১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে মৌমাছির চাক নিয়ে প্রতারণা


এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ ‘মধুর হাজারো গুণ’ এই প্রকৃতি থেকে পাওয়া মধু আজ প্রায় বিলীনের পথে। এক সময় কক্সবাজার জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেঠো পথের আশপাশে ঝোপ-বাগান ও বাড়ির আঙ্গিনার গাছের ডালে ডালে এক সময় দেখা যেত মৌমাছির চাক। বিভিন্ন কলাকৌশলের মাধ্যমে মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করে মধু ব্যবসায়ীরা তাদের সংসার চালাতেন। বর্তমানে সেই মৌচাক আর দেখা যায় না। আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে মৌমাছির চাষ করে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে। গ্রামগঞ্জ থেকে দিন দিন মৌচাক বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মৌমাছির চাক পড়তে এখন আর দেখা যায় না সেখানে। এ ভাবে জেলার সব জায়গায় আগের মতো আর মৌমাছি আসছে না গাছে গাছে চাক পড়ার জন্য।

কিন্ত সাম্প্রতিক সময় কিছু প্রতারক চক্র মৌমাছির চাক সংগ্রহ করে অভিনব কায়দায় পাতিল ভরে নকল মধু দেদারছে বিক্রি করে সরল মানুষের সঙ্গে চরমভাবে প্রতারণা করে আসছে। এদৃশ্য জেলার গ্রামাঞ্চলের চেয়ে কক্সবাজার শহরেই বেশি চোখে পড়ছে।

প্রতারক চক্র একটি বা দুটি মৌমাছির চাক সংগ্রহ করে লোভনীয় কায়দার সারাবছরই খাঁটি মধুর তকমা লাগিয়ে নকল মধু বিক্রি করছে। কক্সবাজার শহরের আদালতপাড়ায় মৌচাকসহ মধু বিক্রি করার সময় বিক্রেতা জয়নাল জানান, তিনিসহ আরও ৪ জন কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড়ী এলাকা থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তারা ওসব মধু বিক্রি করে চলছেন। তিনি দাবি করেন, মৌমাছির চাক সংগ্রহ করা তাদের কাজ। মধু বিক্রি করেই সংসার চালান। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি দাবি করেন, সংগৃহিত মৌমাছির চাকেও বংশবিস্তার করে। এভাবে মধুর পরিমাণও বাড়তে থাকে।

রামু ঈদগড় পাহাড়ী এলাকার ৯৩ বছরের বৃদ্ধ ফসি আলম জানান, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন বাঁশ-বাগানে, আমগাছে, গাবগাছে, তেঁতুলগাছে ও পিচফল গাছ থেকে মৌমাছির চাক কেটে, মধু এনে বাড়ির সবাই মিলে দৈনিক সকালে রুটি দিয়ে খেতাম। মধু খাওয়ার জন্য সহজে আমাদের কোন রোগ ব্যাধি হতো না। যদি কেউ মৌচাক কাটতে বাধা দিত তাতেও আমরা থামতাম না। তিনি বলেন, এক সময় চুরি করে মৌচাকের ভেতরে পাটকাঠির একটি মাথা দিয়ে অন্য পাশে মুখ নিয়ে মধু খেতাম। এখন মধু পাই না, তাই খাওয়া হয়ে উঠে না আগের মতো। এখন এসব কথা অতীত।