১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বেলজিয়ামকে হারিয়ে ওয়েলসের ইতিহাস


বেলজিয়ামকে হারিয়ে ওয়েলসের ইতিহাস

ইউরো থেকে সোনালি প্রজন্মের বিদায়, প্রথমবারের মতো বড় আসরের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল বেল-রামসেরা, শেষ চারে বেলের ওয়েলসের প্রতিপক্ষ রোনাল্ডোর পর্তুগাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল বেলজিয়াম। কিন্তু সেবার আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ আট থেকেই ছিটকে পড়ে হ্যাজার্ড-ফেলাইনিরা। আকর্ষণীয় ফুটবল খেলে এবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও নজর কেড়েছিল তারা। কিন্তু এবারও সেই কোয়ার্টার ফাইনালে থেমে গেল দেশটির সোনালী-প্রজন্মের স্বপ্নযাত্রা। আর বেলজিয়ামকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল গ্যারেথ বেলের ওয়েলস। শুক্রবার লিলিতে ওয়েলস ৩-১ গোলে বিশ্বের দ্বিতীয় র‌্যাঙ্কধারী বেলজিয়ামকে হারিয়ে স্মরণীয় এক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। এই জয়ের ফলে বড় কোন ফুটবল আসরে প্রথমবারের মত সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল তারা।

দীর্ঘ ৫৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ওয়েলস। এর আগে সর্বশেষ ১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল তারা। এর আগে সেটিই ছিল দলটির শীর্ষ কোন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সর্বশেষ অংশগ্রহণ। তবে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুতেই দুর্দান্ত খেলে তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়াম। রাডজা নাইনগোলানের দূরপাল্লার অসাধারণ শট থেকে ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়ানরা। তবে পিছিয়ে পড়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। যোগ্যতা দিয়েই এ্যাশলে উইলিয়ামসের দলটি নিজেদের সমতায় ফিরিয়ে এনেছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগটিকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন ওয়েলস অধিনায়ক। ৩০ মিনিটে গোল আদায়ের মাধ্যমে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তারের মাধ্যমে ফের এগিয়ে যাবার চেষ্টায় মেতে ওঠে বেলজিয়াম। কিন্তু সুফল ঘরে তোলে ওয়েলস। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে রবসন-কানু দারুণ দক্ষতায় তিন বেলজিয়ান ফুটবলারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত একটি গোল আদায় করলে এগিয়ে যায় ওয়েলস। তারপরও থেমে থাকেনি বেল-রামসেদের গোল-উচ্ছ্বাস। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৫ মিনিট আগে বেলজিয়ামের কফিনে শেষ পেরকটি ঠুকে দেন স্যাম ভোকস। ক্রিস গানটেরের ক্রসের বল দর্শনীয় হেডের সাহায্যে বেলজিয়াম গোলপোস্টে পাঠান বদলি হিসেবে নামা স্যাম ভোকস। এর পরপরই হলুদ কার্ড দেখতে হয় এ্যারন রামসেকে। এর ফলে সেমিফাইনালের ম্যাচে এার্সেনালের এই মিডফিল্ডারকে পাবে না ওয়েলস।

কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে হারিয়ে দারুণ সন্তুষ্ট ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যান। শেষ আটে জয়ের মুহূর্তটাকে মধুর বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ক্রিস কোলম্যান বলেন, ‘স্বপ্ন নিয়ে কখনও ভয় পেতে নেই। চার বছর আগে আমি এখন থেকে অনেক দূরে ছিলাম। আর এখন দেখুন কি ঘটেছে, যা আপনি ভাবতেই পারছেন না। আপনি যদি যথেষ্ট কঠোর পরিশ্রম করেন, স্বপ্ন নিয়ে ভয় না পান এবং ব্যর্থতাকে ভয় না পান তাহলে এমনটি ঘটতে পারে। এটি একটি মধুময় মুহূর্ত যা আমি দারুণভাবে উপভোগ করছি।’ বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়ের রাতটাকে ওয়েলসের ফুটবল ইতিহাসের সেরা রাত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক তারকা রায়ান গিগস। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দেশের হয়ে ৬৪ ম্যাচ খেলেছেন গিগস। দীর্ঘদিন নেতৃত্বও দিয়েছেন দেশকে। কিন্তু তিনি এবং তার প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা যা করতে পারেননি, সেটিই করে দেখিয়েছেন বেল-রামসেরা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ইউরোপের সেরা দলটিকে হারিয়ে ওয়েলস সেমিতে জায়গা করে নেয়ায় খুশিতে আত্মহারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তিও। এ প্রসঙ্গে গিগস বলেন, ‘আমি দারুণ গর্বিত। কোন সন্দেহ ছাড়াই এটি ওয়েলসের ফুটবল ইতিহাসে সেরা রাত। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ২ নাম্বারে থাকা দলটিকে এমন সাধারণ বানিয়ে ম্যাচ জেতা অসাধারণ ব্যাপার। এটাই এখন পর্যন্ত আমাদের সেরা পারফর্মেন্স।’

এদিকে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল হিসেবে এই ব্যর্থতায় চরম প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন বেলজিয়ামের কোচ মার্ক উইলমোটস। দারুণ সব তারকা খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দলটি এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। যদিও শুক্রবারের কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি পছন্দের তিনজন ডিফেন্ডারকে খেলাতে পারেননি। এদের মধ্যে ইনজুরির কারণে ভিনসেন্ট কোম্পানি ও জান ভেরটনগেনকে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে থমাস ভারমালিনকে একাদশে রাখতে পারেননি তিনি। পরাজয়ের পর হতাশ উইলমোটস বলেন, ‘আমার দলের খেলোয়াড়রা গড় বয়সের দিক থেকে বেশ তরুণ। তাদের মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমি তাদের মেরে ফেলতে চাই না। আমার মনে হয় আমরা অপেক্ষাকৃত ভাল খেলেছি। তবে কেন আমরা পিছিয়ে পড়লাম তার ব্যাখ্যা এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই।’

বেলজিয়ামকে হারানোর ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওয়েলসের প্রতিপক্ষ এখন পর্তুগাল। আগামী বুধবার লিঁওতে অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ। যেখানে পরস্পরের মুখোমুখি হবে দুই রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ গ্যারেথ বেল ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে পোল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয় রোনাল্ডোর পর্তুগাল। বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর আগে ১-১ গোলে ড্র ছিল। গত তিন বছর ধরেই রিয়াল মাদ্রিদে একত্রে খেলছেন বেল-রোনাল্ডো। ইউরোতে এবার তারাই একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী! লড়াইটা যে জমবে তা অনুমিতই। বর্তমান ফুটবলের সেরা দুই তারকার লড়াই দেখতে ফুটবলপ্রেমীরা নিশ্চিত অধীর আগ্রহ নিয়েই অপেক্ষা করছে।