১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি


বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ মোটামুটি শুরু হয়ে গেছে ঈদ। শুরু হয়ে গেছে বলা চলে। এখন রাজধানী শহর ঢাকায় ঈদ ছাড়া আর কিছু সত্যি চোখে পড়ে না। সব বয়সী মানুষের চলায় বলায় ঈদ। সবাই ব্যস্ত কেনাকাটায়। এমনকি হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষও ফুটপাথের দোকানগুলো ঘুরে দেখছেন। দাম দর করে পোশাক কিনছেন। বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দেখা যায়, এক দরিদ্র মা তার ছেলের জন্য শার্ট পছন্দ করছেন। ছেলের গায়ের উপর শার্ট ধরে দেখছিলেন কেমন দেখায়। এর পর দামাদামী। অনেক্ষণ দাম দরের পর শার্টটি প্যাকেটে ভরে দিলেন হকার। প্যাকেট হাতে নিয়ে ছেলে যত খুশি তারও বেশি খুশি যেন মা। কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনরকমে চলি। একটা ছেলে। স্কুলে যায়। সুন্দর কাপড় লাগে না? ভাল কাপড় কিনতে এইখানে আসছি।’ কাঁঠালবাগান ঢালের পাশে যে বস্তি, সেখানেও ঈদের একটা হাওয়া বইছে বলে মনে হয়। গত বুধবার ফুটপাথের উপর বসে কথা বলছিলেন দুই নারী। তাদের কথা থেকেই জানা গেল, ছেলেমেয়েদের কারও কারও জন্য নতুন জামা পাওয়া হয়েছে। কোন একটি বাচ্চার জামা ভীষণ সুন্দর হয়েছে জানিয়ে এক নারী অন্য নারীকে বলছিলেন, ‘ঈদের আগেই পরাইয়া ফালাইও না!’

এবার সরকারী ছুটি অনেক লম্বা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই এ ছুটি-ই কার্যকর হয়ে গেছে! শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। রবিবার শব-ই-কদরের ছুটি। সোমবার সরকারী সব অফিস খোলা থাকার কথা ছিল। নির্বাহী আদেশে এদিনও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৬ জুলাই সম্ভাব্য ঈদ ধরে ৫ থেকে ৭ জুলাই তিন দিন ঈদের ছুটি থাকবে। ৮ ও ৯ জুলাই শুক্র এবং শনিবার। এভাবে টানা ৯ দিনই ছুটি পাবেন সরকারী চাকুরেরা। এই দীর্ঘ ছুটি সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে রাজধানীবাসী। পরিবার পরিজনসহ বহু মানুষকে সায়দাবাদ, যাত্রাবাড়ি, সদরঘাট ও গাবতলীর দিকে ছুটতে দেখা যায়। সঙ্গে থাকা একাধিক ব্যাগ ও ছুটে চলার ধরন বলে দেয়, সবাই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। কল্যাণপুর বিআরটিসি বাসডিপোর কাছে অনেক বাস কাউন্টার। হানিফ পরিবহনের বিশ্রামাগারে কথা হয় সুনামগঞ্জের যাত্রী রশিদুল হাসানের সঙ্গে। বয়সে তরুণ। চাকরি সূত্রে ঢাকায় আসা। ৭ মাস পর বাড়ি ফিরছেন। বললেন, এতদিন ভালই কাটিয়েছিলাম। কিন্তু রোজা শুরু হতেই মন কেমন দুর্বল হয়ে গেল। বাবা-ম-ভাই-বোনদের মিস করছিলাম। সেই থেকে প্রস্তুতি চলছিল। আজ অফিসের কাজ শেষ করে আগেভাগে বের হয়ে যাই। কাল ভোরে নিজের জন্মস্থানে পা রাখব। কথাগুলো বলার সময় তার চোখে মুখে এক ধরনের প্রশান্তি খেলা করে। একই প্রশান্তি দেখা যায় অন্য প্রায় সব যাত্রীর চোখে মুখে। প্রথম দিনের বাড়ি ফেরা নিয়ে ফোনে কথা হয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার ঈদের আগে পরে কোন হরতাল অবরোধ নেই। অস্থিতিশীলতা নেই। তার উপর নয়দিনের লম্বা ছুটি পাওয়া গেছে। অনেক আগেই এ ছুটির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। যাত্রীরাও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। পুরো সময়টা কাজে লাগাতে অনেকেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। যারা আগাম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তারা বাসে চড়বেন আজ শুক্রবার থেকে। তার মানে, আজ থেকেই বদলে যেতে থাকবে ঢাকার চিরচেনা রূপ। ফাঁকা ঢাকা দেখার অপেক্ষায় রাজধানীবাসী।

ঈদে যারা ঢাকায় থাকবেন তাদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় ঈদগাহ। হাইকোর্ট সংলগ্ন মাঠটি মোটামুটি প্রস্তুত। এখানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিচারপতি, সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মুসল্লিরা। বিপুল মানুষের নামাজ আদায় নির্বিঘœ করতে কাজ এগিয়ে চলেছে। বাঁশ দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে ত্রিপল টানানোর কাজ। দেয়াল রং করার কাজও মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করার দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স পিয়ারু অ্যান্ড সন্স। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক জানান, কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ত্রিপল টানানো হয়ে গেলে এর নিচে শামিয়ানা টানানো হবে। লাইট ফ্যান ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হবে। এবার প্রধান ফটক বিশেষ দৃষ্টিনন্দন করা হবে বলেও জানান তিনি। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ভিআইপিদের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৩ হাজার বর্গফুট জায়গা নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সোয়াট। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কন্ট্রোল রুম থেকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও থাকছে নানা উদ্যোগ।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: