মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

আল বিদা মাহে রমজান

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৬

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ আজ পবিত্র মাহে রমজানের ২৮তম দিবস, সোমবার। ২/১ দিনের মাথায় শাওয়ালের চাঁদ, ঈদের হাসি ইনশাআল্লাহ। সিয়ামের মাস ও ঈদ-উল-ফিতর দুটোই ইবাদত প্রধান। মাহে রমজান যেভাবে রোজা, তারাবিহ তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, যাকাত প্রভৃতির মাধ্যমে মুসলমানদের একটি উন্নততর মুখলেস জাতিতে পরিণত করার কোশেশ চালিয়েছে ঈদ-উল-ফিতর সে কোশেশের একটি সামগ্রিক বহির্প্রকাশ। তাই মুসলমানদের ঈদ মানে নিছক আনন্দ নয়: এটি ইবাদত নির্ভর আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের এক আনন্দঘন শোকরানা দিবস। আর তারই নমুনা হচ্ছে সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা প্রদানের বিধান।

বস্তুত ফিতরা দান রমজান মাসের একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত ও দায়িত্ব। রোজা ও নামাজ মুসলমানদের দৈহিক ইবাদতের অন্তর্গত, হজ হলো দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত। আর যাকাত, ফিতরা দান হলো আর্থিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। রমজানের পূর্ণতা ও সিয়াম সাধনায় তাওফিক দানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আল্লাহর নামে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতে হয়। এ মাসের ইবাদত বন্দেগীতে আমাদের অনিচ্ছাকৃত যেসব ভুলত্রুটি হয়েছে তা পুষিয়ে নেয়ার জন্য কাফ্ফারাস্বরূপ শরীয়তে এ ফিতরা দান ওয়াজিব হয়েছে।

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দিন সকালে যাদের কাছে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ টাকা অথবা সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সমপরিমাণ টাকা কিংবা অনাবশ্যক আসবাবপত্র থাকে এবং উক্ত ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত না হয়, তার ওপর ফিতরা দান ওয়াজিব হয়ে পড়ে। নিজের এবং নাবালক সন্তানদের ফিতরা আদায় করতে হয়। মিসকিন, ঋণী ব্যক্তি কিংবা মুসাফিরকে ফিতরা দেয়া যায়। গরিব আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করা উত্তম। একজন প্রার্থীকে কয়েকটি ফিতরা কিংবা একজনের ফিতরা কয়েকজন মিসকিনকে দেয়া দুরস্ত আছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোন অভাবী প্রার্থীর বিশেষ উপকার ও কল্যাণের দিকটি বিবেচনায় আনা উচিত।

সদকায়ে ফিতর ঈদের নামাজের পূর্বেই আদায় করতে হয়। অবশ্য কেউ যদি এটি ঈদের দিন আদায় করতে অপরাগ হয়, পরে দিলেও আদায় হবে। আবার কেউ যদি ঈদের দিনের পূর্বেই এটি আদায় করে ঝামেলামুক্ত হতে চায় তাও দুরস্ত আছে।

আসলে রমজানের শুরুতে এবং শেষ পর্যায়ে সামর্থ্যবানদের উচিত দান-সদকা, যাকাত ফিতরা দানে অত্যধিক উদার ও রহমদিল হওয়া। এ সময় ধনীদের হাতে বিভিন্ন খাত হতে পয়সা আসে, পক্ষান্তরে অভাবীদের অভাবের মাত্রা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতেই ধনিক শ্রেণীর উদ্দেশে নজরুল বলেছিলেন :

‘বুক খালি করে আপনাদের আজ দাও যাকাত

করো না হিসাবী আজ হিসাবের কর্ণপাত

একদিন করো ভুল হিসাব...।’

সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদি:) মদীনার সেই বরকতময় সমাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে খুবই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ একটি কথা বলেছেন; এমন একটি জামানা দেখেছি, যখন কোন ব্যক্তি নিজেকে আপন সম্পদের ওপর অন্য মুসলমান ভাইয়ের চেয়ে বেশি হকদার মনে করত না। (বুখারী)। আসুন আমরা মাহে রমজানের ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে সমাজের সর্বস্তরে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের জয়গান গেয়ে যাই।

প্রকাশিত : ৪ জুলাই ২০১৬

০৪/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: