মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

গুলশান হামলায় কূটনীতিকরা উদ্বিগ্ন আতঙ্কিত

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৬

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গী হামলার ঘটনায় বিদেশী কূটনীতিক ও নাগরিকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই এই ধরনের হামলার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শনিবার বেশ কয়েকজন বিদেশী নাগরিক ঢাকা ছেড়েছেন। এছাড়া ঢাকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মান দূতাবাস নিজ নিজ নাগরিকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। গুলশানের ঘটনায় বাংলাদেশ ভ্রমণে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও এই ঘটনা অবহিত করা হয়েছে।

গুলশানের আর্টিজান রেস্তরাঁয় শুক্রবার রাতে জঙ্গীরা দেশী-বিদেশী নাগরিকদের জিম্মি করে ফেলে। সে সময় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গীদের গোলাগুলিও হয়। জঙ্গীরা সেখানে বিদেশী ২০ নাগরিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। তবে উদ্ধার অভিযানে ৬ জঙ্গী নিহত হয়েছেন। নিহত বিদেশী নাগরিকদের মধ্যে জাপানী ও ইতালির নাগরিকের সংখ্যাই বেশি বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় বিদেশী কূটনৈতিক ও নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গীরা হামলা চালিয়েছে। তবে কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তাবলয় ভেদ করে কোন রেস্তরাঁয় বিদেশীদের জিম্মি করে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো ঘটেছে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের উত্থানের পর এখন বিভিন্ন দেশে এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। বিশেষ করে প্যারিস, ব্রাসেলস ও ইস্তান্বুলেও ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী ও জঙ্গী হামলা হয়েছে। ইস্তান্বুল বিমানবন্দরে হামলার তিনদিন পরেই ঢাকায় বড় ধরনের জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটল। এই হামলার মধ্যে দিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা ও রংপুরে জাপানী নাগরিক কুনি হোসিও হত্যার পর বিদেশী কূটনীতিক ও নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদেশী কূটনীতিকরা সরকারের কাছে কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। এছাড়া বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধও জানিয়েছিলেন। বিদেশীদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা বাড়াতে সরকার থেকে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। কূটনৈতিক জোনে বিশেষভাবে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। তবে এতকিছুর পরেও নিরাপত্তাবলয় ভেদ করে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলায় বিদেশীরা এখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সূত্র জানায়, রাজধানীর গুলশানে ভয়াবহ এই হামলার ঘটনার পর শনিবার ঢাকার বেশ কয়েকজন কূটনীতিক গুলশানে একজন কূটনীতিকের বাসায় বৈঠক করেছেন। তারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে আবারও তারা বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর আগেও ইতালি ও জাপানি নাগরিক হত্যার পরে বিদেশী কূটনীতিকরা সরকারের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সে সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানান। আবারও তারা বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী।

গুলশানে জঙ্গী হামলার পর নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে বলেছে, ঢাকার গুলশান দুইয়ের হলি বেকারিতে গুলি ও জিম্মি পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ে যান। ঘটনার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে সব সংবাদ মাধ্যমের ওপর নজর রাখার জন্য অনুরোধ জানান। এদিকে ঘটনার সময়েই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, ঢাকায় তাদের মিশনে কর্মরত সব আমেরিকান নাগরিক নিরাপদে আছেন। ঘটনা সে সময় চলতে থাকায় এ হামলার পেছনে কারা সে বিষয়ে কিছু বলার সময় আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে হামলার বিষয়ে অবগত করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। হামলার পর ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন গুলশান এলাকায় অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলতে বলেছে তারা। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের উচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে দেশটির সরকার। গুলশানের হামলার এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি ঘটনার অগ্রগতি জানতে গণমাধ্যমের ওপর নজর রাখতে বলেছে তারা। শনিবার এক টুইট বার্তায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়্যার গুলশানের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এছাড়া তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এদিকে গুলশানের ঘটনায় বাংলাদেশ ভ্রমণে নতুন করে সতর্ক বার্তা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। শনিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সতর্ক বার্তা জারি করা হয়। এতে বাংলাদেশে অবস্থানকালে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক থাকা ও স্থানীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মতো চলার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সুপার মার্কেট, রেস্তরাঁ ও পাবলিক প্লেস এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় অস্ত্রধারীদের দেশী-বিদেশী নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনা দৃষ্টি কেড়েছে বিশ্ব গণমাধ্যমের। ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার করেছে সিএনএন ও আল জাজিরা। বিবিসি, রয়টার্স, ইন্ডিপেনডেন্টসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রকাশ করেছে। শনিবার দিনভরও সিএনএন, বিবিসি জিম্মি ঘটনার খবর প্রচার করেছে।

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৬

০৩/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: