১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

অবাধ চলাচলে হেরফের নয়


ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রধান জ্যাঁ-ক্লদ জাঙ্কার অবাধ চলাচল ইইউর অন্যতম মূলস্তম্ভ হয়ে থাকবে বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন। এর আগে বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ইইউর সংস্কারই ব্রেক্সিট পরবর্তী সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। এদিকে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ইইউ ত্যাগের সময়সূচী নিয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ বাড়িয়ে বলেছেন, ব্রেক্সিট বাতিল বা বিকশিত করা যাবে না এবং ব্রিটেনকে ব্রেক্সিটের পরিণতি নিয়েই বাঁচতে হবে। খবর এএফপি ও গার্ডিয়ান অনলাইনের।

জাঙ্কার ব্রাতিসøাভায় বলেন, আমি অবাধ চলাচলে পরিবর্তন আনব না। কারণ সেটি ইইউর অন্যতম মৌলিক স্বাধীনতা। সেøাভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো তখন তার পাশে ছিলেন। ফিকোর দেশ শুক্রবার ছয় মাসের জন্য ব্লকের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে। জাঙ্কার ইইউ ত্যাগের পক্ষে ২৩ জুন ব্রিটেনের ভোট দেয়ার পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের অভিপ্রায় স্পষ্ট করতে বলেন।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাইÑ বিজ্ঞপ্তির আগে কোন আলোচনা নয়। আমাদের হাতে নষ্ট করার মতো কোন সময় নেই। ইইউ ত্যাগ নিয়ে আলোচনা শুরুর আগে ব্রিটেন ব্লক ত্যাগ করছে বলে ব্লকের উদ্দেশে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেবে এ শর্তের প্রতি তিনি ইঙ্গিত করছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন মঙ্গলবার ইইউ নেতাদের বলেন যে, তাদের অবাধ চলাচলের নিয়মকানুন সংস্কারের কথা বিবেচনা করা উচিত। ডাউনিং স্ট্রিটের এক সূত্রে এ কথা বলা হয়। ওই সূত্রে জানানো হয়, ক্যামেরন ব্রাসেলসে ব্লক নেতাদের এক ভোজসভায় বলেন যে, ব্রিটেন ও ইইউর যথাসম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা উচিত এবং ঘনিষ্ঠ থাকার উপায় হলো অবাধ চলাচলের ক্ষেত্রে সংস্কার আনার দিকে আসলেই দৃষ্টি দেয়া। সেøাভাক প্রজাতন্ত্র ১৬ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনকে বাদ দিয়ে ইইউর এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠক আয়োজন করবে। অভিবাসনবিরোধী ফিকো বলেন, আমরা ব্রাসেলস থেকে দূরে কোথাও ইউরোপীয় প্রজেক্টের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই খোলাখুলি কথা বলতে চাই। ব্রাতিসøাভা বৈঠকে অভিবাসন নিয়েও আলোচনা হবে। জাঙ্কার একে ‘ফিকো শীর্ষ বৈঠক’ বলে অভিহিত করেন।

এ বছরের প্রথমদিকে ফিকো ব্লকজুড়ে শরণার্থী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ইইউ নির্দেশিত কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর আগে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে বেশিরভাগ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার নীতি গ্রহণ করে ইইউ নিয়মমাফিক আত্মহত্যাই করছে। ফিকো মার্চের সাধারণ নির্বাচনের আগে একজন মুসলমানকেও কখনও গ্রহণ না করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। এ নির্বাচনে এক কড়া ডানপন্থী দল প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে আসন লাভ করে।

এদিকে ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেন, ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; এটি বিলম্ব বা বাতিল করা যেতে পারে না। এখন ব্রিটিশদের এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। উত্তর ফ্রান্সে সমযুদ্ধের শত বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ওলাঁদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওলাঁদ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার সুবিধা রয়েছে। আর সেটিই ব্রিটিশরা বুঝতে শুরু করেছে। তিনি ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন কিন্তু এখন দুঃখ করছেন এমন ভোটারদের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। ওলাঁদ বলেন, ব্রিটেন দ্রুত ইইউ ত্যাগ করলে বিশেষত অর্থনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা এড়ানো যাবে।

ওলাঁদ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্রিটিশদের প্রতি সম্ভব কঠোর মনোভাব গ্রহণ করতে চান বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি জনমত জরিপে চলতি বছরের সোস্যালিস্ট পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে এবং আাগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনে পিছিয়ে আছেন। ফ্রান্সে ক্রমশ আশা করা হচ্ছে যে, প্যারিস সঠিক পদক্ষেপ নিলে লন্ডনের কাছ থেকে আর্থিক সার্ভিস ব্যবসা নিজের করায়ত্ত করতে পারবে।