১৭ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশকে হেয় করতে লন্ডনে বিতর্কের আয়োজন


কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির বহিষ্কৃত এক এমপি বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার হলে বাংলাদেশের ওপর এক বিতর্কে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তবে তার দেয়া বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার বাংলাদেশকে একটি গতিশীল, আধুনিক ও দ্রুত বর্ধনশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ওয়েস্ট মিনিস্টার হলে বাংলাদেশের ওপর একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এই বিতর্কের আয়োজন করেন ব্রিটিশ এমপি সায়মন ডানজুক। তিনি চলতি বছর জানুয়ারিতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক একটি মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এছাড়া সায়মন ডানজুক গত মার্চ মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় তিনি লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অজ্ঞাতে ‘অন এ্যারাইভাল ভিসা’র সুযোগ গ্রহণ করে গোপনে বাংলাদেশে আসেন।

বাংলাদেশ বিতর্কে সায়মন ডানজুক তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার সম্পর্কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু মিথ্যা, মনগড়া, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বিষয়ের অবতারণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের লক্ষ্যেই এ বিতর্কের আয়োজন। কিন্তু এ বিতর্ক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। কেননা বিতর্ক অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল মাত্র চারজন। আর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার সায়মন ডানজুকের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন।

ব্রিটিশ এমপি স্যার এ্যালেন মিলের সভাপতিত্বে বিতর্কে সায়মন ডানজুক ছাড়া আর দুজন মাত্র উপস্থিত ছিলেন- একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ এমপি ড. রূপা হক ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী হুগো সয়ার। বিতর্ককালে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে উপস্থিত অন্যদের উস্কানি দেয়ার চেষ্টা করেও সায়মন ডানজুক সফল হননি।

সায়মন ডানজুকের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বিতর্কে অংশগ্রহণকারী ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভুতদের কল্যাণে সেই সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে। তাদের কারণে সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশ সমাজ সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের নিকট বন্ধু ও কমনওয়েলথের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের ঘটনা প্রবাহের ওপর যুক্তরাজ্য গভীরভাবে নজর রাখে। তিনি বলেন, সকল ধর্ম ও বর্ণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল বাংলাদেশকে তার দেশ অর্থনৈতিকভাবে একটি সফল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে একটি গতিশীল, আধুনিক ও দ্রুত বর্ধনশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বাক স্বাধীনতাকে অন্যতম একটি মূল্যবোধ হিসেবে সুরক্ষার আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িকতা ও সহনশীলতার ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বারোপের কথাও তুলে ধরেন।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহের উল্লেখ করে হুগো সয়ার বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে না। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সকল রাষ্ট্রকেই উদ্যোগ নিতে হবে। জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন এবং মানবাধিকার সুরক্ষাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং দাঁড়াবে বলেও তিনি বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে এসব সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণসমূহ যেমন দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণেও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে বর্তমানে সহায়তা করছে বলে তিনি জানান।

হুগো সয়ার বলেন, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদ আমাদের সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু এসব সমস্যা একার পক্ষে মোকাবেলা অসম্ভব। তাই ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার সংস্কৃতি তৈরির লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাসবাদ দমন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে প্রতিশ্রুতি এবং আইনসঙ্গতভাবে সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য এর সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস প্রদান করেন। একটি শান্তিময়, সমৃদ্ধশালী ও উন্নত জাতি হিসেবে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার দেশও সে উচ্চাকাক্সক্ষার অংশীদার হতে আগ্রহী এবং বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে একটি গতিময়, স্থিতিশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে সফল বাংলাদেশ দেখতে চায়। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়ার গত বছর বাংলাদেশ সফর করেন। সে সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

লন্ডনের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ওয়েস্ট মিনিস্টার হলের এ বিতর্কের আয়োজন ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: