মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

মিয়ানমারকে অবশ্যই মুসলিম বৈষম্য দূর করতে হবে

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৬
  • জাতিসংঘ দূত ইয়াংহি লি

মিয়ানমারের নতুন বেসামরিক সরকারের দেশটির গোলযোগপূর্ণ রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা ও অন্য মুসলিমদের বিরুদ্ধে গভীর বৈষম্য অবসানে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি শুক্রবার এ কথা বলেছেন। পাঁচ দশকের সামরিক শাসন শেষে কয়েক মাস আগে গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী আউং সান সুচির দল ক্ষমতা গ্রহণের পর বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে প্রায় দুই সপ্তাহের সফর শেষে লি এ কথা বলেন।

মানবাধিকারের সমর্থক বলে বিশ্বজুড়ে খ্যাত সুচি রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করায় ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হন, বিশেষ করে তার নেতৃত্বে দেশটিতে যখন নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। লি সংঘর্ষ-বিধ্বস্ত রাখাইন রাজ্যও পরিদর্শন করেন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যটি ২০১২ সালের বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত। এর পর থেকে রাজ্যটি ধর্মীয় ভিত্তিতে দুইভাগে বিভক্ত। সেখানকার মুসলিমরা আশ্রয় শিবিরে এক বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায় হিসেবে আটকা পড়ে আছে এবং মৌলিক অধিকার ও কর্মসংস্থানসহ তাদের চলাফেরার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনে এক সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, রাখাইন রাজ্য সফরের পর আমি নিশ্চিত হয়েছি, সেখানকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হয়নি। তিনি ক্যাম্পগুলোর গাদাগাদি অবস্থা, জীর্ণশীর্ণ আশ্রয়স্থল ও পয়ঃনিষ্কাষনের অব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। রাজ্যের মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অবসান করা অবশ্যই জরুরী অগ্রাধিকার হতে হবে বলে লি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ও কামান সম্প্রদায়ের স্বাধীন চলাফেরার ওপর অব্যাহত বিধিনিষেধ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কোন সমর্থনযোগ্য কারণ হতে পারে না। কামান মুসলিমরা মিয়ানমার সরকারের জাতিগত সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃত হলেও রোহিঙ্গারা নয়। এর ফলে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কার্যত রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছে।

মসজিদে হামলা ॥ মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে মুসলিমদের একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার শনিবার এ কথা জানিয়েছে। দেশটিতে মুসলিম-বিরোধী মনোভাব বেড়ে যাওয়ায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মসজিদে হামলার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। কাচিন রাজ্যের হাপাকান্তও গ্রামে শুক্রবার এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, মসজিদটি পুড়িয়ে দেয়ার আগে সেখানে লাঠি, ছুরি ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে ভাংচুর চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। -এএফপি

প্রকাশিত : ৩ জুলাই ২০১৬

০৩/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: