মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আল বিদা মাহে রমজান

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৬

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ সুপ্রিয় পাঠক ও মুসল্লিবৃন্দ! আল বিদা মাহে রমজান। ক্রমাগত শেষ হয়ে যাচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস রমজানুল মোবারক, আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। আজ জুমাতুল বিদায় মুমিন মুসল্লিরা যারপরনাই ভেঙ্গে পড়বেন। মাহে রমজানের এ হৃদয়কাড়া সমাপনী জুমায় মুসলমানরা এক পরম আহ্লাদ প্রাণচঞ্চলতা ও হারানোর অস্থিরতায় ভোগেন। কারণ বাহ্যিকভাবে রোজার মাসকে উপবাসের সিজন মনে হলেও মুসলিম জাহানে এ মাস উৎসবমুখর ইবাদতের এক বিশ্ব মৌসুম। এ মাসের রয়েছে ধর্মীয় আধ্যাত্মিক ও ব্যাপক সামাজিক আবেদন। তাই কোনভাবেই যেন এ নিয়ম শৃঙ্খলাবদ্ধ অনুপম মাস কেউ হারাতে চায় না। তাই হারানোর বেদনা আজ প্রকাশিত হয় জুমাতুল বিদার খুতবা ও ওয়াজে, মুসল্লিদের হৃদয়ের অনুরণে। রমজানুল মুবারক ক্রমাগত শেষ হয়ে আসলে ২টি দিবসের প্রতি তারা বিশেষ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে। একটি হলো পবিত্র শব-ই-কদর, অপরটি হলো জুমাতুল বিদা। আজ পবিত্র জুমাতুল বিদার ফজিলত প্রাপ্তির সময়।

এমনিতেই ইসলাম ধর্মে জুমা বা জুমা দিনের গুরুত্ব অনেক বেশি। দুনিয়ার অনেক উত্তান পতন ও ঘটনার কালসাক্ষী এটি। পৃথিবী সৃষ্টি হয় এদিনে। কিয়ামত ও এদিনে সংঘটিত হবে। এদিনের জুমার সালাত ও খুৎবাকে গরিবের হজ বলা হয়ে থাকে। হাদীস শরীফে এসেছে, এদিন এমন একটি মুহূর্ত আছে, যাতে মানুষ যে দোয়াই করে কবুল হয়। আমরা সারাদিন পূতঃপবিত্র থেকে ইবাদত-বন্দেগী আন্জাম দেয়ার মাধ্যমে সে মুহূর্তটি লাভ করতে পারি। কুরানুল করীমের সুরাতুল জুমাআয় আল্লাহ সুবাহানাল্লাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন : হে ইমানদারগণ, জুমার দিনে যখন আজান দেয়া হয়, তোমরা আল্লাহর স্মরণে ত্বরা করো এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখ। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝ।

রহমত বরকত মাহফিরাতের মাস রমজানে জুমার দিবসের গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। কারণ, এ মাসের প্রতিটি নেক কাজের সাওয়াব অন্য এগারো মাসের তুলনায় অত্যধিক। এজন্য দেখা যায়, এদিন জুমার সালাতে প্রধান প্রধান মসজিদ সমূহে মুসল্লিদের ঢল নামে; রাজপথ হয় লাখো মুমিনের জায়নামাজ। জুমাতুল বিদার খুৎবায় থাকে মাহে রমজানের বিদায় বার্তা। মসজিদের ইমাম বা খতীব যখন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তা বর্ণনা করেন তখন দিকে দিকে করুন ও কাতর দৃশ্যের উদ্ভব হয়। রমজানের বিদায়ী সানাই শোনে মুসল্লিগণ হতবিহবল হয়ে পড়েন। ইমাম সাহেব বলতে থাকেন ওহে কুরআনের মাস তোমায় সালাম, আসসালামু আলাইকা ইয়া শাহরাল মাগফিরাহÑওহে গুনাহ মাফির মাস তোমায় সালাম, বিদায়, বিদায় ওহে মাহে রমজান। খুৎবায় এমনিতর বহুবিধ যথার্থ বাক্য প্রয়োগে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলামানদের হৃদয়-মন আখিরাতের জবাবদিহিতার ভয়ে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে। কেননা হে মাগফিরাতের মাস, তুমিতো সাক্ষ্যদাতা। তুমি কি আমাদের পক্ষে সাক্ষী হবে, নাকি আল্লাহর দরবারে আমাদের বিপক্ষে সাক্ষী দেবে। আমরা তো এ মাসের সব হক হুকুম আদায় করতে পারিনি এবং আগামী বছর এমন দিনে বেঁচে থাকব তাও নিশ্চিত নয়।

এসব কিছু স্মরণে এনে মুসল্লিগণ তাওবায় অংশ নেন। কায়মনোবাক্যে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য অনুশোচনা ব্যক্ত করেন। নিজের জন্য ও ময়-মুরব্বী আওলাদ ফরজন্দ, সর্বোপরি দেশ জাতির মঙ্গল কামনায় সকলে অভিন্ন কণ্ঠে ফরিয়াদ করেন। তাই জুমাতুল বিদা বস্তুতই ইবাদত বন্দেগীর, তাওবা, ইস্তিগফারের, মাহে রমজানের বিদায় বেলায় আনুষ্ঠানিক আত্মোপলব্ধির ও বিশেষ মুনাজাতের। আমরা যেন পূর্ণমর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে তা উদযাপন করি।

প্রকাশিত : ১ জুলাই ২০১৬

০১/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: