১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সারি সারি ড্রেজারে বালু উত্তোলন চলছেই


ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল ॥ বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালানোর পর কিছু দিন বালু উত্তোলন স্থগিত ছিল। এর কিছুদিন পরই সেতুর পূর্বপাড়ে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস সীমানার উত্তরে ৩ কিলোমিটারজুড়ে সারি সারি ড্রেজারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে গাইড বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়াসহ হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের উত্তরে ভূঞাপুর ও দক্ষিণে কালিহাতী উপজেলার অংশে পৃথক দুটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছে। উত্তর অংশে ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি, নিকরাইল ও গোবিন্দাসী এলাকায় ৮টি স্থানে প্রভাবশালীরা সেতু বিভাগের পুকুরের পাড় দিয়ে ‘ডাব’ (বালু পরিবহনের রাস্তা) তৈরি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সরবরাহ করছে। অপরদিকে পূর্বপাড়ের দক্ষিণাংশে সেতু সীমানার প্রায় ৩শ’ গজ দক্ষিণে কালিহাতী উপজেলার শ্যামশৈল, চরসিঙ্গুলী ও আলীপুর মৌজায় ড্রেজার বসিয়ে আড়াই মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কালিহাতী উপজেলার একাধিক স্পটে পৃথক ৪টি ঘাট স্থাপন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সরবরাহ করা হচ্ছে। উত্তোলন করা বালুভর্তি ট্রাকগুলো সেতু সংলগ্ন গ্যাসফিল্ডের ওপর দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, অতি স্পর্শকাতর (কেপিআই) এলাকা হলেও সেতু সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের সীমানা ঘেঁষা নদী তীরে উত্তর দিকে ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোন নৌঘাট না থাকলেও সারি সারি শতাধিক ড্রেজার মেশিন রাখা হয়েছে। একনজর দেখলেই বোঝা যায়, তীরে বেঁধে রাখা ড্রেজার মেশিনগুলো রাতে ব্যবহার করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্রেজিং মেশিনগুলো ভূঞাপুর অংশের বালু ব্যবসায়ীরা সৈয়দপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভৈরব বাজার, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিনগুলো ভাড়ায় এনে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয় সূত্র দাবি করে, ড্রেজার মেশিনগুলো চালু করায় রুহুলী, কুকাদাইর ও মাটিকাটা অংশে বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষা গাইড বাঁধের স্টিলনেট, পাথর, জিও টেক্সটাইল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রমত্তা যমুনার করাল থাবা শুরু হলে সেতু রক্ষা গাইডবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভূঞাপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, নৌপরিবহন বিধিমালা অনুসারে ড্রেজারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।