২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ছায়ানটের বর্ষবরণ ছাড়া আর কোন অনুষ্ঠান নয় রমনায়


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ায় ছায়ানটের বর্ষবরণ ছাড়া রমনা পার্কে আর কোন অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানের ফলে রমনা পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে অনেক দুর্লভ বৃক্ষ ও তরুলতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং পার্কের ঐতিহ্য হারাচ্ছে। এ সব অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ হকারদের উপদ্রবে রমনা পার্কের জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

রমনা পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ঐতিহ্য সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের বর্ষবরণ ছাড়া অন্য কোন সংগঠনকে কোন সময়ে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয়া হবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রমনা পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ঐতিহ্য সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে একটি বেসরকারী সংগঠন এক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে রমনা পার্কের ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনা দেখে সেমিনারের প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন রমনা পার্কে ছায়ানটের বর্ষবরণ ছাড়া সকল অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

এর ধারাবাহিকতায় সেমিনারের আয়োজক সংগঠন ও সমাজের বিশিষ্টজনদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম বজলুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় রমনা পার্কের উন্নয়নে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রধান করে সাত সদস্যের ডিজিটাল সার্ভে কমিটি করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন স্থাপত্য অধিদফতরের উপ-প্রধান স্থপতি সৈয়দ আমিনুর রহমান, গণপূর্ত আরবরিকালচারের প্রধান বৃক্ষ পালনবিদ, বিশিষ্ট গবেষক দ্বিজেন শর্মা, স্থপতি মুসতাক কাদরী, স্থপতি তুগলক আজাদ ও উদ্ভিদবিদ শরিফ হোসেন। সভায় ঢাকা গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কমিটি নামে ১৬ সদস্যের অপর একটি কমিটি গঠন করা হয়। রমনা পার্কের বিদ্যমান গাছের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসসহ নামফলক স্থাপন, সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলা, দুর্লভ গাছের তালিকা ও ডাটাবেজ প্রণয়ন, উন্মুক্ত স্থান নির্ধারণ ও সংরক্ষণ, পায়ে হাঁটার পথ সুনির্দিষ্টকরণ, পার্কের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণ ও পার্কের ব্যবস্থাপনায় প্রস্তাবনা প্রণয়নের বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।