২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে বিপাকে যশোর পৌর কর্তৃপক্ষ


স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ ভবন অপসারণে মালিকদের বার বার নোটিস দিয়েও কোন ফায়দা হয়নি। দু’একটা ছাড়া কোন ভবনই সংস্কার হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষ এ সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে কোন উত্তর আসেনি বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

যশোর শহরের বড় বাজার, জেল রোড, দড়াটানা, আরএন রোড, বেজপাড়া, রেলরোড, চৌরাস্তা, এইচএমএম রোডসহ শহরের বাণিজ্যিক ও ব্যস্ততম এলাকায় অনেক পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। যার অধিকাংশ ভবনই বহুতল। সে সব ভবনে চলছে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অথচ যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। পৌর কর্তৃপক্ষ এসব ভবন অপসারণে বহুবার তাগিদ দিয়ে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু তাতে দু’একজন ছাড়া অন্য মালিকদের সাড়া মেলেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পৌরসভার হিসেবে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এর মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ বহুতল ভবন রয়েছে ৫৪টি। এসব ভবনে মানুষের বসবাসের পাশাপাশি চলছে বাণিজ্যিক কাজও। পৌরসভা এসব ভবন অপসারণে মালিকপক্ষকে কয়েক দফা চিঠিও দেয়। সম্প্রতি দেশে কয়েকটি ভূমিকম্প হয়েছে। এতে করে ওইসব ভবন ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। ফলে শহরবাসী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগ চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯এর ২য় তফসিলের ধারা ৩৭ (১) (২) মোতাবেক, ১৬.০২.০০৮.০০৪.২০১৬ স্মারক সংবলিত একটি নোটিস ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিকদের দেয়। এ চিঠি পাবার পর জেল রোডের জামান মোল্লার ১শ’ বছরের পুরনো দোতলা ভবন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র সড়কের রিজভী জাহাঙ্গীর কিবরিয়ার ৮০ বছরের পুরনো দোতলা ভবন এবং আরএন রোডের আতাউল্লাহর ১৫০ বছর প্রাচীন একতলা ভবন, খুলনা বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবদুুর রহমানের একতলা ভবনগুলো অপসারণ করেন। কিন্তু বাকীরা তেমন কোন সাড়া দেননি। জানা যায়, পৌরসভার তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে শহরের নেতাজী সুভাষচন্দ্র সড়কে আক্তার হোসেনের ভবন, গরীব শাহ সড়কে এমএম কলেজের পুরনো হোস্টেল এবং গুরুদাস বাবু লেনের অমূল্য রতন ধরের অর্পিত সম্পত্তির ওপর একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এসব ভবনের অবকাঠামো শতাধিক বছরের পুরনো। ভবনগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। তাছাড়া নলডাঙ্গা রোডের সাবিনা খাতুনের একতলা এবং একই এলাকার মনিরুজ্জামান, রুহুল আমিন ও দীন মোহাম্মদের দোতলা, গয়ারাম রোডের বর্ষা খাতুনের দোতলা, ৬নং ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন সড়কে আসাদুজ্জামান ও লতিফ মিয়ার বাসভবন, এমএমএ করিম রোডে মোহাম্মদ আলীর আবাসিক ভবন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র রোডে বাংলাদেশ স্কাউট ভবন, জেল রোডে নূর বক্স, ডা.আমজাদ আলী, রমজান আলী, আবদুল আজিজ, নূরু সিকদার ও জামাল আহমেদের মালিকানাধীন ভবনের দেয়াল ফেটে যাওয়াসহ ছাদের বেশকিছু অংশ খসে পড়েছে। এসব ভবনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ বছর আগে। পৌরসভার চিঠি প্রাপ্ত নিশ্চিত চক্রবর্তী জানান, তার একটি ভবন আছে। যা ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায়। কিন্তু তার পুরো অংশ ঝুঁকিপূর্ণ না।

এক অংশ মেরামত করা প্রয়োজন। এমন সমস্যা জানিয়ে তিনি পৌর কর্তৃপক্ষকে চিঠির উত্তর দেন। কিন্তু অন্যরা এটাও করেননি। যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আহসান বারী জানান, শহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা চার বছর আগের তৈরি। তিনি জানান, ২০১৩ সালে সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর সরকারীভাবে সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। ওই সময় যশোর পৌরসভা ১৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকায় সরকারী-বেসরকারী অফিস ও আবাসিক ভবনসহ অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ তালিকা প্রস্তুতের পর মালিকদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের তাগিদ দেয়। তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ইচ্ছা করলেই পৌরসভা উচ্ছেদ করতে পারে না। অধিকাংশ ভবন নিয়ে কোর্টে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলে আসছে। যার কারণে ভবনগুলো মালিকরা ভাঙতে পারছে না। এ সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠনো হয়েছে। তবে এখন কোন উত্তর আসেনি।