২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্যাম্পসে চড়ুই ভাতি


শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যেতে কার না ভাল লাগে। ছোট বেলার সেই গোল্লা ছুট, দাড়িয়া বান্দা, রাজা-রানী চা বিস্কুট, ফুলটোকা, চড়ুই ভাতিসহ আর কত মজার মজার স্মৃতি। কিন্তু এই ইটপাথরের নগরীতে সেই সুখকর স্মৃতিগুলো ভুলতে বসেছে সবাই। পুরো বছরজুড়ে থাকে টিউটেরিয়াল পরীক্ষার আধিক্য আর তার সঙ্গে এসাইনম্যান্ট। চাইলেই তো আর সেই শৈশবে ফিরে যাওয়া যায় না। তবে চেষ্টা করে দেখতে সমস্যা কোথায়? লোক প্রশাসন বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করল এক ভিন্ন আয়োজন। শিক্ষা জীবনের একবারে শেষ প্রান্তে এসে হাজির। দিনগুলোকে স্মৃতির প্রেমে বন্দী করে রাখার জন্য যত আয়োজন। সবার একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা উঠে না। খুব অল্পসময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো ‘সুইজারল্যান্ডে’ এ চড়ুই ভাতির আয়োজন। নামটা শুনে হয়ত বা অনেকেরই চোখ কপালে উঠে যাবে, যাওয়ারই কথা, চড়ুই ভাতির আয়োজন করতে সুইজারল্যান্ড? সুইজারল্যান্ডেই তো হবে, কেননা জায়গাটিতে যেতে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোন খরচ নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে আট টাকা ভাড়া দিয়ে অথবা পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়। সুইজারল্যান্ডটি ক্যাম্পাসের মওলানা ভাসানী ও শহীদ রফিক জব্বার হলের দক্ষিণের সবুজ পাহাড়ী এলাকাটিকে ডাকা হয়। রান্না-বান্নার জন্য সকাল থেকেই কাজ করে যাচ্ছে জ্যোতি এবং তাকে সহায়তা করছেন তমাল, সৌমিক, মাছুম, আকাশ, আসলাম, ফরিদসহ আরও অনেকে। শৈশবের রীতি অনুযায়ী কেউ পানি আনা কেউ আবার কাটাকাটি, কেউ চুলা জ্বালানো, কেউ আবার হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কারের কাজে নেমে গেল। সূর্যটা যখন মাথার ওপরে তখন রান্না-বান্নার কাজ সমাপ্ত। বিকেল তিনটায় সবাই এক সঙ্গে হয়ে খাবার গ্রহণ করলাম। খাবার পরে শুরু হলো বালিশ খেলা। সবাইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ান হলো রুমি। আর এর পরই হাঁড়িভাঙ্গা খেলা। তবে সবাই কে সবচেয়ে বেশি মজা এবং স্মৃতিকাতর করেছে ছোটবেলার সেই ফুলটোকা খেলা কোথাও কোথাও এটি বউরানী খেলা নামেও পরিচিত। সৌমিক এবং আকাশ এই দুইজন রাজার অধীনে পাঁচজন করে মোট দশজন খেলায় অংশগ্রহণ করলাম। নিয়মানুসারে, মাঝখানে অনেক ফাঁকা জায়গা রেখে দুইপাশে দুইটি রেখা টেনে দেয়া হলো। এরপর রাজা মহাশয়দ্বয় ফুল-ফলের নামে আমাদের নাম ঠিক করে দিল। এরপর খেলা শুরু হলো। সবশেষে সৌমিকের দলই বিজয়ী হলো। দিন শেষে নেমে এলো সন্ধ্যা আর সেই সঙ্গে আমরাও হলের পথে হাঁটতে থাকলাম।

সাইফুল ইসলাম সজিব