২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দুই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে শোকের মাতম


নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ, ২ জুলাই ॥ গুলশানে রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল করিমের (কামরুল) মানিকগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইউনিয়নের কাটিগ্রামে। রবিউলের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার মা করিমন নেছা, আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী উম্মে সালমা, দাদী কমলা বেগমসহ আত্মীয়স্বজনরা। রাতে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তার বাড়িতে মানুষের ভিড় জমতে থাকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইউনিয়নের কাটিগ্রাম এলাকায় মৃত আব্দুল মালেকের দুই ছেলের মধ্যে রবিউল বড়। কাটিগ্রাম উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে এসএসসি পাস করার পর রবিউল ধামরাই ভালুম আতাউর রহমান কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী শেষে ৩০তম বিসিএসে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি কিছুদিন ইতালিতে প্রবাসী জীবন কাটান। সহকারী কমিশনার পদে যোগদানের আগে তিনি ঢাকা, নেত্রকোনা এবং র‌্যাব-৩ এ কাজ করেছেন।

গ্রামের বাড়ি কাটিগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজে বেশ সুনাম রয়েছে রবিউলের। ২০১১ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে কাটিগ্রামে ‘ব্লুমস’ নামে বিশেষায়িত একটি প্রতিবন্দী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটিতে ৩২ জন প্রতিবন্দী লেখাপড়া করছে। প্রতিষ্ঠা করেন নজরুল বিদ্যাসিঁড়ি কিন্ডারগার্ডেন। যে স্কুলে পড়ছে তার শিশুপুত্র সামি।

কাটিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউলের চাচা বিপ্লব হোসেন সেলিম জানান, ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুরে বিয়ে করেন রবিউল। গ্রামের সকল মানুষের প্রিয় মুখ ছিল রবিউল। তিনি প্রতিবছর ঈদের সময় গরিব দুস্থদের মাঝে কাপড় ও লুঙ্গি বিতরণ করতেন। রবিউলের স্ত্রী সালমা আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাদের ঘরে সাজিদুল করিম সামি নামে ৬ বছরের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা বেলা ১১টায় রবিউল করিমের বাড়িতে যান। তিনি স্বজনসহ স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ থেকে জানান, গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ায় নিজ বাড়িতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে ওসি মোঃ সালাহউদ্দিন খানের স্বজনরা। বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শুক্রবার রাতে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি বিদেশী নাগরিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে তার নিহত হওয়ার খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ শহরে তাৎক্ষণিক নেমে আসে শোকের ছায়া। ক্ষণিকের মধ্যে সবাইকে হতবাক করে দেয় দুঃসংবাদটি।

ওসি মোঃ সালাহউদ্দিন খানের শৈশব কেটেছে গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ায়। সহপাঠী ও বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে ‘লুই’ নামেই তিনি অধিক পরিচিত ছিলেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল মান্নান খান ছিলেন শহরের এস এম মডেল গভঃ হাই স্কুলের একজন শিক্ষক। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে সালাহউদ্দিনের অবস্থান ছিল তৃতীয়। এর আগে তার আরও দু’ভাই গত হয়েছেন। পিতামাতাও বেঁচে নেই। শৈশব থেকেই একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে তার যথেষ্ট সুনাম ছিল। এস এম মডেল গভঃ হাই স্কুল থেকে ১৯৮৩ সালে স্টার নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার নম্র ও বিনয়ী ব্যবহার সকলকে মুগ্ধ করত। খেলার মাঠেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরব। স্থানীয়ভাবে ক্রিকেট, টেবিল-টেনিস, দাবাসহ বিভিন্ন খেলায় তার সুখ্যাতি ছিল। একজন নিরাহঙ্কার মানুষ হিসেবে সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশী তার কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় মুখ। তার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ ছিল মনে রাখার মতো।

সালাহউদ্দিনের বাল্যবন্ধু হাবিবুর রহমান প্রবাল (৪৭) বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গী দমনে তিনি একজন নির্ভীক ও সাহসী পুলিশ অফিসার হিসেবে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে সালাহউদ্দিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

শহরের ব্যাংকপাড়ার বাসিন্দা কে এম জুয়েল (৫০) জানান, ধনী, গরিব, পরিচিত বা অপরিচিত কেউ তারা কাছে গেলে তিনি সব সময় তাদের সহযোগিতা করেছেন।

সালাহউদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী খান বলেন, আমার বাবা-মা বেঁচে নেই। একজন বাবা আমাদের জন্য যা করতে পারেননি, আমার ভাই আমাদের জন্য অনেক করেছেন। একজন বাবার ভূমিকা পালন করেছেন। গোপালগঞ্জে এলে তিনি পাড়ার গরিব দুঃখীদের সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। তিনি তার ভাইয়ের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।