২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এটাই আমার প্রথম ইংল্যান্ড সফর না ॥ মুস্তাফিজ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত এক বছরই যথেষ্ট হয়েছে তাকে চেনার জন্য। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের পরিচয়টা ভালভাবেই পেয়ে গেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এ কারণেই এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) খেলেছেন। ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সাসেক্সের হয়ে আরও আগেই খেলার কথা ছিল। তবে টানা খেলার কারণে ফিটনেস ঘাটতি থাকায় সেটা হয়নি। অবশেষে চলতি মাসের ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাচ্ছেন এ ২০ বছর বয়সী তরুণ পেসার। ‘কাটার মাস্টার’ এবং ‘ফিজ’ নাম পেয়ে যাওয়া মুস্তাফিজ সাসেক্সের হয়ে ন্যাটওয়েস্ট টি২০ ব্লাস্ট ও রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপ খেলবেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ জুলাই হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষেই কাউন্টি ক্রিকেটে অভিষেক ঘটবে মুস্তাফিজের। তবে এ তরুণ জানিয়েছেন এটাই তার প্রথম ইংল্যান্ড গমন নয়। ২০১৩ সালে অনুর্ধ ১৯ দলের হয়েও ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন তিনি।

অভিষেক হওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে থাকার তেমন সুযোগই পাননি মুস্তাফিজ। এ বছরের শুরু থেকেও দারুণ ব্যস্ত থেকেছেন ক্রিকেট নিয়ে। জানুয়ারিতে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টি২০ সিরিজ, সেটা চলার সময়েই হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচ খেলেননি এবং প্রথমবারের মতো আয়োজিত পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল) টি২০ আসরেও খেলা হয়নি। ফিটনেস ঘাটতি ও ইনজুরির জন্য পরবর্তীতে এশিয়া কাপ টি২০ আসরেরও ফাইনালসহ শেষ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। এরপর টি২০ বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বেও মাঠে নামা হয়নি। সেই ইনজুরি কাটিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব এবং পুরো আইপিএল খেলেছেন। টানা প্রায় দুই মাস প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকতে পারেননি মুস্তাফিজ। ইনজুরি সমস্যা নিয়েই দেশে ফেরেন। ওদিকে সাসেক্স বার বার মুস্তাফিজকে পেতে তাগাদা দিয়েই যাচ্ছিল। এ মাসের ১০ তারিখে ইংল্যান্ডে কাউন্টি খেলতে যাবেন এ পেসার এমনটাই জানিয়েছিল তারা। কিন্তু মুস্তাফিজ নিজে বিশ্রাম নিতে ছিলেন উদগ্রীব এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) বিষয়টি নিয়ে তেমন আগ্রহী ছিল না। কারণ ফিটনেস বড় বিষয়। সেই পুনর্বাসন শুরু হয়ে গিয়েছিল।

ফিটনেস সমস্যায় অনেকখানি উন্নতি করায় মুস্তাফিজকে সাসেক্সে যোগদানের অনুমতি দিয়েছে বিসিবি। ভিসা জটিলতা না থাকলে হোভের উদ্দেশে ১৩ জুলাই রওনা হবেন তিনি। এ বিষয়ে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমাদের মেডিক্যাল টিম ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি অনুশীলনেও বেশ ভাল করছেন এবং আশা করছি আরও উন্নতি করবেন অচিরেই। তবে বিসিবি এমনটা জানালেও মুস্তাফিজকে সেটা বলা হয়নি। প্রথমত, তিনি ট্রেনার ও ফিজিও কি বলেন সেদিকেই মনোযোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এবারই ইংল্যান্ড সফর প্রথম নয় মুস্তাফিজের জন্য। এ বিষয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘অনুর্ধ ১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ডে গিয়েছিলাম ২০১৩ সালে। কিন্তু একটা ম্যাচ খেলেই ইনজুরির কারণে ফিরে আসতে হয়েছিল চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের মাঝপথে। বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের সঙ্গে আরেকটি দল ছিল পাকিস্তান।’ আবারও দীর্ঘদিন আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুদের ছেড়ে থাকতে হবে। এ বিষয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘ইংল্যান্ডে থাকার সময় প্রথমত চিন্তায় যেটা থাকবে সেটা হচ্ছে ক্রিকেট। সে কারণে এটা বিশেষ সুযোগ যে ইংল্যান্ডে গিয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছি।’ ঈদের কেনাকাটাও করেননি মুস্তাফিজ। কাজটি তেমন ভাল না লাগায় সেটার দায়িত্ব দিয়েছেন পরিবারের অন্যদের। জানিয়েছেন ঈদের পুরোটা দিনই ঘরে বসেই কাটাবেন।