১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাজার থেকে তুলে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে জবাই


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী বাজার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হুদাকে তুলে নিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তুলে নেয়ার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জবাই করে তারা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে এ মর্মান্তিক হত্যাকা-। হত্যাকারীরা জামায়াত-বিএনপির ক্যাডার বলে জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। নুরুল হুদা বদরখালী বাজারের ‘মা মণি ক্লথ স্টোর’-এর মালিক। তিনি বদরখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

নিহত নুরুল হুদার ছেলে মোঃ শাহজাহান জানান, আমার পিতা বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় বদরখালী বাজারের ফেরিঘাটে হোটেল মজিদিয়ায় চা-নাস্তা খাওয়ার সময় আড্ডায় মন্তব্য করেন ‘রাজাকাররা দেশের শত্রু, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কোন রাজাকারকে রেহায় দেবেন না’। এ সময় একই এলাকার নূর আহমদের ছেলে জামায়াতকর্মী আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে লম্বা ছিদ্দিক নুরুল হুদার সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জামায়াতকর্মী আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ ৫/৬ সন্ত্রাসী তাকে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ নুরুল হুদার আত্মীয়স্বজন পুলিশ নিয়ে অপহরণকারীদের ধাওয়া করে। অপহরণের মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তাকে বদরখালীর ৩নং ব্লকের টোটিয়াখালী এলাকার (বাজার থেকে এক কিলোমিটার দূরে) কিল্লায় নিয়ে জবাই করে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাতে চকরিয়া সদর সার্কেলের এএসপি, চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ভাতিজা বুলবুল জানান, তাকে প্রকাশ্যে বাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় তুলে অপহরণ করে নেয়ার সময় আমরা সঙ্গে সঙ্গে পাশের পুলিশ ফাঁড়িতে যাই। কিন্তু পুলিশ নিয়ে তাদের খুঁজে বের করতে প্রায় ২০-২৫ মিনিট সময় লেগে যায়। এই সময়ের মধ্যে টোটিয়াখালী কিল্লায় গিয়ে তার জবাই করা রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তিনি জানান, আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে লম্বা ছিদ্দিক, তার দুই ভাই কাইয়ুম ও মানিক, সোহায়েদ, রাসেল বাহাদুর অপহরণে অংশ নেয়। তারা বাজারের বহু মানুষের সামনে থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, অপহরণের ঠিক আগ মুহূর্তে বিএনপি নেতা আহসানুল কাদের সাব্বিরকে ঘটনার অদূরে দাঁড়িয়ে আবু বক্কর ছিদ্দিকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে লম্বা ছিদ্দিক বিএনপি নেতা আহসানুল কাদের সাব্বিরের ভাইজির জামাই।

এলাকাবাসী জানান, ইউপি নির্বাচনে জামায়াত নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিক বিএনপি প্রার্থী আহসানুল কাদের সাব্বিরের নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি অংশ নেয়। ওই নির্বাচনে আহসানুল কাদের সাব্বির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে না পারলেও হেফাজ সিকদারের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। ওই নির্বাচন চলাকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী এই দু’পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার হামলাসহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাদের মতে, শুধু রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে তাৎক্ষণিক এ ঘটনা ঘটেনি। তাদের মধ্যে ইউপি নির্বাচনের বিরোধও চলে আসছে।

একটি সূত্র জানায়, নিহত নুরুল হুদা ও আবু বক্কর ছিদ্দিক পরস্পর চাচা-ভাতিজা। নুরুল হুদা আওয়ামী লীগ নেতা এবং আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে লম্বা ছিদ্দিক জামায়াতকর্মী। ইউপি নির্বাচনে নুরুল হুদা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হেফাজ সিকদারের পক্ষে এবং লম্বা ছিদ্দিক শ্বশুর সাবেক শিবির নেতা বিএনপি প্রার্থী আহসানুল কাদের সাব্বিরের পক্ষে কাজ করেন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: