১৫ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে তুরস্ক ও আইএস!


তুরস্কের ইস্তানবুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে তিন আত্মঘাতীর প্রকাশ্য হামলা তুরস্ক ও ইসলামিক স্টেটের মধ্যে আরও হিংসাশ্রয়ী লড়াইয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে। এ ঘটনা সিরীয় গৃহযুদ্ধে তুরস্ককে আরও গভীরভাবে জড়িত করবে। মঙ্গলবারের হত্যাকা-ের জন্য কেউ দায়িত্ব স্বীকার করেনি, কিন্তু তুর্কি কর্মকর্তারা ঐ হামলার জন্য সুন্নি চরমপন্থীদের দায়ী করেন। হামলায় ১ ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত ২৩৯ জন আহত হয়। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

এটি ছিল চলতি বছরের মধ্যে ইস্তানবুলে পঞ্চম বোমা হামলা এবং এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রে আঘাত করে। কুর্দি জঙ্গীরা সম্প্রতি ইস্তানবুলে বিভিন্ন লক্ষ্যস্থলে আঘাত করে থাকলেও, বিশ্লেষকরা বলেন, বিমানবন্দরের হামলাটিতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জড়িত থাকার সব আলামতই দেখা যায়।

বুধবার তুরস্কের এক উর্ধতন কর্মকর্তা হামলার বর্ণনা দেন। প্রথমে এক জঙ্গী আন্তর্জাতিক টারমিনালের নিচ তলার এ্যারাইভাল এরিয়ায় বিস্ফোরণ ঘটায়। এর কয়েক মিনিট পর দ্বিতীয় হামলাকারী উপরতলার ডিপার্চার এরিয়াতে এক বোমা ফাটায়। শেষে তৃতীয় হামলাকারী আগের হামলাগুলো থেকে বাঁচতে লোকজনের পালিয়ে যাওয়ার সময় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে পার্কিং এরিয়াতে বিস্ফোরণ ঘটায়। কোন পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের গুলিবিনিময় হয়, তা ঐ কর্মকর্তার বর্ণনা থেকে সৃষ্ট হয়। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা ভীতিভাব সৃষ্টি এবং সহযাত্রীদের আহত হওয়ার বর্ণনা দেন।

সুইডেন থেকে ইরাকগামী এক পরিবারের সঙ্গে থাকা ১৫ বছরের ফয়সল রশিদ বলল, ‘এ এক অরাজকতা। কারও কোন দায়িত্ব ছিল না। আমরা সবাই কেবল বাইরে দৌড় দিলাম। আমরা কি করছিলাম তা জানতাম না। আমরা শুধু ভাবছিলাম, আমরা মারা যেতে পারি।’

যখন তুরস্ক আগেকার সহিংসতাজনিত দুঃখকষ্ট ভোগ করছে, তখন বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ঐ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি দেশটিকে আইএসের সঙ্গে এক পুরোদস্তুর যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসিতে কর্মরত টার্কিশ রিসার্চ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর সোনার ক্যাগপটে বলেন, যদি এ হামলার পিছনে আইএসের হাত থেকে থাকে, তবে তা এক যুদ্ধ ঘোষণানই শামিল হবে। এ হামলা ভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে কয়েক ডজন লোকের মৃত্যু।

তিনি বলেন, এর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান একে ছেড়ে দিতে পারেন না। এরদোগান নিজেকে এক শক্তিশালী রক্ষণশীল নেতা হিসেবে দেখিয়ে থাকেন।

তুরস্ক ইতোপূর্বে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পদক্ষেপ নেয়। প্রতিবেশী সিরিয়াতে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের মধ্যে আইএস শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কিন্তু চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে দ্বিধা করার দায়ে তুরস্ককে দোষারোপ করেন সমালোচকরা।

কয়েক বছর ধরে তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গীদের দেখেও না দেখার ভান করে। জঙ্গীরা সেই সুযোগে সিরিয়ায় অনুপ্রবেশ করে। সিরিয়ায় ইসলামপন্থী বিদ্রোহী ও অন্যরা সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এসেছে।

তুরস্ক চায় সিরিয়ার নেতা ক্ষমতা ছেড়ে দিক এবং জঙ্গীরা সিরিয়ার নিজস্ব স্বায়ত্তশাসনকামী কুর্দিদের বিরুদ্ধে পাল্টা শক্তি হিসেবে দাঁড়াক। তুরস্কের জাতিগত কুর্দি সংখ্যালঘুরা তুর্কি রাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বেশি স্বশাসন চায়। উত্তর সিরিয়ায় এক কুর্দি ছিটমহলের উদ্ভব জাতীয়তাবাদী তুর্কিদের উদ্বিগ্ন করছে। এটি তুরস্কের কুর্দিদের উৎসাহ যোগাতে পারে বলে তুর্কিদের আশঙ্কা।