২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও নৈরাজ্য বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির


স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। শুক্রবার ‘ঈদযাত্রায় দূর্ভোগ : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেলক হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে নগরীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক যোগাযোগ সচিব ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, টিকেট ব্যবস্থাপনাসহ নানা ক্ষেত্রে ঈদ ব্যবস্থাপনায় গলদ রয়েছে। এ কারনে পদে পদে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিরোধে বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে প্রতিবছর ঈদে গতানুগতিক পদ্ধতিতে ভিজিল্যান্স টিম বা মনিটরিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে কোথাও তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। দুর্ভোগের শিকার যাত্রীরা রাস্তায় আহাজারি করলেও কারো সহযোগিতা মেলে না। ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় দেশের দশটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে এক হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হলেও এখনও তাদের অস্তিত্ব মেলেনি। এসব স্বেচ্ছাসেবকরা প্রশিক্ষিত না হলে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবার সমূহ সম্ভাবনাও বিরাজমান।

সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেলক হক চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া সত্তেও প্রতিবছর ঈদ আনন্দ যাত্রায় ভোগান্তি, ভাড়া নৈরাজ্যসহ নানাভাবে যাত্রী সাধারণ হয়রানির শিকার হয়। তিনি আরো বলেন, যাত্রী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মরত সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সম্প্রতি পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে চলাচলরত যাত্রীদের চাহিদার বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে গণ-পরিবহনে ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।

প্রতি বৃহস্পতিবার বা জোড়া সরকারি ছুটির আগের দিন এই ঘাটতির পরিমাণ ৫১ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছায়। প্রতি ঈদে ২২ রমজান থেকে ২৭ রমজান পর্যন্ত এই গণপরিবহনে ঘাটতির পরিমাণ ৮৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ হলেও ২৭ রমজান থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত বিদ্যমান গণপরিবহনের ১০ গুণ বেশি যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। এই সময় যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় গণপরিবহনের সংকট দাঁড়ায় ৩৭৪ দশমিত ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত। এই সংকটকে পুঁজি করে ঘটে থাকে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও হয়রানি। প্রকৃতপক্ষে গণপরিবহনের চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে আমাদের সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে গলদঘর্ম হতে হয়।

এবারের ঈদে লম্বা ছুটি কাজে লাগাতে ঢাকা থেকে ৯২ লাখ, চট্টগ্রাম মহানগর থেকে ৩১ লাখ, সিলেট থেকে ৮ লাখ, খুলনা থেকে ১২ লাখ, রাজশাহী থেকে ৯ লাখ, বরিশাল থেকে ৩ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাবে। এর মধ্যে ৩ লাখ যাত্রী ওমরা পালন সহ বিদেশে ঈদ ভ্রমণ করবে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অপর জেলায় যাতায়াত করবে আরো ৪ কোটি ৬০ লক্ষ যাত্রী। দেশের প্রায় প্রতিটি মহাসড়কে চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ, বিভিন্ন মহাসড়কে রাস্তার মাঝে সৃষ্ট গর্ত, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলমান ফ্লাইওভার নির্মাণ, বিভিন্ন রোডের বিভিন্ন স্পটে রাস্তার উপর বসা হাটবাজার এইবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে। এ ছাড়াও নৌ-পথে দুর্যোগপূর্ণ বর্ষা মৌসুম। তাই নৌ-পথে ওভারলোড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা না হলে দূর্ঘটনা ও প্রাণহানির ব্যাপক সম্ভাবনা বিরাজমান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: