২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জাপানে চার ভাগের এক ভাগ মানুষই বুড়ো


বিশ্বের তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি জাপান ধীরে ধীরে বুড়ো মানুষের দেশে পরিণত হচ্ছে। জরিপ বলছে, বর্তমানে মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ (প্রায় তিন কোটি) মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি। খবর ইয়াহু নিউজের।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাপানের আন্তঃসম্পর্ক মন্ত্রণালয়ের করা জরিপে বলা হয়েছে, ১২ কোটি ৭১ লাখ জনসংখ্যার এ দেশে শতকরা ২৬ দশমিক ৭ ভাগ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের উর্ধে যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে ৩ দশমিক ৭ ভাগ বেশি। বুড়োদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শ্রম বাজারে বেশ প্রভাব পড়েছে। ফলে এই বিপুল জনসংখ্যার মধ্যে (৬৫ বছরের উর্ধে) দেড় কোটি মানুষকে সরকার ভরণ-পোষণ করছে। অনেকেই আবার এ বয়সে যুক্ত আছেন কৃষি কাজে। সরকারের তথ্য মতে, দেশটিতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাই কৃষির হাল ধরে আছেন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে করা একই মন্ত্রণালয়ের আরেক জরিপে বর্তমান জনসংখ্যা ১২ কোটি ৭১ লাখ ১ হাজার ৪৭ জন যা ২০১০ সালের আদমশুমারির চেয়ে শতকরা ৭ ভাগ কম। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আদমশুমারির তথ্য জানিয়ে বলেছেন, গত বছরের ১ অক্টোবর দেশব্যাপী জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, বর্তমানে পুরুষের সংখ্যা ৬ কোটি ১৮ লাখ ২৯ হাজার ২৩৭ আর মহিলার সংখ্যা ৬ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার ৮১০ । এর আগে গত বছরের করা এক জরিপে দেশটিতে ৮০ বছরের উর্ধে জ্যেষ্ঠ নাগরিকের সংখ্যা এক কোটি (দশ মিলিয়ন) বলা হয়েছিল যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭ দশমিক ৯ ভাগ।

সরকার বলছে, বৃদ্ধরা অধিকাংশই কর্মহীন, ফলে অর্থনীতিতে তারা কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে জাপানের অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলেও জানানো হচ্ছে। বুড়োদের অধিকাংশই ব্যায়াম করেন । পরিমিত খাবার ব্যবস্থা ও উন্নত চিকিৎসাসেবায় বৃদ্ধদের আয়ু দীর্ঘায়িত করতে অনেকটাই অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে বলেও জরিপে বলা হয়েছে। সব কিছু ছাপিয়ে নতুন প্রজন্মকে সন্তান জন্মদানে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। ১৯২০ সাল থেকে চলে আসা জাপানি এই আদমশুমারি অনুযায়ী বিয়ের প্রতি অনীহা আর চাপের কারণে জনসংখ্যার তীর নিম্নমুখী হচ্ছে। দেশটি সন্তান জন্মের পর থেকে ১২ বছর পর্যন্ত সরকার তার কিছুটা ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেয়। প্রতি মাসে সরকারের কোষাগার থেকে অর্থ যায় এ কাজে। সরকার বিয়েতে উৎসাহী করতে বেশ কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটিতে শিশু জন্মহার ১ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ৮ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।