২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাইবার নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠনের উদ্যোগ


ফিরোজ মান্নান ॥ সরকারের পাশাপাশি দেশে সাইবার নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছে বাগসবিডি। দেশী-বিদেশী একশ’ জনের বেশি সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্টের তত্ত্বাবধানে দেশের সরকারী-বেসরকারী সব ধরনের সাইটের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে প্রতিষ্ঠানটি। দেশে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে এই প্রথম কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। সাইবার নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এই প্রতিষ্ঠানটি সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার হামলা থেকে সরকারী বিভিন্ন সাইটকে রক্ষা করবে। এর বাইরে নাগরিকদেরও সাইবার নিরাপত্তা দেবে।

বাগসবিডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. তৌহিদ ভুঁইয়া বলেন, দেশে সরকারী হিসাবমতে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। গ্রাহকদের চাহিদার দিক বিবেচনা করে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই অনলাইনে লেনদেন করার ব্যবস্থাও চালু করার চেষ্টা করছে। দেশে সাইবার ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এটা খুবই চিন্তার বিষয়। এখান থেকে রক্ষা পেতে হলে সাইবার নিরাপত্তার ওপর জোর দিতে হবে। সাইবার নিরাপত্তার জন্য এখন কাজ শুরু না করলে ভবিষ্যতে দেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। সাইবার হামলায় যেকোন প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের লোকসান হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেই অনেক বিনিয়োগকারী প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে ভয় পাচ্ছেন। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং নিরাপত্তা সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই ভবিষ্যতে সাইবার হামলার শিকার হতে পারে। সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার পরেও ‘সাইবার হামলা’ ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপান্তরে একটি বড় হুমকি হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে। সাইবার অপরাধীরা সহজেই যেকোন প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক উপাত্ত, অভ্যন্তরীণ তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। এমনকি সরকারী প্রয়োজনীয় তথ্য এবং নথি চুরি করে প্রকাশ করে দিতে পারে। বিগত কয়েক বছরে সাইবার ঝুঁকির কারণে দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা সকলেই জানে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে দেশের সাইবার নিরাপত্তাকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে কাজ করছে বাগসবিডি। বাগসবিডি লিমিটেডের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা (সিটিও) তানজিলা ফারাহ বলেন, বাগসবিডি অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করে এবং সমাধান দেয়ার লক্ষ্যে ফ্রি রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ করে দিচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইট বাগসবিডির সাইবার সিকিউরিটি টিম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে এবং ওয়েবসাইটের দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে সমস্যার সমাধানসহ কোম্পানি ম্যানেজমেন্টকে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে। বাগসবিডি থেকে সেবা পাওয়ার আগে গ্রাহকদের কোন অর্থ দিতে হবে না। রেজিস্ট্রেশনও বিনামূল্যে করতে পারবে। শুধু ওয়েবসাইটের ত্রুটির ওপর ভিত্তি করে গ্রাহককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে সাইবার নিরাপত্তা সেবা নেয়ার প্রথম শর্ত হিসাবে গ্রাহককে তাদের মৌলিক তথ্য বা অবকাঠামোগত তথ্য প্রদান করতে হবে। গ্রাহকরা যতদিন নিবন্ধিত থাকবেন তত দিন সেবা দেবে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তার জন্য গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠন করা হবে। এই সংস্থা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সাইবার অপরাধের ওপর নজরদারি জোরদার, অপরাধ তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা নেবে। সাইবার অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে বিটিআরসি আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয় করে কাজ করার সার্বিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সাইবার অপরাধের ওপর নজরদারি জোরদার, সংঘটিত ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করবে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অপরাধ দমন দেশের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও দফতরের সমন্বয়ে এই কেন্দ্রীয় সংস্থা গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বিটিআরসি। বিটিআরসি বিদ্যমান সামর্থ্য ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার অপরাধীদের শনাক্তকরণসহ পুলিশের তদন্ত কাজে সহায়তার জন্য কারিগরি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইলে প্রতিনিয়ত অনাক্সিক্ষত কল বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থা ভূমিকা পালন করবে। দেশের মানুষের ভীতি দূর করতেই নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করা হবে। দেশ বিদেশের ভেতর থেকে যে কোন ক্যারিয়ার থেকেই কল করলে অবশ্যই ওই সংস্থা মনিটর করবে। এই সংস্থা অল্পদিনের মধ্যে তাদের কাজ শুরু করবে।