২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নবীনগরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে নির্যাতন


সংবাদদাতা, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১ জুলাই ॥ নবীনগরে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার মরিয়ম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। শুক্রবার হাসপাতালে গেলে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। তার চিৎকারে হাসপাতালের বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছিল। কান্নাজরিত কণ্ঠে মরিয়ম সাংবাদিকদের কাছে তার ওপর পাষ- স্বামীর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আবুদস সাত্তারের মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে ওই গ্রামের শিশু মিয়ার পুত্র মোঃ আওলাদ হোসেন প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২০১৪ সালের ৪ অক্টোম্বর কোর্টে ২য় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে। এ সময় তার কাছ থেকে তার স্বামী স্বর্ণালঙ্কারসহ ৫ লাখ টাকা যৌতুক নেয়। তারপর নানা অজুহাতে সে তার বাড়িতে না উঠিয়ে বাসা ভাড়া করে তাকে রাখে। প্রথম স্ত্রীর কুপরামর্শে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। স্বামীর শত অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করে আসছিল মরিয়ম। এ অবস্থায় এক সময় তার বাড়িতে নেয় মরিয়মকে। এরপর প্রথম স্ত্রী ও স্বামী মিলে বাপের বাড়ি থেকে আরও টাকাপয়সা এনে দেয়ার জন্য দিনের পর দিন নির্যাতন করতে থাকে। তাদের নির্যাতনের চাপে দুই-দুইবার তার গর্ভের দুটি বাচ্চা নষ্ট করতে বাধ্য হয়। এবারও সে গর্ভবতী। এরপরও থেমে নেই সেই মানুষরূপী পাষ- স্বামীর অত্যার্চা আবারও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে, অপারগতা জানালে তার ওপর চলে স্টিমরোলার। গত ২৭ জুন রাতে প্রথম স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও চাচা গোলাম মোর্শেদের পরামর্শে পরিকল্পিতভাবে তার হাত-পা বেঁধে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে বাড়ি থেকে তাকে বের করে দেয় পাষ- স্বামী। গ্রাম্য পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নবীনগর থানায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।