২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়!


১ জুলাই শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ঢাকার গুলশানে কী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশের মাটিতে এত বড় ঘটনা এই প্রথম। এমন একটি ঘটনা অনেক দিন থেকে অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন এবং ভবিষ্যতে আরও হতে পারে- সেটাও মানুষের মনের ভেতর রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে অসংখ্য মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। আমি মনে করি, তাদের এই মতামতগুলো সাধারণ মানুষের মনের কথা, যারা এই দেশের নাগরিক এবং এই মতামতগুলোকে ঠিকমতো বিবেচনায় আনলে বাংলাদেশ যে একটি জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, তার সমাধান হলেও হতে পারে।

এই মতামতগুলো আমার ফেসবুক ফিড থেকে নেয়া। আমি কোন দল ও মতের পক্ষ নেইনি। যে কথাগুলো যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে, তাদের কথাগুলো এখানে সঙ্কলন করে দিয়েছি মাত্র। তবে সবাইকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ এই গ্রহের বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপ নয়। এই গ্রহে এখন অনেক দেশকেই আনস্ট্যাবল করার চেষ্টা চলছে। আমরাও সেই পৃথিবীর অংশ। আমাদেরও শিখতে হবে এই সঙ্কটময় সময় কিভাবে পার করতে হয়। তাই এটাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে, বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। চলুন দেখা যাক অসংখ্য মানুষের ভিড়ে কিছু মানুষের প্রতিক্রিয়া।

চন্দন মজুমদার

প্রতি মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে দীর্ঘদিন থেকে গাড়ি চেক করে। চেক করার কারণে দীর্ঘ গাড়ির লাইন পড়ে যায়- রাস্তায় সারাদিনই প্রায় জ্যাম লেগে থাকে। মানুষ গালাগাল করলেও নিরাপত্তার স্বার্থে মেনে নেয়। শুধু তাই নয়, ডিসিসি (উত্তর) কর্তৃক প্রায় পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে।

আমার প্রশ্ন হলো, সিসি ক্যামেরার নজরদারি ও এত কড়াকড়ির পর অত্র এলাকায় অস্ত্র/বোমাসহ সন্ত্রাসী/জঙ্গী কিভাবে প্রবেশ করল? এ এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাদের জবাবদিহিতার আওতায় কি আনা হবে না?

রেজওয়ানুল হক

আপনি ইংরেজী জানেন, আপনার অনেক জ্ঞান, খুবই ভাল কথা। আপনার সেই জ্ঞান দয়া করে দেশবিরোধী স্ট্যাটাস দিয়ে প্রকাশ করবেন না। কিছু লেখা কিংবা শেয়ার করার আগে অন্তত একবার ভেবে দেখুন আপনার ওই স্ট্যাটাস কিংবা শেয়ার করার কারণে দেশের ক্ষতি হতে পারে কিনা। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা আর দেশবিরোধী স্ট্যাটাস দেয়া দুটি কিন্তু ভিন্ন ব্যাপার।

পারভেজ আলম

সরকারপন্থী অথবা সরকারবিরোধী, বাংলাদেশে দুই পক্ষের বহু মানুষই এখনও ডিনায়ালের মধ্যে আছে। তাদের ধারণা আইসিস না, এর পেছনে অন্য কিছু আছে।

আমাক নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা আগেই ‘সাইট ইন্টেলিজেন্সে’ প্রকাশিত হয়েছিল যে বিশজনকে হত্যা করা হয়েছে। তা সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরে এই সাইটের সঙ্গে ইসরাইল কানেকশন ও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব খোঁজা ব্যক্তিরাও মোসাদুজ্জামান খানের পর্যায়ভুক্ত হলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলার পেছনে দায়ী ‘ইসলামিক স্টেট’, এই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ খুবই কম। ইসলাম ও রাষ্ট্র এই দুই শব্দ মাথায় গেঁথে নেন, বোঝার চেষ্টা করেন কোন্টা কি। কিভাবে তা ইরাক-সিরিয়ায় এক হলো, আর কিভাবে তা বাংলাদেশে আসল। ডিনায়াল থেকে বের হয়ে আসেন, নইলে বাংলাদেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে।

এহসান রহমান জিয়া

মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের যে একজন ছাত্রকে সম্ভাব্য টেররিস্ট হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে টিভিতে বলা হচ্ছে, তার সঠিক ইন্টারোগেশন দরকার। সে এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার যথার্থ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার।

তার পূর্বে, আমরা কি আশা করতে পারি যে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ, র‌্যাব আজ কাল পরশু মধ্যরাতে কোন জঙ্গী খোঁজার অভিযানে যাবে না এবং ওইখানে অপেক্ষারত আরেক গ্রুপ সশস্ত্র জঙ্গীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ের কোন ঘটনা ঘটবে না এবং এরপর সেই সব জঙ্গী পালিয়ে যাবে না এবং শুধু গুলশানের ঘটনায় আটক সম্ভাব্য জঙ্গীর বুলেটবিদ্ধ দেহ মাটিতে পড়ে থাকবে না! এই নির্মম ঘটনার পেছনের সত্য জানাটা সবার জন্যই খুবই দরকার! দেশের অতি নিকট ভবিষ্যত এর ওপর অনেকখানিই নির্ভর করবে।

মাকসুদা আজিজ

গত শুক্রবার অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অপরাধ বলতে তারা একটা জায়গায় খেতে গিয়েছিল, সেখানে কর্মরত ছিল অথবা জিম্মিদের রক্ষা করতে গিয়েছিল!

যারা শুক্রবারের পুরো বিষয়টি রগরগে করছিলেন তাদের জন্য উদ্ধারকারী বাহিনীর কতটা সমস্যা হয়েছে এটা কি তারা জানেন? ফারজানা রূপার সেই সোর্স যে বাথরুমে বসে আপডেট দিচ্ছিলেন তার কী হয়েছে এটাও রূপা আপার মুখ থেকেই জানতে চাই। এত সিনিয়র সাংবাদিক যদি এই সামান্য বিষয় না বুঝে আমরা চুনোপুঁটিরা শিখব কী?

সবশেষে একটা খুব জরুরী বিষয় বলতে চাই। সরকারের এখন সময় এসেছে ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম নিয়ে গবেষণা করা। ধর্মীয় অপব্যাখ্যা বন্ধ করতে হলে এটা খুব জরুরী।

পল্লব মোহায়মেন

সিএনএন, আলজাজিরা, এনডিটিভি, বিবিসি লাইভ দেখাইতেছ... সিএনএন আর্টিজানের ভেতরের থ্রিডি ওয়ার্ক থ্রু দেখাইয়া দিল... তাহারা বিশ্লেষণও করিতেছে। উহাদের সেনসিবিলিটি, প্রফেশনালিজম লইয়া আমাদের মনে বিন্দু মাত্রেক প্রশ্নের উদয় হইতেছে না। আর আমাদের চ্যানেলগুলাকে গানবাজনা আর স্ক্রল চালাইতে হইতেছে... অনলাইনেও আপডেট না দেয়ার অনুরোধ...

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা পারিজাতপ্রিয় এই বদ্বীপকে জঙ্গী রাষ্ট্র প্রমাণ করিয়াই ছাড়িল...

বদরুদ্দোজা তুহিন

যারা সাংবাদিকদের নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কি আজ দুপুর পর্যন্ত আইএসপিআর-এর সংবাদ সম্মেলনের আগ পর্যন্ত টেলিভিশন দেখা থেকে বিরত ছিলেন?

কারণ, আপনাদের তো অফিসিয়াল বক্তব্য ছাড়া অগ্রিম নিউজ জানার কোন আগ্রহ থাকার কথা নয়। জীবন হাতে নিয়ে সাংবাদিকরা হুদাই নাম কামাতে বা টেলিভিশনের টিআরপি বাড়াতে সারাটা সময় সেখানে দৌড়ে বেড়িয়েছেন...!

শাকুর মজিদ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যেমন দিয়েছেন, তেমনি নিতেও পারেন। যে সকল টেলিভিশন দিয়েছেন, আমাদের জন্য তা সেচুরেটেড। শুনছি, আরও নাকি আসছে। আমরা রিমোট ঘুরাতে ঘুরাতে ক্লান্ত, আর টিভিগুলো বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য পরিশ্রান্ত। দর্শক আর টিভি মালিক দু’পক্ষকে বাঁচানোর জন্য এদের সংখ্যা অনুগ্রহ করে সীমিত করুন। তাহলে তারা ভাল, নির্ভরযোগ্য খবর আর অনুষ্ঠান দিতে পারবে। আসল পেশাদার লোকেরা কাজ দেখানোর সুযোগ পাবে। আর আমাদের টেলিভিশন পর্দাগুলো আবর্জনামুক্ত থাকবে।

আল মামুন

এরপর থেকে মানুষগুলো শুধু লাশের সংখ্যা হয়ে উঠবে। গুলশানের ঘটনার গ্লোবাল ফ্রেমিং করেছে সিএনএন। আর বাংলাদেশের মিডিয়া সেটা অনুসরণ করেছে- বিস্ময়করভাবে। এটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সিএনএন-এর জন্ম প্রথম ইরাক যুদ্ধের সময়। সে সময় রণাঙ্গনের সকল সংবাদ সম্প্রচারের একচেটিয়া অধিকার দেয়া হয়েছিল সিএনএনকে। ‘পুল’ সাংবাদিকদের মাধ্যমে সিএনএন থেকে সেগুলো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ত। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের যে বোঝাপড়া গড়ে উঠেছিল- তা ঘটেছিল সিএনএন মারফতে। এই ইতিহাস মনে রাখলে গতরাতের ঘটনার তাৎপর্য বোঝা সম্ভব।

গত রাতের ঘটনা প্রমাণ করে, আমরা যুদ্ধ-অর্থনীতির কালে প্রবেশ করেছি, যদিও এর আভাস বেশ কিছুদিন থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। কিছুদিন থেকে চলমান ব্যক্তি খুন থেকে গত রাতের দলগত খুন চরিত্রগতভাবেই আলাদা। যে মানচিত্রজুড়ে ‘ওয়ার অন টেরর’ চলছিল তার সঙ্গে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়ে গেল।

মোস্তফা সেলিম

পুলিশকে গালি দেয়া এক প্রকার ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অথচ বিপদে তারাই আমাদের ভরসা। কাল পুলিশের দুই কর্মকর্তা জীবন দিয়ে প্রমাণ করলেন, তারা আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে জীবন দিতে জানেন। আমার এক পুলিশ সুপার বন্ধু প্রায়ই মনে করিয়ে দেন, তারা রাত জাগেন বলেই আমরা রাতে নিরাপদে ঘুমাতে পারি।

মনসুর রাশেদ অংকুর

দম বন্ধ করে বসে থাক। একটু আওয়াজ করলেই সন্ত্রাসীদের ভাই ব্রাদার বানায়া দেব। একদম চুপ থাকা সম্ভব তো নয়, তাই মাঝে মাঝে, ‘আমার বিশ্বাস হয় না’, ‘এইটাই কি আমাদের ঢাকা শহর’, ‘এই শহরেই কি আমি বড় হইছি’, ‘সব এমন কেন হইল’, ‘আমরা কি দোষ করেছিলাম’ ইত্যাদি ইত্যাদি লেইখা স্টেস্টাস দিবি! সাবধান তুই কিন্তু মানুষ, অমানুষের সঙ্গে লড়াই করতে যাইস না, পারবি না! আল্লাহ্ই একমাত্র ভরসা!!

এ এম ইস্তিয়াক সারোয়ার

এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও এক শ্রেণীর মানুষ ব্লেম গেমে ব্যস্ত, দলকানা হয়ে কথা বলে দেখে খারাপ লাগে, সব কিছুর মধ্যে এক রসুনের... খুঁজে পাই আমরা। আমরা জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ কোনদিন ছিলাম না, হবও না ইহ জিন্দেগিতেও। এখনও হয়ত অল্পবিস্তর সময় বাকি আছে নইলে আমরা নেক্সট জেনারেশনের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ দিয়ে যেতে পারব না।

সেইসঙ্গে এটা মাথায় ঢোকে না যে রোজার দিনে তারাবির নামাজ বাদ দিয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে মানুষ মেরে ইসলাম রক্ষা করা হয় কিভাবে!

তাইমুর ফারুক তুষার

ফ্রান্সে হামলা হলো, ইস্তানবুুলে হামলা হলো, আমেরিকায় হামলা হলো, আরও কত দেশে হামলা হলো। তোমরা ফেসবুকে মাতম করলে, শোক জানালে নিহতদের জন্য। তোমরা তীব্র ক্ষোভ-ঘৃণা জানালে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে। আমাদের এখানে হামলা হলো, তোমরা ঠিকমতো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু করলে- শেখ হাসিনা এই, শেখ হাসিনা সেই... আগেই বলছিলাম... জানাই ছিল... বা বা বা।

নৃশংস মৃত্যু আর রক্তের স্রোতের মাঝে দাঁড়িয়ে তোমাদের এই ব্লেম গেম! ধন্য তোমাদের সুশীলতা...

আব্দুল্লাহ আল শাফি

ধর্মের খ-িত অংশ আর অপব্যাখ্যা তোতা-ময়নার মতো শুনিয়ে যেসব সেমি রোবট তৈরি করা হচ্ছে এবং ধর্ম নিয়ে মকারি করে যে ‘হেটারস সম্প্রদায়’ তৈরি করা হচ্ছে... তা বুমেরাং হয়ে উঠছে আমাদের জন্য, সমাজের জন্য ও দেশের জন্য।

আজ থেকে ২০ বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না। কেন এমন হলো, তা বিশ্লেষণ করছে অনেকেই... আবার অনেক ‘দলদাস’ তেল আর অপব্যাখ্যায় বিভ্রান্ত করছে... শুধু ‘গদি’ আর ‘যদি-কিন্তু’ এর সরল অঙ্কে আটকে না থেকে, এমন পরিবেশ তৈরি করা উচিত যাতে করে রক্ষা পায় সমাজ দেশ।

মামুন কাজী

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জাতির পিতার হত্যার বিচার করেছেন- এটা আমাদের সবার চাওয়া ছিল; আপনি শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রায় শেষ করে এনেছেন- এটাও আমাদের প্রাণের দাবি ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে ব্লগারদের ধর্মানুভূতিতে আঘাতের অভিযুক্ত করে, ৫৭ ধারা জারি করে, হেফাজত তোষণ করে, মদিনা সনদ অনুসরণ করে আমাদের উপহার দিয়েছেন এমন এক বাংলাদেশ- যেখানে মুক্তচিন্তার আর ঠাঁই নেই, যেখানে উগ্র মুসলমান-ভিন্ন অন্য কেউই আর নিরাপদ নয়।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে শুধু জামায়াত-বিএনপিকে দোষারোপ বাদ দিয়ে একটা বিষয় অন্তত স্পষ্ট করে বলবেন- দেশে ‘জরুরী অবস্থা’ কি এখনই জারি হবে নাকি মার্কিন নৌ-সেনাবাহিনী এসে বোমা মারা শুরু করার পরে জারি হবে?

অনুপম হোসেন পূর্ণম

সোহেল তাজের মতো কাউকে অন্তত দু’বছর স্বাধীনভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুঝিয়ে দিয়ে কি একটা চেষ্টা করা যায় না?

ফারুক ওয়াসিফ

মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পটা এতদিন গরুর দিক থেকে পড়েছেন। এবার বাঘের দিক থেকে পড়ুন তো! বাঘ দেখল দায়িত্বপ্রাপ্ত রাখাল একে তো শুধু মিথ্যা বলে, তার ওপর পাহারার কাজেও ফাঁকি মারে। বাঘ জানল, প্রহরীকে যখন কেউ বিশ্বাস করে না, তখন তাকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বাঘ এই মওকায় নিরাপদে চড়াও হলো জনপদে।

এই গল্পের মোরাল হলো: মিথ্যাবাদী রাখালরা আসলে বাঘকেই সাহায্য করে জেনে বা না- জেনে।

শরিফুল হাসান

রাতভর গুলশানে স্বজনদের আহাজারি, উদ্বেগ-আতঙ্ক আর কান্না দেখেছি। তাদের সান্ত¡না দিতে গিয়ে নিজে কেঁদেছি। দেখেছি সেনাবাহিনী, পুলিশ, সোয়াটসহ সবার সম্মিলিত অভিযান। ভোরের আলো ফোটার পর অবিরত গুলি আর বিস্ফোরণে কানপাতা দায় ছিল। এরপর আবার কান্না। লাশেদের সারি। এখন পৌনে একটায় ঘুমাতে যাচ্ছি একরাশ দুঃস্বপ্ন নিয়ে। বহুদিন আগে এই ফেসবুকেই লিখেছিলাম বাংলাদেশ পাকিস্তান সিরিয়ার পথেই যাচ্ছে। বোধহয় এর চূড়ান্ত রূপ দেখলাম। এ এক ভয়ঙ্কর হতাশার বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে আর কিছু মাথায় আসছে না। জানি না বাংলাদেশের গন্তব্য কোথায়, পরিণতি কী? এসি রবিউল, ওসি সালাউদ্দিনসহ নিহত সবার প্রতি শ্রদ্ধা। আরও খারাপ কিছু হওয়ার আগে কী এই জাতির হুঁশ হবে? জানি না। একটাই প্রার্থনা ভাল থাক প্রিয় স্বদেশ।

দিপক চৌধুরী

আজকে ঢাকাতে জাপানের কিউশু ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসারের (আমার মাস্টার্সের সুপারভাইজার) আসার কথা ছিল। প্রফেসারের এ্যাসাইনমেন্ট ছিল জাইকার একটি প্রজেক্টের অগ্রগতি দেখা। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য উনাকে মাঝপথ ব্যাঙ্কক থেকে ফেরত চলে যেতে হলো। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। উনি বার বার আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করছিলেন কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় ফেরত যেতে হলো।

আরিফ জেবতিক

কোন গেরিলা এক্টিভিটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ জনসমর্থন ছাড়া বাঁচতে পারে না। সম্প্রতি ফাহিম নামের এক জঙ্গী হাতেনাতে ধরার পরে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’ করে, তখন এই হাতেনাতে ধরা এই প্রমাণিত জঙ্গীর জন্য আমার ফেসবুকের ফিডে ইনিয়ে বিনিয়ে যে আহাজারি দেখেছি, তাতে আগামীর বাংলাদেশের কথা ভাবতে গিয়ে আমি শিউরে শিউরে উঠি। এ কথা অস্বীকার করার কিছু নেই যে, আমরা প্রায় সবাই জঙ্গীরে ডরাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে অত্যন্ত অনাবশ্যকভাবে ‘ওরা খারাপ লেখলে আমারও তো মন কান্দে’ জাতীয় যে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন, সেটি সত্য উচ্চারণ বটে, কিন্তু এটি যে কীভাবে খুনীদের পরবর্তীতে উৎসাহিত করতে পারে সেই হিসাব নিকাশ তিনি করেননি ভাবলেই আশ্চর্য হয়েছি। ৭৫ পূর্ববর্তী সব লক্ষণ স্পষ্ট, ওই সময়ে সমাজতন্ত্রের নামে জবাই হতো, এখন হচ্ছে ধর্মের নামে। এর সঙ্গে বিন্দুমাত্র আপোস করলে সবচেয়ে বেশি মূল্য কিন্তু শেখ হাসিনাকেই দিতে হবে। সুতরাং সাধু সাবধান, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন।

... এটা হচ্ছে বৈশ্বিক একটা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশ নিতে না পারেন, দয়া করে ধুয়া দিয়েন না। এই টিঙটিঙে তালপাতার সেপাই কনস্টেবল, এই অকাট মূর্খ সাংবাদিক, এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ফেসবুকপন্থী মাতম তোলা গুজবপ্রিয় জনগণ- আমাদের হাতে এটুকুই আছে। এ নিয়েই রুখে দাঁড়াতে হবে। এদেরই ঠিকঠাক করে এগুতে হবে আমাদের। হুদাই গুজব, পরস্পরকে দোষারোপ, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার হাউসে জঙ্গীদের পক্ষে কথা বলা- এগুলো দিয়ে আমরা কাকে শক্তিশালী করি, সে কথাটি দয়া করে ভেবে দেখবেন।

করভী মিজান রিভি

ঝষধঁমযঃবৎবফ? জবাই? জাতি হিসেবে আমরা তো দারুণ পর্যায়ে। জবাই দিতে ও সেটা সহ্য করতে ওস্তাদের পর্যায়ে পৌঁছে গেছি প্রায়। নষড়মমবৎং জবাই, ঢ়ৎবধংঃ, যরহফঁ-দের জবাই। আর এখন তো বাসার এলাকায় জবাই। এখানে আমি নিজেও তো থাকতে পারতাম! আমার বাচ্চারা! নিজের রক্তে গড়াগড়ি খেয়ে মরে পড়ে থাকতাম! কার কি যায় আসে/আসত? এ্যাতদিন দূর থেকে বিদেশের মাটিতে এসব দৃশ্য দেখেছি। সন্ত্রাস দমনের হাতিয়ার হিসেবে সরকার ংরস নরড়সবঃৎরপ-কে হধঃরড়হধষ রংংঁব বানায় ফেলল। কি লাভ? নিজে জবাই হওয়ার পর ঃবৎৎড়ৎরংঃ-দের গতিবিধি জানব? সে জন্য ংরস নরড়সবঃৎরপ লাগে? জাগো সরকার। জাগো সবাই। ও ধস ফরংঃৎবংংবফ. অহমৎু. অহফ ফবাধংঃধঃবফ.

প্রিতি ওয়ারেসা

মানুষ মাত্রেই জানি, একটি সেটআপ মাইন্ডকে পরিবর্তন করা কতটা কঠিন কাজ। প্রায়শই শুনি দলে দলে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চেলা-চামুন্ডা, রথী-মহারথী সরকারী দলে ভিড়ছেন। তারা কী মাইন্ডের আগের সেটআপকে একেবারে বিসর্জন দিয়ে আসতে পারছেন! এত সোজা না কিন্তু হিসেব। দলে ভেড়ার উপহার হিসেবে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বিভিন্ন উপহারে সিক্তও হচ্ছেন! আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রশ্ন, অজান্তে নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন না তো! খুব খেয়াল করে!

আহমাদ মোস্তফা কামাল

ঘণ্টাখানেক পর জাতির উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। দেশ এক গভীর ক্রান্তিলগ্নে উপস্থিত। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটু পরই ইফতার, যাওয়ার আগে একটা কথা বলে যাই। যদি দেখেন, ভাষণে নতুন এক দিকনির্দেশনা নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি, জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুর্যোগ মোকাবেলার আহ্বান জানাচ্ছেন, জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিচ্ছেন, সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ধরে নেবেন- বাংলাদেশ থেকে এই সমস্যা নির্মূলের অভিযান শুরু হলো। আর যদি দেখেন, সেই আগের মতোই পুরনো সব প্যাঁচালের চর্বিতচর্বণ করছেন প্রধানমন্ত্রী, যদি দেখেন ব্লেইমগেমের সেই পুরনো খেলাই শুরু করছেন আবার, বুঝে নেবেন- এই সমস্যা সমাধান করতে এখনও আগ্রহী নয় সরকার। সেক্ষেত্রে দেশ তলিয়েই যেতে থাকবে আরও গভীর থেকে গভীরতর অন্ধকারে।

রোহান উদ্দিন ফাহাদ

জঙ্গীর ছবি দেখে ইয়ো সমাজ পেরেশন, একি এরা তো দেখি বয় নেস্কট ডোর টাইপ, পাশের বাসার ভদ্র ছেলেটা কিংবা উপরের ফ্লাটের উচ্ছল ছেলেটার মতোই দেখতে। এমনকি লাজলজ্জার মাথা খেয়ে ইয়ো বালিকাদের জঙ্গীদের উপ্রে ক্রাশ খাওয়ার কমেন্টও দেখলাম।

এরা অন্তঃসারশূন্য এক অদ্ভুত প্রজন্ম। এরা নিজের দেশের ইতিহাস জানে না, চারপাশ নিয়ে এদের কোন মাথাব্যথা থাকে না। এদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে আইস্ক্রিম কিংবা চকোলেট খেতে হয় না, এরা ডেইলি বড় বড় রেস্তরাঁয় হ্যাং আউটে অভ্যস্ত। পারিবারিক শিক্ষা নেই, স্কুল-কলেজেও নৈতিকতা আর মানবিকতা সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন খুব একটা হয় না। এদের বিপথে নেয়া ওয়ান টু-এর ব্যাপার হতে বাধ্য। খুনীদের যে ক’জনের আইডি আসছে, সবাই বাসা থেকে পলাতক ছিল। এদের জঙ্গী হওয়ার আভাস পেয়ে পরিবার কি কি স্টেপ্স নিয়েছিল জানা দরকার।

রূম্পা সাইয়েদা জামান

বিভিন্ন জনের পোস্ট/শেয়ারের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা মতান্তরে না হলেও অন্তত ৩০ দিন নিখোঁজ ছিল। প্রশ্ন হলো- তাদের বাবা-মা কি নিখোঁজ কেস ফাইল করেছিল?

-তাদের মধ্যে এমন কোন আচরণ ছিল কি-না যা বাবা-মা উপেক্ষা করেছে?

- বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন তাদের প্রশ্রয় দিয়েছে কি?

এই প্রশ্নের সঙ্গে আরও কিছু সম্পর্কিত প্রশ্ন চলেই আসে এবং তাই যদি হয়, বাবা-মায়ের উচিত সামনে এসে ছেলেদের পশু হয়ে যাওয়ার পদ্ধতিটা সবার সামনে তুলে ধরা। যদি বাবা-মায়েরা জেনে থাকেন আপনাদের সন্তান হঠাৎ হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যরকম আচরণ করছে তাহলে তাকে ঠিক পথে নিয়ে আসুন। সন্তানের ভাল চাইতে গিয়ে আশকারা দিয়ে তাকে সবার কাছ থেকে লুকাবেন না। একদিন এরা যখন সামনে আসবে আড়াল থেকে তখন দেখা যাবে এরা অন্যের সন্তানকে হত্যা করছে। বাবা-মায়েরা জানেন তো আপনাদের সন্তান কি করছে এখন?

মেহেদী বখত

ঙংঃৎরপয হয়ে থাকলেই সব কিছু আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যাবে না।

পরিশেষে, ‘বৃত্ত’ নামের একজনের মন্তব্য দিয়ে শেষ করি। তিনি লিখেছেনÑ যখন প্রমাণ ছাড়াই একজন মানুষকে নাস্তিক বানানো হলো, আপনারা তখন চুপ করেছিলেন। আপনারা যাচাই করতে যাননি, আসলেই কি সে নাস্তিক। আপনারা বরং এড়িয়ে গিয়েছেন, দরজার খিল আটকে ঘরে ছিলেন, ভেবেছিলেন, নিরাপদেই আছি।

অথচ তখন ক্রমাগত প্রতিবাদ করছিল কিছু লোকজন। আপনারা মোটেও তাদের বিশ্বাস করেননি। তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেননি।

যখন ব্লগারদের এরেস্ট করা হলো, আপনারা হয়ত খুশিই হয়েছিলেন। মনে মনে আনন্দিত হয়েছিলেন। ঠিকই আছে, এদের ধরাটা। অথচ এদের গ্রেফতারকে সমর্থনের মাধ্যমে আপনি হত্যাকারীদের বিজয়ী ঘোষণা করে দিলেন, এটা বুঝতে পারেননি।

যখন ব্লগারদের মারল, তখন আপনারা চুপ ছিলেন। ভেবেছিলেন, ব্লগার মানেই নাস্তিক, মরলে মরছে। আমাদের তো কিছু না। অথচ তখন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো কিছু মানুষ লিখেই যাচ্ছিল এই খুনের প্রতিবাদ করে, তাদের দিকে বিরক্তভরে তাকিয়ে চুপ করে এড়াচ্ছিলেন।

যখন লেখকদের মারল, তখনও আপনারা চুপ ছিলেন। ভেবেছিলেন, লেখকই তো মরতেছে, কি ... লেখে, মরলে মরছে। আমাদের কিছু হবে না। আমরা তো ঠিক আছি। অথচ তখনও কিছু তরুণ, ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠা চুলোয় দিয়ে এসব খুনের প্রতিবাদ করে গিয়েছে। আপনারা এড়িয়ে গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে সেদিন প্রতিবাদ করেননি।

যখন প্রকাশকদের মেরে ফেলল, তখন আপনারা চুপ ছিলেন। কি সব ছাইপাশ ছাপায়, মরবেই তো। আপনারা মেরুদ-হীনের মতো চুপ করে ছিলেন। ভেবেছিলেন, এদের ওপর দিয়েই আপনারা বেঁচে গেলেন। তখনও কিছু বোকা মানুষ প্রতিবাদ করেই গেছে এসব হত্যার। খুবই নির্বোধ মনে হয়েছিল তাদের, এত বোকা হয় মানুষ।

তারপর?

তার আর পর থাকল না। দিনে দুপুরে পুরোহিত, সেবায়েত খুন হতে থাকল। গতকালের ঘটনা একদিনে তৈরি হয়নি এবং এর দায় আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আপনার মেরুদ-হীন সত্তা, আপনার অন্যায় দেখে চুপ থাকা এটার দায় এড়াতে পারবেন না।

কারণ আপনার চুপ করে থাকাটাই ছিল আজকের সকল ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলোর প্রতি মৌন সমর্থন। আপনার চুপ থাকাটাই আজকের জন্য প্রশ্রয়। শেম ফর ইউ!

২ জুলাই, ২০১৬

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

ুং@ঢ়ৎরুড়.পড়স