্ম করছেন। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারছেন না। তার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নিয়ে এতটুকু প্রশ্ন নেই, প্রশ্ন তার নেতৃত্ব গুণ নিয়ে। ম্যাথুসের অধিনায়কত্ব নিয়ে শ্রীলঙ্কান বোর্ড (এসএলসি) কর্তারা বিশেষ করে ভাবছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। মাহেলা থাকা কালে ২০১২ সালেই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ম্যাথুসের কাঁধে দায়িত্ব বর্তেছিল। উদ্দেশ্য তাকে যোগ্য করে গড়ে তোলা। এরপর ২০১৩ সালে পাকাপাকিভাবে ওয়ানডে ও টেস্টের নেতৃত্ব পান, গত টি২০ বিশ্বকাপে ওঠে ছোট্ট পরিসরের দায়িত্ব। তুখোড় অলরাউন্ডারকে নেতৃত্বে দেখে ভক্তরাও খুশি হয়েছিলেন, আশাবাদী হয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই প্রত্যাশা উবে গেছে। ব্যাটে-বলে পারফর্ম করলেও মাঠে বোলার পরিবর্তন ও ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

গত বছর ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের কাছে টেস্ট সিরিজ হারের জন্য ম্যাথুসের দুর্বল নেতৃত্বকেই দায়ী করা হয়। এরপরও এসএলসি তার ওপর আস্থা রাখা, কারণ জয়া-সাঙ্গাকে হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। ওদিকে দাপটের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ জিতে সন্তুষ্ট ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগান।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: