২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চলতি বছরে রেমিটেন্স এসেছে ১৫ বিলিয়ন ডলার


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৫২৮ কোটি (১৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল। এই হিসেবে এবার ১০৭ কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

রমজানের ঈদ ঘিরে বাড়ছে রেমিটেন্স প্রবাহ। প্রতি বছরই এ সময়ে রেমিটেন্সে উল্লম্ফন দেখা যায়। প্রবাসীরা প্রতি মাসেই টাকা পাঠান। কিন্তু ঈদে টাকা পাঠানোর পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ব্যাংকার ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ এলে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী বলেন, নিয়মিত মাসের তুলনায় আসছে ঈদে রেমিটেন্স প্রবাহ অনেক বাড়ছে এবং বাড়বে। কারণ ঈদকে সামনে রেখে মানুষ নানা পরিকল্পনা করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১১২ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৪৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে আসে। একক মাসের হিসাবে সেটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ায় এর প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া বিদেশী মুদ্রার বিনিময় হার ‘স্থিতিশীল’ থাকার বিষয়টিও এতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান তিনি। রেমিটেন্স বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়ন (রিজার্ভ) ৩০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেমিটেন্স সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত মে মাসে রেমিটেন্স এসেছে ১৩২ কোটি ডলার, যা এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি। গত এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ১২৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। মার্চ মাসে পাঠিয়েছিলেন ১৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, দেশের মানুষ দুই ঈদে অনেক আনন্দ-আয়োজন করে। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত খরচের পাশাপাশি কিছুটা বাড়তি খরচও হয়। অনেক সময় প্রবাসীরা ঈদের জন্য টাকা সঞ্চয় করেন। ঈদ এলে একসঙ্গে সব টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এছাড়া মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হয় বোনাসও। সব মিলিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ঈদ এলে প্রচুর অর্থ বাড়িতে পাঠান। সে কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় ঈদে রেমিটেন্সের পরিমাণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, এখন ব্যাংকিং চ্যানেল আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। আগে হুন্ডিনির্ভর ছিল। এখনও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আসে। তবে আগের তুলনায় কমেছে।