১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

চিনির বাজার অস্থির ॥ ধুম কেনাকাটা দুধ চিনি সেমাইয়ের


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঈদ সামনে রেখে এবার জমজমাট হয়ে উঠছে সেমাই-চিনি-দুধসহ সব ধরনের মাংসের বাজার। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত সেমাই। প্রতি প্যাকেট কাশ্মিরী সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা। ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আলাউদ্দিনের লাচ্ছা সেমাইয়ের প্যাকেট। এছাড়া মানভেদে প্রতিকেজি খোলা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত। দরদাম যাই হোক, ঈদ বাজারের প্রধান পণ্য হচ্ছে সেমাই। তাই ক্রেতারা যেকোন মুদি দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর কিংবা সুপারশপগুলোতে গিয়ে আগে খোঁজ করছেন সেমাইয়ের। সেমাইয়ের সঙ্গে কেনা হচ্ছে তরল দুধ। বিশেষ করে মিল্ক ভিটা, আড়ং এবং প্রাণের দুধের চাহিদার যেন শেষ নেই। চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে এসব পণ্যের দামও।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ঈদ সামনে রেখে চিনির পর এবার বেড়েছে সব ধরনের মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম। সিটি কর্পোরেশনের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০ টাকা বেশি নিয়ে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকা। চাহিদা বাড়ায় ১৭০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ব্রয়রার মুরগি। এছাড়া পাকিস্তানী, ককটেল এবং দেশীয় জাতীয় মুরগির দাম বেড়েছে পিস প্রতি ৬০-৮০ টাকা পর্যন্ত। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, ছোলা, আটাসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম। নাড়ির টানে নগরবাসী ঢাকা ছাড়তে শুরু করায় সবজির চাহিদা কমে আসছে। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারে মাছের দামও বাড়তির দিকে রয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার এবং ফকিরাপুল বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, গরু ও মুরগির মাংসের দাম বাড়ায় অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। মাংস কিনতে এসে ক্রেতারা বিরক্তও। পুরান ঢাকায় প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম রাখা হচ্ছে ৪৬০ টাকা। ঈদ সামনে রেখে দাম আরও ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কেন দাম বাড়ানো হচ্ছে জানতে চাইলে পুরান ঢাকার বাদশা মাংস বিতানের সেলসম্যান সুমন জানান, ঈদ আসছে তাই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আপাতত মাংসের দাম কমবে না বলেও জানান তিনি। একই অবস্থা কাপ্তান বাজারেও। এই বাজারে মাংসের দাম বেশি রাখা হচ্ছে। এখানে রাতে অর্ধ শতাধিক মহিষ জবাই করা হলেও সকালে তা সব গরু বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। মুরগির বাজারেও একই অবস্থা। ফকিরাপুল বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগির দাম রাখা হচ্ছে ১৭০-১৮৫ টাকা। দুদিন আগেও এই মুরগি ১৫৫-১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই বাজারের মুরগি ক্রেতা জলিল জানালেন, ঈদ সামনে রেখে প্রতিকেজি মুরগিতে ২০ টাকা দাম বেশি রাখা হচ্ছে। বেড়েছে গরুর মাংসের দামও। দুর্বল বাজার মনিটরিংয়ের কারণে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দরদাম নির্ধারণ করতে পারছেন। আর এতে ঠকছেন সাধারণ ভোক্তারা।

চিনির বাজারে অস্থিরতা ॥ রোজার শুরুতে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঈদের আগে চিনির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীতে খুচরায় প্রতিকেজি চিনির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। ঢাকায় এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি চিনি ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ঢাকার বাইরেও কয়েকটি জেলায় একই দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা পরস্পরের ওপর দায় চাপাচ্ছে। কিন্তু এই তিন পক্ষের চক্করে পড়ে বাড়তি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কাওরান বাজারে গিয়ে কয়েকটি পাইকারি দোকানে খোঁজ নিয়ে চিনির সঙ্কট স্পষ্ট হয়। সোনালী ট্রেডার্স নামের একটি দোকানে গত তিনদিন ধরে চিনি নেই। দোকানের কর্মচারীরা জানান, মিল গেটে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাদের ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। সেজন্য অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে। কিন্তু চিনি মিলছে না। আল আমিন ট্রেডার্স নামের এক দোকানের বিক্রয়কর্মী জানান, বেশ কিছু দিন ধরে সিটি গ্রুপ কিংবা মেঘনা গ্রুপের চিনি পাচ্ছেন না তারা। বাধ্য হয়ে দুই দিন আগে নরসিংদীর দেশবন্ধু চিনি কল থেকে একশ বস্তা চিনি এনেছেন। প্রতি বস্তার দাম পড়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই ॥ ঈদ উৎসবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সেমাই বিক্রি বেড়েছে। এক সময় অলিগলিতে খোলা সেমাইয়ের রমরমা বাণিজ্য হলেও এখন সেইদিন নেই। কদর বাড়ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত পণ্যের। অবশ্য আকর্ষণীয় মোড়কের এসব পণ্যের গুণগত মান নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগও কম নয়। খোল সেমাইয়ের বাজার দখল করেছে বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই। মুদি দোকান থেকে সুপারস্টোর সবখানেই ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের জয়জয়কার। প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি হচ্ছে ২০০ গ্রামের প্যাকেট। লাচ্ছা সেমাইয়ের মধ্যে হাইওয়ে, ফু-ওয়াং, বিডি ফুড, বনফুল, ফুলকলি, কুলসন, প্রাণ, দ্য বেস্ট, কিষোয়ান, মধুবন, লেজেন্ড, রসমেলা, জনতা, রহমান, স্টার লাইন, পুষ্টি, ডায়মন্ড, আকাশ প্রভৃতি বিক্রি হচ্ছে। বেশির ভাগ প্যাকেটে দাম লেখা ৩২-৩৫ টাকা। পাঁচ প্যাকেট নিলে দাম কিছুটা কম নেন খুচরা দোকানিরা।