১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢাকা-ময়মনসিংহে চার লেন হলেও ১৯ পয়েন্টে দুর্ভোগ কমছে না


স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের চার কোটি মানুষের বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেও ঈদে এই মহাসড়কের ১৯ পয়েন্টে দুর্ভোগের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত চারলেন মহাসড়কের ৮৭ কিলোমিটার জুড়ে ১৯ পয়েন্টে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চালাতে হবে ধীরগতিতে। ফলে একদিকে সময় যেমন বেশি লাগবে, অন্যদিকে পথে পথে জটলার কারণে দুর্ভোগে পড়তে হবে ঘরমুখো মানুষকে। দূরপাল্লার চালকদের দাবিÑ ঈদের আগে মহাসড়কের ওপর থেকে এসব অবৈধ স্ট্যান্ড, থ্রি হুইলার ও বাজার না সরালে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এবারও দুর্ভোগের শিকার হতে হবে যাত্রীদের। পাশাপাশি পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি করেছেন চালক ও যাত্রী সাধারণ।

অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, চারলেন মহাসড়কের অবস্থা ভাল থাকলেও এর গুরুত্বপূর্ণ ১৯ পয়েন্টে বিভিন্ন স্ট্যান্ড ও বাজার গড়ে ওঠায় এবারও ঈদে ঘরমুখো মানুষকে বেশ দুর্ভোগে পড়তে হবে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দূরপাল্লার বাসচালক এবং যাত্রী সাধারণও। তবে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে চারলেন মহাসড়কের ওপর থেকে সব অবৈধ স্ট্যান্ড ও স্থাপনা সরিয়ে ফেলা হবে। শুক্রবারের পর থেকে মহাসড়কের ওপর কোন স্ট্যান্ড কিংবা বাজার থাকবে না বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ খান জানিয়েছেন, এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘœ করতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি ভিজিলেন্স টিম নজরদারি করবে মহাসড়ক।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া মোড় পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের দৈর্ঘ ৮৭ কিলোমিটার এর প্রায় পুরোটাই যানচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। ত্রিশালের নয়নপুর থেকে ভালুকার ভরাডোবা পর্যন্ত একপাশের দুইলেনের ফিনিশিং কাজও শেষ হয়েছে। তবে রোড ডিভাইডার ও বিউটিফিকেশনের কিছু কাজ বাকি আছে এখনও। শহরের চরপাড়া মোড়ের শুরুতেই মাসকান্দা পর্যন্ত রয়েছে মাহিন্দ্র, এম্বুলেন্স ও সিএনজি অটো রিক্সার ৩টি স্ট্যান্ড। চরপাড়া মোড় থেকে মাসকান্দা পর্যন্ত দূরপাল্লার বাস থেকে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর। দূরপাল্লার এসব বাস শহরে না ঢুকে কেওয়াটখালি ও আকুয়া বাইপাস সড়ক ধরে যাতায়াতের কথা থাকলেও বেশি যাত্রীর আশায় শহরের এই পথে আসছে। ফলে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এতে লক হয়ে যাচ্ছে শহরের এই প্রবেশদ্বার। এ সময় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্ব পালনে হিমসিম হতে হয়। শহরতলীর আমলীতলা, শিকারীকান্দা ও চুরখাই বাজারের চারলেনের ওপর দুই পাশের দুই লেন দখল করে যেখানে খুশি সেখানে এলোমেলোভাবে পার্কিং করে রাখা হয়েছে বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানসহ ছোট হাল্কা যানবাহন। ঈদে চারলেনের ওপর যানবাহনের চাপ পড়ায় এসব পয়েন্টেও দেখা দিতে পারে যানজটের।

চারলেন মহাসড়কের ত্রিশালের বৈলর মোড়, ত্রিশাল উপজেলা সদর, বাগান, বগারবাজার ও সাইনবোর্ড মোড়েও একই অবস্থা। এসব পয়েন্টও রয়েছে বিভিন্ন অবৈধ স্ট্যান্ড। পিকআপ, মাহিন্দ্র ও সিএনজি অটো রিক্সা ছাড়াও উল্লেখিত মোড়ে দেখা গেছে বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে রাখা হয়েছে। ত্রিশাল উপজেলা সদরের চার রাস্তার মোড়ে যানবাহন ও রিক্সা পার্কিং করে রাখা হয়েছে এলোমেলোভাবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার সামনে মহাসড়কের ওপর সারি সারি করে রাস্তার দুই পাশের দুইলেন দখল করে রাখা হয়েছে বড় বড় কাভার্ড ভ্যান। ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ৫শ’ মিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডে মহাসড়কের ওপর দূরপাল্লার বাস যাত্রী ওঠানামা করছে রাস্তার ওপরেই। রিক্সা ও অটো রিক্সার জটলার ভেতরে এভাবে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যখন তখন সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। ঈদে ঘরমুখো মানুষ ত্রিশাল সদরের এই মোড়ে যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগের শিকার হতে পারে। গেলবারও ঈদে ত্রিশাল থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সময়ে শত শত যাত্রীকে রাস্তায় ইফতারি সারতে হয়। অনেকে যানবাহন থেকে নেমে দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছান। এবারও এমন আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান এনা পরিবহন সার্ভিসের চালক জিল্লুর রহমান।

ভালুকা থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত অন্তত ১০টি পয়েন্টে বাজার ও অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সমস্যার কথা জানালেন-ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ। ভালুকার সীডস্টোর ও জৈনা বাজারে চারলেনের মহাসড়কের ওপর রয়েছে মৌসুমী কাঁঠালের বাজার। ব্যস্ততম ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে ড্রেনের নির্মাণ কাজের জন্য প্রতিদিনই জটলা সৃষ্টি হচ্ছে যানবাহনের। কারণ নির্মাণ কাজের ইট সুরকি পাথর ও বালুসহ নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে মহাসড়কের একলেন দখল করে। ফলে এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলতে হচ্ছে ধীরগতিতে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: