২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুই সেয়ানের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হাসল জার্মানি


দুই সেয়ানের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হাসল জার্মানি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চীনা প্রাচীর বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল যুদ্ধে ইতালি ও জার্মানির গোলপোস্ট আগলে ছিলেন দুই বিশ্বসেরা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন ও ম্যানুয়েল নিউয়ের। শনিবার রাতে ফ্রান্সের বর্দোতে মুখোমুখি হয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দু’দল।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পুরোটা সময় অসাধারণ পারফর্মেন্স প্রদর্শন করেন দুই গোলরক্ষক। ম্যাচটা অমীমাংসিত হলেই বুঝি মানানসই হতো! কিন্তু সেটা তো সম্ভব না। এ যে নকআউট পর্বের লড়াই। যেভাবই হোক বিদায় নিতে হবে একটি দলকে। তাই তো নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা হয়। সেখানেও সেয়ানে সেয়ানে লড়াই, ড্র থাকে খেলা। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে।

বুফন ও নিউয়ের। সময়ের দুই সেরা গোলরক্ষক। এ কারণে পেনাল্টিশূট আউটে জয়ের স্বপ্ন বুনতে থাকে জার্মানি, ইতালি দু’দলই। কিন্তু বিদায় যে একজনকে নিতেই হবে। শেষ পর্যন্ত তাই বুফনকেই হার মানতে হয়। ম্যারাথন টাইব্রেকারে ৬-৫ গোলে ইতালিকে হারিয়ে চলমান ইউরোর সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, টাইব্রেকারের প্রথম পাঁচটি করে শট থেকে দু’দল গোল করতে পারে মাত্র ২টি করে। অর্থাৎ দু’দলের ১০টি শটের ৬টিই মিস হয়। এর মূল কারণই গোলপোস্টে বুফন ও নিউয়েরের অবস্থান। জার্মানির টমাস মুলার, বাস্তিয়েন শোয়েনস্টাইগার এবং ইতালির গ্রাজিয়ানো পেল্লে ও লিওনার্ডো বোনুচ্চি গোলরক্ষকের ভয়েই মূলত পেনাল্টি মিস করেন।

টাইব্রেকারের প্রথম পাঁচটি শট থেকে ২-২ গোলে খেলা অমীমাংসিত থাকে। ফলে শুরু হয় সাডেন ডেথ। এরপর প্রথম তিনটি করে শট থেকেই গোল করে জার্মানি ও ইতালি। ইতালির মেট্টে ডার্মেইনের চতুর্থ শট রুখে দেন জার্মান গোলরক্ষক নিউয়ের। এরপর সুযোগ আসে ইউরোপের পাওয়ার হাউসদের। সেটা কাজে লাগাতে ভুল করেননি জোনাস হেক্টর। গোল করে রুদ্ধশ্বাস জয় উপহার দেন জার্মানিকে। ইতালির দুর্ভাগ্য, শটটি বুফনের হাতে লেগে জালে প্রবেশ করে। সবমিলিয়ে দু’দল ৯টি করে মোট ১৮টি পেনাল্টি শট নেয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেমিফাইনালে জার্মানি খেলবে ফ্রান্স অথবা আইসল্যান্ডের মধ্যকার শেষ কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ৭ জুলাই রাতে। এর আগে ৬ জুলাই রাতে হবে পর্তুগাল ও ওয়েলসের প্রথম সেমিফাইনাল।

বিশ্বকাপ বা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আগে কখনও ইতালিকে হারাতে পারেনি জার্মানি। অবশেষে জার্মানদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। এই প্রথম তারা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে হারিয়েছে আজ্জুরিদের। তবে টাইব্রেকারে এই জয় আসায় এটি রেকর্ড বুকে স্থান পাবে না। অর্থাৎ রেকর্ড বুকে এখনও অটুট আছে জার্মানদের বিপক্ষে ইতালির না হারার রেকর্ড। তবে পরশু রাতে সাডেন ডেথে জিতে এই আক্ষেপ অনেকটাই ঘুচেছে জোয়াকিম লোর দলের।

ঢাকার গুলশানে ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নয় ইতালিয়ানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামে ইতালি। খেলা শুরুর আগে নিহতদের স্মরণও করা হয়। শোককে শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যেই শুরু করেছিল বুফনরা। কিন্তু কে জানত, খেলা শেষে টাইব্রেকারে হারের শোকে স্তব্ধ হয়ে যাবে ইতালি। ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। দু’দলই বেশ কয়েকবার গোলের সম্ভাবনা জাগালেও কাক্সিক্ষত ঠিকানা খুঁজে পায়নি। দুই শক্তিধর দলের প্রথম ৪৫ মিনিটের খেলা ছিল অনেকটাই পরিচ্ছন্ন।

বিরতির পর মাঝমাঠের দখল নিয়ে খেলতে থাকে জার্মান। ৬৫ মিনিটে কাক্সিক্ষত গোলও পেয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এ সময় জোনাস হেক্টরের ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে অসাধারণ ঢংয়ে গোল করেন মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল।

এরপর ধারণা করা হচ্ছিল, এই গোলেই হয় তো ইতালি গেরো খুলতে চলেছে জার্মানরা। কিন্তু ৭৮ মিনিটে সমতা ফেরায় ইতালি। প্রতিপক্ষের একটি ক্রস বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন জেরোম বোয়াটেং। কিন্তু বল তার হাতে লাগলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ইতালিকে সমতায় ফেরান লিওনার্ডো বোনুচ্চি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাকি সময় আর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে দু’দলই একাধিক সুযোগ পেলেও গোল আর হয়নি। তাই খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে খেলা অমীমাংসিত থাকায় জার্মানির বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেছে ইতালি।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ইতালিকে হারতে হয়েছে, তবে সেটা সাডেন ডেথে। ১০ বছর আগের একটা ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই জার্মানি জয় পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কোচ জোয়াকিম লো। সেটা ছিল ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানি। জোয়াকিম লো বলেন, এটা নাটকীয় একটা ম্যাচ। একেবারে শুরু থেকে শেষ শটটা পর্যন্ত। ২০০৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচেও আমার এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে। ওটা কাজে দিয়েছে। সেমির প্রতিপক্ষ নিয়ে তিনি বলেন, দেখা যাক কী হয়। ফ্রান্সই ফেবারিট। ওদের দলটা দারুণ। তবে আইসল্যান্ডের রক্ষণ বেশ ভাল। ফ্রান্সের কাজটা সহজ হবে না।

অসাধারণ একটা ম্যাচে হারলেও গর্বিত ইতালিয়ান ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে দলটির ডিফেন্ডার বোনুচ্চি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ১২০ মিনিট সমানে সমানে লড়েছি। শেষ পর্যন্ত মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। এই দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে বোনুচ্চিই পেনাল্টি থেকে গোল করে ইতালিকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন। কিন্তু টাইব্রেকারে দলের পাঁচ নম্বর শট মিস করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বোনুচ্চি বলেন, নিউয়ের আমকে এভাবে বুঝে ফেলল! তবে এটাও ঠিক, আমি শটটা আরও ভাল নিতে পারতাম।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: