১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জিম্মি সঙ্কট দ্রুত নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা ভুটানের


ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ঢাকায় সন্ত্রাসী ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তার দেশ সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জিম্মি সঙ্কট অবসানে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এ ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি বার্তা পেয়েছে, সেটি হলো সেদেশের সরকার কোন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না।

থিম্পুর তাজ তাশি হোটেলে অবস্থানকারী ভুটানে চারদিনের সফররত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী তোবগে এ কথা বলেন। খবর বাসস’র।

বৈঠকে আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সবসময় সন্ত্রাসী কর্মকা- দমনে কঠোর অবস্থান নেয়।

বৈঠকে আবদুল হামিদ ভুটানে ব্যাপক জলবিদ্যুতের উল্লেখ করে বলেন, দেশটি বাংলাদেশে জলবিদ্যুত রফতানি করতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটান বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত- নেপাল)-এর অধীন এ ক্ষেত্রে যৌথ পদক্ষেপ নিতে পারে।

বৈঠকে শেরিং তোবগে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে তার সরকারের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ ক্ষেত্রে দু’দেশের সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের সরকারীভাবে সরাসরি বাংলাদেশে পাথর রফতানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তার সফরকালে আতিথেয়তার জন্য রাজ পরিবার, ভুটান সরকার এবং সেদেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং দিন দিন এই সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেয়নপো ডামচো দোর্জি এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভুটানের স্পীকারের সাক্ষাত ॥ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিবিআইএন এমভিএ (মোটরযান চুক্তি) সংক্রান্ত বিল জাতীয় পরিষদে পাস করার জন্য ভুটানকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ভুটানের জাতীয় পরিষদের স্পীকার লিওনপো জিগমে ঝাংপো শনিবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি হামিদ দুদেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

এ সময় ভুটানের স্পীকার ঢাকার গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রশংসা করেন।

স্পীকার লিওনপো জিগমে ঝাংপো ভুটানের জাতীয় পরিষদের বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

তিনি ভুটানের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়াশোনা করার সুযোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

পরে, ভুটানের ন্যাশনাল কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন ড. সোনম কিংগা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: