২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

শাস্ত্রীর মন্তব্যে মর্মাহত গাঙ্গুলী


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ইতোমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরবর্তী কোচ নিয়োগ হয়ে গেছে। এক বছরের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক লেগস্পিনার ও অধিনায়ক অনিল কুম্বলে। কোচ নিয়োগের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ছিল সাবেক তিন ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকর, ভিভিএস লক্ষণ ও গাঙ্গুলীকে নিয়ে একটি কমিটি। কোচ হিসেবে আবেদন করা ৫৭ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কুম্বলে ও শাস্ত্রীই টিকে ছিলেন। এদের মধ্যেই একজন কোচ হবেন সেটাও নিশ্চিত ছিল। তবে শাস্ত্রীর সাক্ষাতকারের সময় অনুপস্থিত ছিলেন গাঙ্গুলী। আর এটাকে অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন এতদিন ভারতের টিম ডিরেক্টর কাম কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাস্ত্রী। তার এমন কথায় দারুণ মনঃকষ্ট পেয়েছেন গাঙ্গুলী। এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন শাস্ত্রীর কথায় তিনি দারুণ কষ্ট পেয়েছেন।

এবার ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়েই ছিল শোরগোল। প্রায় প্রতিদিনই দারুণ আলোচনা ছিল বিষয়টি নিয়ে। একের পর এক আবেদনও পড়তে শুরু করে। সবমিলিয়ে পড়ে ৫৭টি আবেদন। সেখান থেকে শাস্ত্রী অথবা কুম্বলের মধ্যে একজনকে বেছে নেয়া হবে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় বিষয়টি। কোচ নিয়োগের উপদেষ্টা প্যানেলে ছিলেন তিন সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সেক্রেটারি সঞ্জয় জাগদালে। কোচ হওয়ার দৌড়ে শাস্ত্রীর বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কুম্বলে। শাস্ত্রীর প্লাস পয়েন্ট ছিল গত ১৮ মাস দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন। মার্চে শেষ হওয়া টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টিম ডিরেক্টর শাস্ত্রী এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে কে কোচ হিসেবে উপযুক্ত এবং দলের ক্রিকেটারদের প্রিয় সেটাও এখানে বড় বিষয় ছিল। শেষ পর্যন্ত কুম্বলে ভারতের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু সমালোচনা ও বিতর্কের শুরু হয় যখন শাস্ত্রী দাবি করেন যখন তিনি বিসিসিআইয়ে কোচ হওয়ার জন্য সাক্ষাতকার দিয়েছেন সে সময় প্যানেলের একজন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। সেই ব্যক্তি ছিলেন গাঙ্গুলী। এই অনুপস্থিতি নিয়ে শাস্ত্রী দাবি করেন, প্যানেলের একজন অনুপস্থিত থেকে একজন প্রার্থী যে কিনা সাক্ষাতকার দিতে এসেছে তার প্রতি অমর্যাদা করা হয়েছে এবং যে কাজটা বিশ্বস্ততার সঙ্গে তিনি করার জন্য দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেটার প্রতিও অসম্মান করেছেন।

জানা গেছে গাঙ্গুলীকে ওইদিন ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থিত থাকতে হয়েছিল। কারণ তিনি সিএবি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে রয়েছেন। গাঙ্গুলী দাবি করেন তিনি উপদেষ্টা কমিটিকে জানিয়েই সিএবির পথে রওনা দিয়েছেন এবং এটাও নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি না থাকলেও অভিজ্ঞ কমিটির কোন সমস্যা হবে না সঠিক প্রার্থীকে খুঁজে পেতে। এ বিষয়ে গাঙ্গুলী বলেন, ‘আমি শুধু এটাই বুঝতে পারছি যে এই মন্তব্যটা খুবই ব্যক্তিগত। যদি রবি শাস্ত্রী ভেবে থাকেন যে তিনি ভারতের কোচ না হওয়ার জন্য আমিই দায়ী, তিনি বোকার পৃথিবীতে বাস করছেন। এটা একটা কমিটি এবং সেখানে আমার চেয়েও উজ্জ্বল ভাবমূর্তির মানুষ আছেন। এছাড়া আরও মানুষ আছেন যারা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করেছেন। সুতরাং তার এমন মন্তব্য খুবই হতাশাজনক। আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি যখন তিনি সরাসরি এ ধরনের কথা বললেন। বিশেষ করে গত ২০ বছর ধরে যিনি বিসিসিআইয়ের প্রায় সব ধরনের কমিটিতেই দায়িত্ব পালন করেছেন তার এমন মনোভাব আমাকে কষ্ট দিয়েছে।’

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: