১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ঈদ ভাবনা


ভোরের আলোটা পুরোপুরি না ফুটে উঠতেই ফোনটা বেজে উঠল। আধঘুমো চোখে ফোনটা তুলে দেখি সাহিল ভাই ফোন দিয়েছে। ফোনটা ধরলাম। ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো তাড়াতাড়ি যেন আমি অপুকে নিয়ে বাসার নিচে নামি। আমরা ফটোওয়াকে যাব। অপু আমার ছোট ভাই। নতুন ছবি তোলা শিখেছে কিন্তু বেশ ভাল ছবি তুলে। ফটোওয়াকের কথা শুনতেই এক লাফে অপু রেডি। এটা হবে তার জীবনের দ্বিতীয় ফটোওয়াক। স্বাভাবিকভাবেই সে অনেক আগ্রহী। কোন মত রেডি হয়ে আমরা দুইজন নিচে নামতেই দেখি সাহিল ভাইয়ারা অলরেডি পৌঁছে গেছে।

সবাই মিলে একসঙ্গে ফটোওয়াকে গেলাম। ভোরের সূর্যটা তখনও ঠিকভাবে ওঠেনি। তাই অন্ধকারটাও কাটেনি। আবার আলোটাও যে খুব অস্পষ্ট তা নয়। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই একটি চায়ের দোকান পেলাম। চা হাতে নিতেই দেখলাম অপু কোথাও নেই। সবাই মিলে অপুকে খুঁজলাম। কিছুক্ষণ খোঁজার পর আবিষ্কার করলাম অপু আমাদের দৌড়ানোর ছবি পেছন থেকে তুলেছে আর সেগুলো ফারজানকে দেখাচ্ছে। দুইজন মিলে আমাদের দৌড়ানোর মজা নিচ্ছে।

চা খাওয়া শেষে আবার সবাই হাঁটা দিলাম। অবশেষে আমাদের অপেক্ষাকে ছুটি দিয়ে ভোরের দুরন্ত সূর্য চুপি চুপি দেখা দিতে শুরু করেছে। চায়ের কাপ রেখে সবাই ক্যামেরা ধরে প্রস্তুত। খালি সূর্যের মুখ দেখা মাত্রই সবাই ক্লিক দেব। যেই না সূর্যের মুখ দেখলাম সবাই দিলাম দৌড়। ছবি তুলব এমন সময়ে ধপাস একটি শব্দ আসল। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখি অপু পুরো কাদায় মেখে আছে। নিমিষেই সবাই বুঝে উঠলাম কি ঘটেছে।

ছবি তোলা বাদ দিয়ে এক হাসির রোল পড়ে গেল। কোথায় সূর্যের ছবি তুলব সবাই অপুর ছবি তোলা শুরু করে দিলাম। হঠাৎ এ ঘটনাটি আজ মনে পড়ল। মনে পড়বেই না বা কেন, গত বছর ঈদের কয়েকদিন আগে এভাবেই কেটেছিল অপু, বাবার সান্নিধ্যে। এই ঈদে আমি বাসায় যেতে পারছি না। ছোট্ট অপুটা যে কেমন আছে জানি না। বাবা-মাকে ছেড়ে চলে আসার পর এটা আমার প্রথম ঈদ। যতই দূরে থাকি না কেন আপনজনকে কি আর ভোলা যায়। আজ হয়ত দূর থেকেই বাবা আর অপুকে ঈদের শুভেচ্ছা দিচ্ছি। ঈদ মোবারক।