২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজ অনিশ্চিত!


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) গভীরভাবে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিষয়টি পর্যালোচনা করতে শুরু করে দিয়েছে। এমনকি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দলও পাঠাতে পারে। দেশটির সরকারের নির্দেশের অপেক্ষাতেও থাকবে ইসিবি। ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম থেকে এমনটিই জানা যাচ্ছে।

আবার অক্টোবর মাস আসছে। আবার নিরাপত্তা ইস্যুতে আরেকটি দলের বাংলাদেশে খেলতে আসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়ে গেছে। গত বছর ইতালি নাগরিক সিজার তাবেলা নিহত হওয়ার জের ধরে অক্টোবরে নিরাপত্তা নিয়ে অযুহাত দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত সেই সফরটি হয়নি। এবার ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরও অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়ে গেল। ইসিবির এক মুখপাত্র ইংল্যান্ডের গণমাধ্যমে এ সফর নিয়ে বলেন, ‘ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে ইসিবি। আগামী কয়েক সপ্তাহ ও কয়েক মাস আমরা বাংলাদেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করব। সঙ্গে ইংল্যান্ড দলের জন্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা এ সময় আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা পরিচালকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব। তারা যদি বলে পরিস্থিতি নিরাপদ ও যথাযথ নয় তাহলে হয় তো আমরা সঠিক পদক্ষেটাই নেব।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা পরিচালক যদি পরিস্থিতি নিরাপদ নয় বলে দেন, তাহলে যে সফর স্থগিত করে দেয়া হবে; তা কারও না বোঝার কথা নয়। ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য টেলিগ্রাফতো ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর যে হচ্ছে না, তা যেন নিশ্চিতই বলে দিচ্ছে।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পা রাখার কথা ইংলিশ ক্রিকেট দলের। তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সিরিজ চলবে নবেম্বর মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত। তবে, গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার জের ধরে বাতিল হয়ে যেতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিরিজ। এমন দাবি করেছে তিন শীর্ষ স্থানীয় ব্রিটিশ গণমাধ্যমসহ অন্যরাও।

দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘হলি আর্টিজান বেকারি ক্যাফে (আক্রান্ত রেস্টুরেন্ট) থেকে শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দূরত্ব মাত্র পাঁচ মাইল। আর ইংল্যান্ড দল সাধারণত যে হোটেলে ওঠে, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ থেকে দূরত্ব ছয় কিলোমিটার।’ এই অবস্থায় ইসিবি ঝুঁকি নেয়ার সুযোগ খুবই কম বললেই চলে।

গুলশান জিম্মি সঙ্কটের অবসান হয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এর সফল সমাপ্তি হয়। তবে, গুলশান হামলার ঘটনায় বাজে প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বোধ হয় বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড আসন্ন সিরিজে। স্কাই স্পোর্টস তাদের অনলাইনে প্রচার করে, ‘ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থার উপর মনিটর করছে।’ তারা জানায়, গত বছর জঙ্গী হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ সফরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এমনকি অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপও খেলেনি। তবে, অস্ট্রেলিয়া না আসলেও বাংলাদেশের মাটিতে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। কোন অঘটন ছাড়াই এশিয়া কাপের আসর শেষ হয়েছিল। এমন কি জঙ্গী হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল প্রথমে আসতে না চাইলেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অমান্য করতে পারেনি। ফলশ্রুতিতে তারা বাংলাদেশের মাটিতে এসে খেলেছিল কোন সমস্যা ছাড়াই। তাজিকিস্তান ফুটবল দলও খেলে গিয়েছে অল্প কিছুদিন আগেই। সেখানে ইংল্যান্ডের না আসার কোন কারণ এ মুহূর্তে মিলছে না। এখনও তিনমাস বাকি। সময় অনেক আছে। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি ভাল হয়ে গেলে ইংল্যান্ড আসতে পারে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের জন্য ৩০ জনের প্রাথমিক দলও ঘোষণা করেছে বিসিবি। নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে পৌঁছানোর কথা ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের। ঢাকায় এসে ৪ অক্টোবর ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেয়ার কথা সফরকারী দলটির। এ ম্যাচটি শেষেই ৭ অক্টোবর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে। ৭ অক্টোবর প্রথম, ৯ অক্টোবর মিরপুরে দ্বিতীয় ও ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেটি হবে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি শুরু হবে। ১৪ অক্টোবর তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হবে। এ প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ড ও বিসিবি একাদশ মুখোমুখি হবে। চট্টগ্রামে ২০ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এরপর আবার ২৮ অক্টোবর মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে।

২০০৩ সালের পর সাত বছর বিরতি দিয়ে ২০১০ সালে ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশে এসেছিল। একই বছর ইংল্যান্ড সফরে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এরপর আর দুই দলের মধ্যকার টেস্ট খেলা হয়নি।

এর আগে ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত সফরে এসেও ফিরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। যদিও পরে আবার ফিরে দুটি টেস্ট খেলে যায় ইংলিশরা। ভারত বলেই এমনটি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি অক্টোবরে বাংলাদেশের মাটিতে এসে সিরিজ নাই খেলে ইংল্যান্ড, তাহলে কী দ্রুত সেই সিরিজ পাওয়া সম্ভব! এ নিয়েই চিন্তা বেশি হতে পারে বিসিবির। যদি কোনভাবে সিরিজ এ মুহূর্তে ভেস্তে যায়, তাহলে ইংল্যান্ড এরপর কবে খেলবে তার নিশ্চয়তা নেই। আপাতত সিরিজ অনিশ্চয়তার মধ্যে যে পড়ে গেছে, সেটিই সবার আগে বিসিবির ভাবনায় যুক্ত হয়ে গেছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: