২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢাকার পাশে থাকবে দিল্লী আশ্বাস দিয়ে হামিদকে প্রণব মুখার্জীর চিঠি


কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। রবিবার রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় প্রণব মুখার্জী হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জিম্মিদের উদ্ধারে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। এদিকে গুলশানের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

শুক্রবার রাতে গুলশান দুই নম্বরে স্প্যানিশ রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী জঙ্গী। সেখানে জিম্মি হন দেশী-বিদেশী অন্তত ৩৩। শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে জিম্মি সঙ্কটের অবসান হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানী ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশী, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। এছাড়া রাতে হামলার পরপরই সেখানে আটকেপড়াদের উদ্ধারে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দীন হামলাকারীদের ছোড়া গ্রেনেডের স্পিøন্টারে নিহত হন।

ঢাকায় হামলার খবরে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে আবদুল হামিদের কাছে লেখা বার্তায় প্রণব মুখার্জী বলেন, আপনার সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে বেশ কিছু জিম্মি উদ্ধারের খবরে দুশ্চিন্তামুক্ত হলেও নৃশংস হামলায় নিরীহ মানুষদের হত্যা এবং কয়েকজনের আহত হওয়ার খবরে আমি মর্মাহত।

প্রণব মুখার্জী বলেন, ভারত সব সময় এ ধরনের সন্ত্রাসের নিন্দা জানায়। বিশ্বাস করি এ ধরনের নৃশংস হামলার কোন যৌক্তিকতা নেই। বাংলাদেশের এ কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ পাশে থাকা ছাড়াও শোক ভাগাভাগি করে নেবে।

তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এর আগে শনিবার বিকেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে এ ঘটনায় তার দেশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে শেখ হাসিনাকে ফোন করে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বলেন।

বাংলাদেশের পাশে থাকবে রাশিয়া ॥ গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। ঢাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে যৌথভাবে সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে রাশিয়া। রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

সরকারের কাছে পাঠানো বার্তায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে গুলশানের ঘটনার গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত স্বজন ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দেশটি। ঢাকার ঘটনা উল্লেখ করে রাশিয়া বলেছে, আমরা আবার একটি অমানবিক সন্ত্রাসী হামলা দেখতে পেলাম, যার কোন যৌক্তিকতা নেই। ঢাকার ঘটনা আবারও প্রমাণ করল বিশ্বজুড়ে সকল দেশকে যৌথভাবে জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করতে হবে।

কানাডার নিন্দা ॥ এদিকে বাসস জানায়, ঢাকার গুলশান এলাকায় স্প্যানিশ রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কানাডা এবং দেশটি সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

ঢাকায় কানাডীয় হাইকমিশনার বিনয়েট-পিয়ের লারামি রবিবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে- ‘আমরা এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কানাডা ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আছে। তিনি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে এ নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার জন্য মর্মাহত ও গভীর শোক প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সাহসী কর্মকর্তাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রিয়জনের প্রতি কানাডা সরকার গভীর সমবেদনা জানায়। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ডিওনের বিবৃতি উল্লেখ করে বিনয়েট-পিয়ের লারামি বলেন, মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমন আইন ও মানুষের প্রতি কানাডার অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কানাডা সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, যা সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করা হবে। সহিংস চরমপন্থা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কানাডা বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: