২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ২ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

চার্জ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আওতায় কৃষি ঋণ বিতরণে দশমিক ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আদায়ের সুযোগ পাচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কৃষি ঋণ বিতরণে নির্ধারিত সুদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আদায়ের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে এসব ব্যাংকগুলোকে। ঈদের পর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এজন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করা হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তকে অনেকেই অযৌক্তিক বলে মনে করেছেন। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে কৃষি ঋণের সুদে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি ঋণের সুদের উর্ধসীমা নির্ধারণ করা আছে ১১ শতাংশ। তবে সম্প্রতি কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ কমিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, অগ্রাধিকার খাত হলেও অভিন্ন সুদে কৃষক ঋণ পায় না। ব্যাংক-ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান (এমএফআই লিঙ্কেজ) কৃষি ঋণ বিতরণের সুযোগ রাখায় কৃষি ঋণের সুদে এ বৈষম্য চলে আসছে। ব্যাংক-এমএফআই লিঙ্কেজে কৃষি ঋণ পেতে কৃষককে এখনও ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ সুদ গুনতে হয়। অথচ সরাসরি ব্যাংক থেকে কৃষক নির্ধারিত সুদেই কৃষি ঋণ পান। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দশমিক ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ নেয়ার সুযোগ দিলেও সুদের হার দাঁড়াবে সাড়ে ১০ শতাংশ, যা এমএফআই লিঙ্কেজের অর্ধেকের চেয়েও কম। তারপরও নন-ব্যাংক এজেন্টের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণে সার্ভিস চার্জ আদায়ের সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে কৃষি ঋণের সুদে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি কৃষি ঋণ দেয়াটাই বেশি যুক্তিযুক্ত। কারণ এক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদ ও চার্জ আদায়ের সুযোগ নেই। বিশেষ করে সরকারী ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ বিতরণে বেশি জোর দিতে পারে। আর কৃষি ঋণ বাস্তবেই যদি সম্প্রসারণ করতে হয়, তবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তা দেয়া যেতে পারে।

তবে হুট করে এ সেবার মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণে সার্ভিস চার্জ আদায়ের সুযোগ দিলে আরেকটা চক্রের (মধ্যস্বত্বভোগী) উদ্ভব হতে পারে। কারণ ব্যাংক এজেন্ট হিসেবে এক পক্ষকে নিয়োগ দেবে, এজেন্টরা নিয়োগ দেবে আরেক পক্ষকে। এভাবে মধ্যস্বত্বভোগী চলে এলে কোন লাভ হবে না। এটা এ্যাভয়েড করতে হবে। পাশাপাশি সার্ভিস চার্জ দশমিক ৫ শতাংশ বলা হলেও সেটা কার্যকর পর্যায়ে আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য আমি বলব, এ ধরনের সুযোগ যদি দেয়াই হয়, তবে সার্ভিস চার্জ যেন না বাড়ে সেদিকে নজরদারি রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, যেসব ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক চালু করেছে, তারা প্রচলিত শাখার পাশাপাশি তাদের নন-ব্যাংক এজেন্টের মাধ্যমেও কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে নন-ব্যাংক এজেন্টের সুদের অতিরিক্ত দশমিক ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আদায়ের সুযোগ দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এটি কৃষি ও কৃষকের জন্য ইতিবাচক হবেÑ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখা না থাকায় অনেক ব্যাংক এমএফআই লিঙ্কেজে কৃষি ঋণ বিতরণ করে। এক্ষেত্রে কৃষককে বর্তমানে ২৫ শতাংশ সুদ গুনতে হয়। কিন্তু কৃষক নন-ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে এ ঋণ নিলে সার্ভিস চার্জসহ সুদ দাঁড়াবে সাড়ে ১০ শতাংশ। এমএফআই লিঙ্কেজে ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণ নির্ভরশীলতা কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কৃষি ও পল্লী ঋণের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের ন্যূনতম আড়াই শতাংশ কৃষি ও পল্লী খাতে বিতরণ করতে হবে।

নতুন ব্যাংকগুলোর জন্য এ হার ৫ শতাংশ। যারা এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না, তাদের অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকে বাধ্যতামূলক জমা করতে হয়। এজন্য বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রামাঞ্চলে শাখা কম হওয়ায় তাদের মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করে থাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই লিঙ্কেজ) মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণেও সুদের হারও ১ জুলাই থেকে কমার কথা।

কিন্তু ব্যাংক-এমএফআই লিঙ্কেজে সুদের হার কমানোর বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সঙ্গে বসে তাদের সুদ কমানোর অনুরোধ করা হবে।