২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভিড় নেই বাস টার্মিনাল রেলস্টেশনে- ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিড়ম্বনা ছাড়াই চলছে রাজধানীর মানুষের ঈদযাত্রা। বৃহস্পতিবার অফিস সেরেই সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ চলে গেছেন। এরপর আরও দুদিনে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। জল স্থল পথের কোথাও তেমন ভিড় দেখা যায়নি রবিবার। এ দিন সড়ক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নিলে র‌্যাবের হাতে তুলে দেয়া হবে।

রবিবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের পথের অবস্থা দেখতে সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী। তিনি এ সময় কয়েকটি কাউন্টারে ঘুরে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে র‌্যাবের হাতে তুলে দেব।

এদিকে রবিবার ঈদযাত্রায় বাদসাধে বৃষ্টি। রবিবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় রাজধানীতে তীব্র যানজট শুরু হয়। এতে ঈদযাত্রীদের ঢাকা ছাড়তে অনেক সময় লেগে যায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, রাস্তার অবস্থা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে ভাল। মহাসড়কে ঠিক গতিতেই চলছে যানবাহন। রাস্তার অবস্থা যথেষ্ট ভাল। দুটি প্রধান সড়ক চারলেন হয়ে গেছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ যাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক হবে। এরই মধ্যে অনেকে বাড়ি চলে যাওয়ায় গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলছে। মন্ত্রী বলেন, রোভার স্কাউট সদস্যরা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্বে রয়েছে। তারা কমিটমেন্ট নিয়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে। যেখানেই সমস্যা দেখছে, সেখানেই সমাধানে ছেলে-মেয়েরা ঈগলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ায় সায়েদাবাদে দু’টি কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিয়ম না মানলে আমরা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। রমজানে বেশি ভাড়া নিলে রোজাও হবে না- ঈদও হবে না। যারা কষ্ট করে রোজা রাখে, তাদের কষ্ট দিলে আল্লাহ নিজেও কষ্ট পান। কাজেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায় মালিক ও চালকদের ওপর বর্তাবে। এ দায় কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না।

রবিবার কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় ঝামেলাহীন ঈদযাত্রায় যাত্রীরা বেশ খুশি। যাত্রীর বাড়তি চাপ না থাকায় চোখে পড়ার মতো কোন ভোগান্তি ছিল না। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া জামালপুরের মোহনগঞ্জগামী মহুয়া, চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, ঈদ উপলক্ষে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী ঈদ স্পেশাল ট্রেন, রংপুর এক্সপ্রেস, আখাউড়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনে যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক অন্য সময়ের মতো। সব ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, অন্য বছরের চেয়ে এ বছর ব্যবস্থাপনায় অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে প্রথম থেকেই টিকেট নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে হয়নি। আমরা সবাইকে টিকেট দিতে পেরেছি। এখন তিন স্তরের নিরাপত্তা দিয়ে সব যাত্রীকে সেবা দেয়া হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি ট্রেনে আলাদা বগি সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষ ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। রেলওয়ের পুলিশের পাশাপাশি আনসার, র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ দল নিরাপত্তা দিচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্যও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঈদ কেন্দ্র করে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং শিমুলিয়া-কাউড়াকান্দি ফেরিঘাটে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। ঘাটের দুই পাশেই বাড়তি ভাড়া ও পরিবহন সঙ্কটসহ নানা অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। ঢাকা থেকে ঘাট পর্যন্ত পৌঁছানো বেশ সহজ। তবে ঘাট পার হয়ে গন্তব্যে যেতে ভাল পরিবহনের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে কাওড়াকান্দি থেকে ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস বরিশাল এবং খুলনা রুটে চলাচল করে। অতিরিক্ত ভাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তা বড় ইস্যু হলেও সে বিষয়ে নীরব রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

মাওয়া-কাউড়াকান্দি রুটে লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলোতেও স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তি যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লঞ্চ ও স্পিডবোটে আসা যাত্রীদের দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে দীর্ঘ সময় পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন বলেন, এবার এই রুটে ১৭ ফেরি, ৫৮ লঞ্চসহ দেড় শতাধিক স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ফেরিতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন পারাপার সম্ভব হবে। এছাড়াও নদী উত্তাল থাকলে যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে ফেরিতে যাত্রী পারাপার করা হবে।

রবিবার সদরঘাটেও যাত্রীদের ভিড় ছিল। সকালে এবং সন্ধ্যায় নির্ধারিত সূচী মেনেই লঞ্চগুলো ছেড়ে গেছে। নির্বিঘœ করতে বিআইডব্লিটিএ এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর কমিটি গঠন করেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, ঈদের সময় নৌযানকে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ করা হবে।