২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

শীঘ্রই উচ্চ পর্যায়ের জাপানী প্রতিনিধি দল আসছে ঢাকায়


কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে উচ্চ পর্যায়ের জাপানী প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্রই ঢাকা আসবে। এছাড়া জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারা ও পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক রবিবার হলি আর্টিজান রেস্তরাঁ পরিদর্শন করেছেন। নিহত সাত জাপানী নাগরিকের ছয়জনই ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষক ছিলেন। আর নিহত জাপানীদের মরদেহ নেয়ার জন্য তাদের স্বজনরা রবিবার রাতে ঢাকায় এসেছেন।

গুলশানে জঙ্গী হামলার ঘটনায় বিদেশী বিশ নাগরিকের মধ্যে সাতজনই জাপানী। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারা রবিবার ঢাকায় এসেছেন। তিনি ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি হলি আর্টিজান রেস্তরাঁ পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাপানী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত অভিহিত করে বলেন, তাদের শেকড় খুঁজে বের করা হবে। কারা তাদের অস্ত্র-বিস্ফোরক দিচ্ছে তাও খুঁজে বের করা হবে। গুলশানে হামলার ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় জাপানের প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

জাপানী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হলি আর্টিজান পরিদর্শন ॥ জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক যৌথভাবে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁ পরিদর্শন করেছেন। রবিবার দুপুরে তারা এই রেস্তরাঁ পরিদর্শন করেন।

সূত্র জানায়, জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সেইজি কিহারা ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও স্বরাষ্ট্র সচিব মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় তারা সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিমন্ত্রী আজ সোমবার টোকিও ফিরবেন বলে জানা গেছে।

জাপানী দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকায় সাত জাপানী নিহত হওয়ার ঘটনায় জাপান গভীর শোকাহত। এ ঘটনা আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য জাপানের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দিতেও প্রস্তুত জাপান।

নিহত সাত জাপানীর মরদেহ দ্রুত দেশে নিয়ে যেতে চায় বলেও জানিয়েছে জাপান। এজন্য একটি বিশেষ বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে নিহত জাপানীদের মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য রবিবার রাতে ঢাকায় এসেছেন তাদের স্বজনরা। রাত দশটার দিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকা আসেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পরে তাদের মরদেহ স্ব স্ব দেশে পাঠানো হবে।

সাত জাপানী ছিলেন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষক ॥ ঢাকার গুলশানে ক্যাফেতে জঙ্গী হামলায় নিহত সাত জাপানীর মধ্যে ছয়জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রবিবার ঈদ সামনে রেখে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের বলেন, নিহত ছয় নাগরিক মেট্রোরেল রুট এক এবং মেট্রোরেল রুট পাঁচ প্রকল্পের সমীক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মেট্রোরেল প্রকল্পে কোন প্রভাব পড়বে না। গুলশানের হামলা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের একটি অংশ-এটা জাপান সরকারও জানে। পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে রবিবার জাইকার প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে পৌঁছেছে বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

নিহত ওই সাত জাপানী ঢাকায় জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাÑ জাইকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও দুজন নারী। টোকিওভিত্তিক তিনটি পরামর্শক কোম্পানিতে কর্মরত ওই সাত জন একসঙ্গে ওই রেস্তরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন বলে জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশিহিদে সুগার বরাত দিয়ে আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে নিহতের ছবি ও জিনিসপত্র দেখে ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের শনাক্ত করেছেন। নিহত সাত জাপানী হলেন কোইও ওগাসাওয়ারা (কাতাহিরা এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল), হিরোশি তানাকা (ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল), নোবুহিরো কুরোসাকি (ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল) হিদেকি হাশিমতো, (ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল), ওকামুরা মাকোতো (আলমেক করপ), ইউকো সাকাই (আলমেক করপ) ও শিমোদায়রা রুই (আলমেক করপ)।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে গুলশান দুই নম্বরের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁ হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী জঙ্গী, জিম্মি হন দেশী বিদেশী অন্তত ৩৩ জন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্র বাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানী ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশী, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল। নিহত সাত জাপানীর মধ্যে ছয়জন মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষা কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ওই ক্যাফেতে ছিলেন আরও একজন, যাকে পরে উদ্ধার করা হয়। এর আগে রাতে রেস্তরাঁয় হামলার পরপরই সেখানে আটকেপড়াদের উদ্ধারে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দীন হামলাকারীদের বোমার স্পিøন্টারে নিহত হন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: