২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঈদের খুশি উপহার


দেখতে দেখতেই ঈদ চলে আসল। সিমনের স্কুল বন্ধ। ফাইভে পড়ে সিমন। প্রতিবারের মতো এবারও সে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাবে। এখন শুধু তার বাবার অফিস বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা। বাবা বলেছেন, এবার আর এত কষ্ট করে যানজট পেরিয়ে ঈদের আগের দিন গ্রামে যাবেন না। অফিস যেদিন বন্ধ দেবে সেদিনই বিকেলের ট্রেনে সবাই মিলে গ্রামে চলে যাবেন। যার জন্য আজই ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গেলেন তিনি। সিমনও বায়না করায় বাবা তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এর আগে সিমন কখনও স্টেশনে আসেনি। কারণ ঈদের ছুটিতেই তারা গ্রামের বাড়িতে যায়। আর আর প্রতিবারই বাসে করে।

স্টেশনে এসে সিমন বেশ অবাকই হলো। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সে যত বড় ভেবেছিল তার থেকেও বেশ বড়। আবার অন্যদের কাছে সে এও শুনেছিল যে, রেলওয়ে স্টেশনে নাকি খুব নোংরা পরিবেশ হয়। অনেক লোকজন, তবে অতটাও নোংরা আবর্জনাময় নয়। তবে সে অবাক হয়েছে, তারই বয়সী অনেকগুলো ছেলেমেয়ে খুব ভারী ভারী ব্যাগ মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে। বাবা বললেন, ঐসব ছেলেমেয়েরা নাকি স্টেশনেই থাকে। তাদের অনেকেরই মা-বাবা নেই। যাত্রীদের ব্যাগ ট্রেনে তুলে কিংবা ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়ে তারা রোজগার করে। কেউ আবার টোকাই এর কাজ করে। সিমনকে দেখিয়ে বলেছেন, দেখ ওদের শরীরে ঠিকমতো জামা কাপড়ও নেই। এবার সিমনের মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। সে কত সুন্দর একটা পোশাক পরে এখানে এসেছে। এমনকি এবারের ঈদেও বাবা তাকে অনেক সুন্দর দুইটা জামা কিনে দিয়েছেন। আর ওইসব ছেলেমেয়ে খালি গায়ে কিংবা কেউ কেউ ছেঁড়া আর ময়লা জামা পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেহেতু ঈদের বন্ধের প্রথম দিনের টিকেট, তাই তাড়াতাড়িই তারা টিকেট কেটে নিয়ে বাসায় ফিরে গেল। রাস্তায় সিমন আর কোন কথাই বলেনি। সে শুধু ভেবেছে, ইস্, যদি কোনভাবে ওই ছেলেমেয়েগুলোর জন্য সে কিছু করতে পারত তাহলে ওদের কিছুটা কষ্ট অন্তত কমতো। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসল।

আচ্ছা, এবার ঈদে ওদের একটা করে নতুন জামা উপহার দিলে কেমন হয়? নতুন জামা পেয়ে তারা নিশ্চয় খুব খুশি হবে। তার মাটির ব্যাংকটাও তো ভরে গেছে। এক বছর ধরে প্রতিদিন টাকা জমাচ্ছে। নিশ্চয় অনেক টাকা হয়েছে। বাসায় পৌঁছেই সে তার ঘর থেকে ব্যাংকটা হাতে নিয়ে মা-বাবার ঘরে চলে গেল। দুজনকে বলল- আচ্ছা, আমি যদি এই ব্যাংকটা ভেঙ্গে টাকাগুলো বের করতে চাই তোমরা কি রাগ করবে? মা উত্তর দিলেন- তোমার জমানো টাকা তুমি নেবে, এতে রাগ করার কি আছে? কিন্তু এখন তুমি টাকাগুলো দিয়ে কি করবে? তুমি না ব্যাংকের জমানো টাকা দিয়ে সাইকেল কিনতে চেয়েছিলে? সিমন- না আম্মু, সাইকেলটা আমার শখের জিনিস। কিন্তু এমন অনেকেই আছে যারা তাদের প্রয়োজনের জিনিসটাও ঠিকমতো কিনতে পারে না।

আমি এই টাকাগুলো দিয়ে নতুন জামা কিনে স্টেশনের গরিব ছেলেমেয়েদের ঈদের উপহার দিতে চাই। বিছানা থেকে নেমে বাবা এবার তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, বাহ, তুমি যে এত সুন্দর একটা সিদ্ধান্ত নেবে তা ভাবতেও পারিনি।

ঠিক আছে ব্যাংক ভেঙ্গে টাকা হিসাব করি চল। কম পড়লে আমিও সেখানে কিছু টাকা যোগ করে দেব। ব্যাংক ভাঙ্গার পর হিসাব করে দেখা গেল প্রায় সাত হাজার টাকা জমা হয়েছিল। বাকি টাকা বাবা যোগ করে মোট দশ হাজার টাকার নতুন জামা কিনল তারা। আর সিদ্ধান্ত নিল গ্রামে যাওয়ার দিন স্টেশনে পৌঁছে প্রথমে তারা নতুন জামাগুলো ওই ছেলেমেয়েদের দিয়ে তারপর ট্রেনে উঠবে।

দেখতে দেখতে বাবার অফিস বন্ধ হয়ে গেল। সিমন আর তার মা-বাবা গ্রামে যাওয়ার জন্য সবকিছু গুছিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাল। এরপর স্টেশনের কয়েক কর্মচারীর সাহায্য নিয়ে গরিব বাচ্চাদের ডেকে আনলেন। ধীরে ধীরে অনেক ছেলেমেয়ে লাইনে এসে দাঁড়ালো।

সমন নিজ হাতে সবাইকে একটা একটা করে নতুন জামা বিতরণ করল। সকলের চোখেমুখে যেন খুশির হাসি। সিমনও খুশি সবাইকে ঈদের হাসি উপহার দিতে পেরে।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

দ্বাদশ শ্রেণী