১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আ ন ন্দ ম য় ঈ দ


অনবদ্য শিল্পীর ছোঁয়া, রং রূপের যেন এক মহাসম্মিলন ঘটে এই দেশে। যে দেখে সেই ভালোবেসে ফেলে এই দেশটাকে। সেই সঙ্গে যদি যোগ হয় কোন উৎসব তাহলে তো কথাই নেই। উৎসবের রঙিন আকাশের বর্ণিল আভা যেন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তেমনি এক উৎসব হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর, মুসলমানপ্রধান ধর্মীয় উৎসব। যে কারণে মুসলিমপ্রধান এই দেশে এ উৎসবের মাত্রা যেন বহু গুণে বৃদ্ধি পায়, এ উৎসবে একে অপরকে উপহার দেয়াটাও একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আর এ উপহারের তালিকায় পোশাক হচ্ছে অন্যতম। আজকের এই আয়োজনে এসব নিয়ে লিখেছেন-

বছর ঘুরে প্রাঙ্গণের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে মুসলমানদের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদকে উপজীব্য করে সমগ্র দেশজুড়ে চলছে মহা উৎসাহ। এই আনন্দঘন উৎসাহের রেশ যখন সর্বত্র পরিলক্ষমান। জীবনে যেমন ঈদের উচ্ছ্বাসের রঙবেরঙের আবেশময়। এক অন্যরকম অনুভূতি জাগিয়ে দিয়েছে তেমনি দৈনন্দিন প্রেক্ষিতের রূপটাও বদলে দিয়েছে প্রতিবছরের ঈদের মতোই। সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যেই ঈদ নিয়ে এক অভিন্ন আনন্দময় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে তুমুলভাবে। অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ফ্যাশন ট্রেডেও চলছে বিশাল আয়োজন। যে আয়োজনের লক্ষ্য হলো দেশের কোটি কোটি নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী ও শিশু।

ঈদ ঘিরে এই যে বিপুল আয়োজন ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন হাউসগুলোতে চলছে, এর ঢেউ লেগেছে জেলা ও মফস্বল শহরেও। এক মহা উৎসবের সাজে যেন সেজে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। একসময় নন ব্রান্ডিড ড্রেসের ওপরেই ক্রেতাদের নির্ভরশীলতা প্রত্যক্ষ করা গেলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে ধীরে ধীরে সেই ধারায় দেশীয় ফেব্রিক্স এবং দেশীয় মোটিফের ডিজাইনকৃত বিভিন্ন ড্রেসের ক্ষেত্র বিস্তৃত হতে থাকে কয়েকটি ফ্যাশন হাউসকে কেন্দ্র করে। বর্তমানে ওই ধারাটি তরঙ্গময় ছন্দে যেন ক্রেতার চোখের সামনে নান্দনিকতার রঙে জড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে অনাবিল আনন্দে। ঈদ যদিও একটি ধর্মীয় উৎসব। তদুপরি এই ধর্মীয় উৎসবের মর্মে বাঙালী সংস্কৃতি ও দেশাত্মবোধের আবেগও জড়িয়ে গেছে গভীরভাবে। সব মিলিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চলছে ঈদের আমেজ। ঈদের এই আমেজের বিশালত্বটা ফ্যাশন হাউসেই বেশি চোখে পড়ে। ঢাকার ফ্যাশন লনে ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে নতুন ড্রেস নিয়ে ইতোমধ্যে ঈদের আউটলেটগুলো যেন নতুন কনের মতো সেজেগুজে বসেছে। বড় এবং ছোট সব ফ্যাশন ঈদের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠেছে যার যার মতো করে।

ঢাকার সব ফ্যাশন জুড়ে থাকছে ঈদের বিশেষ বিপুল আয়োজন। এছাড়া মিরপুর বেনারসী পল্লী, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁওয়ে জামদানির বিশেষ ঈদ আয়োজন চলছে বিপুল উদ্যমে। এর পাশাপাশি টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির অফুরন্ত চাহিদা তো দেশজুড়ে রয়েছেই। এবং এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পীরাও কয়েকমাস আগে থেকেই ঈদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন।

শাড়ি-সালোয়ার

ঈদের পোশাকের অন্যতম আকর্ষণ হলো থ্রিপিস, শাড়ি, শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শিশুতোষ পোশাক এবং শর্ট পাঞ্জাবি ও ফতুয়া। তবে উল্লিখিত প্রতিটি ড্রেসই হবে বেশ গর্জিয়াস কিন্তু মার্জিত রুচিস্নিগ্ধ ডিজাইনের। থ্রিপিস ৩০০০-১০০০০, শাড়ি টাঙ্গাইলের ২০০০-১৫০০০, সুতি সিল্ক জামদানি ৩০০০-২৫০০০, বিভিন্ন ডিজাইনের বেনারসী ৩০০০Ñ১০০০০, শার্ট ৮০০-২০০০, প্যান্ট ১০০০-৩০০০, পাঞ্জাবি ১২০০-৬০০০, পাঞ্জাবি ৩০০-৫০০ টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়। শর্ট পাঞ্জাবি ৮০০-১৬০০, শিশুতোষ পোশাক ১২০০-৪৫০০, টপস ৬০০-১৫০০, ফতুয়া ৬০০-১০০০ টাকার মধ্যে সংগ্রহ করা যাবে।

ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রতিটা পরিবারেই শুরু হয়ে গেছে বাজেট নিরূপণের কাজটি। বাজেট পেশের পর পাস হয়ে গেলেই সারাদেশের শপিংমল এবং গঞ্জের ড্রেস হাউসগুলোতে উপচে পড়বে মানুষের ঢল। মানুষের এই ঢল যে শুধু ফ্যাশন হাউসগুলোতেই চোখে পড়বে তা কিন্তু নয়। ভিড় শুরু হয়ে যাবে অনিবার্য রূপে জুতোর দোকান, কসমেটিক শপ, জুয়েলারি, অর্নামেন্ট বিপণি, বিউটি পার্লার এবং মোবাইলের শোরুম পর্যন্ত। যে যার মতো ঈদ কালেকশন করবে। কিনবে পছন্দের পারফিউম, ভ্যানিটি, ব্রেসলেট সানগ্লাসসহ বিভিন্ন আইটেম। সব মিলিয়ে ঈদের প্রস্তুতিটা ঢাকাসহ মফস্বল শহরের সর্বত্র এক অভিন্ন ইমেজ নিয়ে গুঞ্জরিত হচ্ছে। এই গুঞ্ছরণের তরঙ্গ মালাই আসন্ন ঈদের দিনে ছড়িয়ে পড়বে আনন্দ মূর্ছনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে গভীর উদ্দীপনায়।

নান্দনিক পাঞ্জাবি

রোদঝলমলে প্রহরে-তারুণ্যের ফ্যাশনস্টাইল আবহ যেন আরও বেশি উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। ফ্যাশনের এই আবহ আর আবেশটা ঈদে যেন এক নতুন মাত্রা পায়। সময়ের উজ্জ্বল প্রান্তরে ঈদ উৎসবের আনন্দটা তারুণ্যের মধ্য দিয়ে প্রবল আলোয় ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের আনন্দমুগ্ধ প্রবাহটা যে শুধুমাত্র তারুণ্যের মধ্যই সীমাবদ্ধ থাকে তা কিন্তু নয়। ঈদের আনন্দটা শিশু-কিশোর, কিশোরী থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষই যার যার মতো অনুভব করে, উদযাপন করে। তবে তরুণদের মধ্যে ঈদের উচ্ছল উচ্ছ্বাস যেন ভিন্ন এক আনন্দময় আবাহনের সূচনা করে। এই আনন্দকে আরও শিল্পময়, সুন্দর করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন হাউসগুলো প্রতি ঈদকে সামনে রেখেই বিপুল আয়োজনসম্পন্ন করে। ভিন্ন ভিন্ন ড্রেসের পাশাপাশি পাঞ্জাবি, শর্ট পাঞ্জাবি, ফতুয়া তৈরি করে আধুনিক ডিজাইনে দেশীয় ফেব্রিক্সে তৈরি এই লং ও শর্ট পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়ার প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণও রয়েছে তরুণ প্রজন্মের।

ঈদের আর দেরি নেই। তাই চলছে এখন অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে পাঞ্জাবি সংগ্রহের প্রস্তুতি। ঈদের নামাজ পড়ার জন্য মনের মতো সুন্দর একটা পাঞ্জাবি যে কারও ভাল লাগাকে পরপূর্ণ করে দেবে। তারুণ্যের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে তাই রুচিশীল, নান্দনিক ডিজাইনের বর্ণোজ্জ্বল পাঞ্জাবি নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। সুতি তাঁত, সিল্কের ওপর সৌন্দর্যময় শিল্পিত কারুকার্য খচিত পাঞ্জাবি আবেদন সব সময়ের। হাল্কা কারুকাজের পাঞ্জাবি যেমন আউটলেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি গর্জিয়াস পাঞ্জাবিও কালেক্ট করা যাবে পছন্দ অনুযায়ী। ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে পাঞ্জাবিতে তারুণ্যের ঈদের আমেজ যেমন পূর্ণতা পাবে, একইভাবে এর আউটলেটটাও বেশ মার্জিত এবং হবে স্টাইলিশ। সব মিলিয়ে ঢাকা এবং জেলা শহরের ফ্যাশনহাউস থেকে এই শিল্পমুগ্ধ লং ও শর্ট পাঞ্জাবি, ফতুয়া সংগ্রহ করা যাবে বিভিন্ন দামে।

ঈদের জুতা

বর্তমানে ফ্যাশন সচেতনতার এ সময়ে সবাই চায় নিজেকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপস্থাপন করতে। তাই পোশাক নির্বাচনে সময় উপযোগী স্টাইল ও ফ্যাশন এখন আমাদের চাই-ই চাই। বিশেষ করে মেয়েরা যেন একটু বেশিই এগিয়ে ফ্যাশন সচেতনতায়। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে হ্যান্ডব্যাগ, অরনামেন্টস সেই সঙ্গে সাজ আর পাশাপাশি সুজ ম্যাচিংয়ের ব্যাপারটি তো থাকছেই। যে কোন পোশাক নির্বাচনে ম্যাচ করে সুজ বাছাই করাটা খুব জরুরী। শুধু মেয়েরাই নয়, বরং ছেলেরাও পরিবেশ বা অবস্থাভেদে এক এক পোশাকের জন্য এক এক ধরনের সুজ নির্বাচন করছে। সু-ফ্যাশন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান লাইফ স্টাইল জগতে।

আমাদের দেশে হাইহিল, লো-হিল, ফ্লিপার, সিøপার, স্কিপার, পাম্প, স্যান্ডেল বেশ জনপ্রিয়। তবে বিগত বছরগুলোতে সিøপার স্যান্ডেল বা স্কিপারের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে ফ্যাশনের সেই সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে সু নির্বাচনের বিষয়টিও। সু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফ্যাশনের পাশাপাশি সেটি কতটুকু পারফেক্ট বা আরামদায়ক আপনার জন্য তা মাথায় রাখতে হবে। সঠিক সু নির্বাচন আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে সেই সঙ্গে পায়ের সেইপটাও ঠিক রাখবে। যেহেতু ঘরের বাইরে আমাদের অনেকক্ষণ থাকতে হয় তাই সু নির্বাচনে সবার প্রথমে আরামদায়ক হবে কি না তা আগে মাথায় রাখতে হবে পাশাপাশি কালভেদেও সেটি উপযোগী কি না তা দেখতে হবে।

বর্ষাকালের এ সময়ে একটু ভেবেচিন্তে সু নির্বাচন করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সে ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য লো হিল, স্কিপার বা স্যান্ডেল বেশ উপযোগী। বিশেষ করে স্টুডেন্টের জন্য লো হিল, সিøপার, স্যান্ডেলটা অত্যাবশ্যকীয়। তবে যেহেতু বৃষ্টির কারণে প্রায় অনেক জায়গায় কাদা হয়ে আছে তাই স্কিপার সু নির্বাচনে পারফেক্ট চয়েজ হবে এই বর্ষায়। স্টুডেন্টরা কাপড়ের বা প্লাস্টিকের দু’ধরনেরই সিøপার পড়তে পারেন তবে প্লাস্টিক সু-ই হবে সঠিক পছন্দ। আর ছেলেরা রাবার বা ওয়াটার প্রুফ স্যান্ডেল নির্বাচন করতে পারেন এ বর্ষায়। তবে যাঁরা কর্মরত আছেন, তাঁরা চেষ্টা করবেন ফুল লেদারের সোপ সুজ ব্যবহার না করতে, এতে পানিতে আপনার সুজটি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। এ্যাপেক্স বা বাটা আপনাদের জন্য ফরমাল সুজ নিয়ে এসেছে এই বর্ষায়, যা পাবেন ২০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও মেয়েদের ফ্ল্যাট বা সিøপার স্যান্ডেল পাওয়া যাচ্ছে আড়ং-এ ৩৫০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে। ছেলেদের ফ্যাশনেবল স্যান্ডেলও পাওয়া যাচ্ছে আড়ং-এ মাত্র ৮৫০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে।

বর্তমানে স্কিপার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্কিপার এবং ব্যালট ফ্ল্যাটস বেশ ফ্যাশনেবল সুজ। আর পাশাপাশি বর্ষায়ও উপযোগী। রাবার বা প্লাস্টিকের স্কিপার ও তৈরি করা হয়েছে বর্ষাকালের উপযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে। তবে ফ্যাশনেবল ড্রেসের সঙ্গে ভাল মানের সুন্দর সিøপার নির্বাচন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এই বর্ষায় সব সময় পড়ার জন্য রাবার বা প্লাস্টিকের এসব সিøপার পাওয়া যাচ্ছে বসুন্ধরা সিটি, আলমাস, এলিফ্যান্ট রোডে। নানা রঙের ও নানা ডিজাইনের এসব ফ্যাশনেবল সুজ আপনার ব্যক্তিত্বকে আরও ফুটিয়ে তুলতে পারে। এসব রাবার বা প্লাস্টিকের সিøপার পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় আর ফ্যাশনেবল কাপড় বা লেদারের স্কিপার পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে।

পাম্প সু আমাদের দেশে বেশ ব্যবহৃত হয়। তবে চেষ্টা করবেন যেন শাড়ি বা চুড়িদারের সঙ্গে পাম্প সু না ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সঙ্গে লো-হিল্্ড স্যান্ডেল, স্কিপার বা পাম্প সু বেশ উপযোগী। ফ্যাশনেবল পাম্প সুজগুলো আপনি পাবেন এলিফ্যান্ট রোডে, যার মূল্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

তবে বর্ষাকালে হলেও পার্টি যেহেতু থেমে থাকবে না তাই পার্টি সুজ ঘরে রাখাটা জরুরী। পার্টিতে শাড়ি বা সেলোয়ার-কামিজ বা ওয়েস্টার্ন ড্রেস যাই পরা হোক না কেন এর সঙ্গে হাই হিলটাই বেশ মানানসই। আলমাস-এ ফ্যাশনেবল ও জাঁকজমকপূর্ণ এসব হাইহিল পাবেন ৮৫০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। তাই পোশাকের পাশাপাশি বেছে নিন আপনার পছন্দের উপযোগী সুজটি আর নিজেকে তৈরি করুন একজন পারফেক্ট ফ্যাশনেবল মানুষে।

ছোটবেলার ঈদ

উৎসব মানেই আনন্দ। আর যে কোন উৎসবমুখী আনন্দের রেশ বেশি করে স্ফুরিত হয় শিশুদের মনে। বিশেষ করে বালক, বালিকা এবং কিশোর-কিশোরীদের মনে যে উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয় তা আর অন্য কারও মধ্যে তেমনটি চোখে পড়ে না। ছোটবেলাকার ঈদের মজাই যেন অন্য রকম।

সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে ফ্যাশন হাউসগুলো নেয় বাড়তি প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতি প্রতি ঈদেই লক্ষ্য করা যায়। অবশ্য সোনামণিদের ঈদের পোশাকে প্রতিবারই ফ্যাশন ডিজাইনাররা নতুন নতুন মোটিফের উৎসারণ ঘটায়। আর এই আকর্ষণীয় ডিজাইনের ড্রেস বিভিন্ন আউটলেট থেকে বাচ্চাদের জন্য গভীর আগ্রহ নিয়ে ক্যালেক্ট করেন অভিভাবকরা।

অন্যান্য ঈদের মতো এই ঈদেও তেমনি ব্যাপক আয়োজন সম্পন্ন করেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। এবারের বাচ্ছাদের ঈদ ফ্যাশনে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, গেঞ্জির বিশেষ সংগ্রহ অডিটলেটে পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে একটা বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে যে- বড়দের মতো ছোটরাও সম্প্রতি ফ্যাশনসচেতন হয়ে উঠেছে। ছোটদের পছন্দকে তাই বাবা- মাকে প্রাধান্য দিয়ে ড্রেস কিনে দিতে হয়। এবং ছোটরা তাতে খুশিও হয়।

একটা সময় ছিল যখন ছোটদের পোশাক কেনার জন্য বাবা-মায়েরা রেডিমেট ড্রেসের শপিং পয়েন্টের ওপর ছিলেন নির্ভরশীল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এখন সেই ধারা বদলে গিয়ে দেশের প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইনারদের করা পোশাক নির্দিষ্ট ফ্যাশন হাউস থেকে ক্রয় করছেন। দেশীয় মোটিফে সুন্দর ব্যতিক্রমী ডিজাইনের এই পোশাক বহন করে দেশাত্মবোধের বিষয়টিও। অভিভাবকরাও দেশীয় পোশাক কিনতে আগ্রহ নিয়ে খ্যাতনামা আউটলেটে যাচ্ছেন ছোটদের সঙ্গে করে। এদৃশ্য সব উৎসবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতেই বোঝা যায় ফ্যাশনচেতনা সবার মনকেই ছুঁয়ে যায়।