২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ব্যস্ত সময় পার করছেন নারী শ্রমিকরা


সুবল বিশ্বাস, মাদারীপুর ॥ মুসলমানদের প্রধান ও বৃহৎ ২টি ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল- আযহা। আর মাত্র ক’দিন পরই ঈদ-উল-ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই মানুষের ঈদের সামগ্রী কেনাকাটায় ধুম পড়ে গেছে। বিপণিবিতান ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানগুলোর মতো ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদারীপুরের বাটিক শিল্প কারখানার শ্রমিকরা। রঙের বিভায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সৌন্দর্য। নারী শ্রমিকদের নিপুণ হাতে তৈরি লোকজ শিল্পের ঐতিহ্য বাটিক সামগ্রী দিন দিন সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন নকশায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্রকৃতি ও আবহমান বাংলার নানা বৈচিত্র্যময় চিত্র। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও ঢাকার নামী দামী শো-রুমে শোভা পাচ্ছে মাদারীপুরের নজরকাড়া বাটিক সামগ্রী।

স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালের ২২ এপ্রিল মাদারীপুর রাজৈরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠে গণ-উন্নয়ন প্রচেষ্টা নামে একটি বেসরকারী সংস্থা। গণ-উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ আতাউর রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী সুলতানা রহমান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠন ও মানব কল্যাণের ব্রত নিয়ে গণ-উন্নয়ন প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানব সেবার পাশাপাশি এ সংস্থার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠালগ্নে গড়ে ওঠে গ্রামীণ জীবনযাত্রার চিত্র নিয়ে বাটিক শিল্প। মাদারীপুরে বাটিকের যাত্রা শুরু তখন থেকেই। ৮০’র দশকে এখানকার বাটিকের কারখানায় তৈরি সামগ্রী দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তখন এ সংস্থার প্রচেষ্টায় রাজৈরের প্রায় ঘরে-ঘরে বাটিকের কারখানা গড়ে ওঠে। কর্মসংসংস্থান হয় সহস্র্রাধিক নারী শ্রমিকের। দেশব্যাপী কদর বাড়ে মাদারীপুরের বাটিক সামগ্রীর। বছরে প্রায় বার মাসই এর চাহিদা ছিল। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ৯০’এর দশকে এ শিল্পে ভাটা পড়ে যায় ধীরে-ধীরে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এ শিল্প আজও টিকে রয়েছে তার প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে। আর এর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে দেশ-বিদেশে বাটিক শিল্পের কদর সারা বছরে ভাটা থাকলে বিভিন্ন উৎসব পার্বণে এর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। বছরের বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে বাটিক শিল্প সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখে এবং সম্মৃদ্ধ করে তোলে। প্রতিবছরের মতো এবার বাটিক শিল্পীরা ব্যস্ততম সময় পার করছেন। রাজৈর বাটিক শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক শ’ নারী শ্রমিক। বছরে বার মাস তারা তুলনামূলকভাবে কম ব্যস্ত থাকলেও বিভিন্ন উৎসবের সময় তারা বেশি ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সে থেকে এবারও তারা পিছিয়ে নেই। আয়ও মোটামুটি ভাল। শুধু উদ্যোক্তার ও পৃষ্ঠপোষকতার।

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে বাটিক শিল্প সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যায়।