২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কলমানি মার্কেটের সুদহার ঈদের আগেও স্থিতিশীল


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রতিবছর ঈদের আগে ব্যাংকের নগদ অর্থের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ব্যাংকগুলো গ্রাহকের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে স্বল্প সময়ের আন্তঃব্যাংক (কলমানি) মার্কেটের দ্বারস্থ হয়ে থাকে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ বা যে কোন উৎসবের পূর্বে সুদহারও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বছর কলমানি মার্কেটের লেনদেন ও সুদহার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, দেশের আর্থিক খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে কলমানি মার্কেটের অর্থ লেনদেনে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়তে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিগত দুই মাস কলমানি মার্কেটে দৈনিক ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ধার দেয়া-নেয়া হয়েছে। পুরো সময় কলমানি মার্কেটের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন সুদহার ছিল ১ দশমিক ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানান, ঈদের কেনাকাটার জন্য গ্রাহকদের সুবিধার্থে সব ব্যাংকের এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এটিএম ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) নেটওয়ার্ক সার্বক্ষণিক সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে প্রচুর উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। ফলে ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়লেও সঙ্কটের আশঙ্কা নেই। জানা গেছে, সঙ্কটকালীন এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে সাময়িক সময়ের জন্য টাকা ধার করে। এক রাতের জন্য এই ধার দেয়া হয়। এই ধার দেয়া-নেয়া কার্যক্রম সম্পন্ন হয় আন্তঃব্যাংক কলমানি মাকের্টে। নগদ টাকা ধারের চাহিদার ওপর এই মার্কেটের সুদহার ওঠানামা করে। তবে গত কয়েক বছর ঈদের আগে এই বাজারের সুদহার খুব একটা বাড়তে দেখা যায়নি। ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এবারও ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় ঈদের আগে কলমানি রেট স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এর মধ্যে অলস অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বেশিরভাগ ব্যাংকের হাতেই এখন অলস অর্থ রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে খাটানো রয়েছে। তবে ব্যাংকের হাতে থাকা অলস অর্থ যাতে অনুৎপাদনশীল খাতে যেতে না পারে, সেজন্য প্রতিদিনই বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে টাকা তুলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়তে শুরু করায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের মাধ্যমে বাজার থেকে টাকা তোলা কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সূত্র জানায়, বিপুল পরিমাণের অর্থ অলস পড়ে থাকলেও কলমানি (আন্তঃব্যাংক) মার্কেটে দৈনিক সাত হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। ঈদ-উল-ফিতরের আগে গ্রাহকের নগদ অর্থের চাহিদা বাড়ায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সময়ের এই মার্কেট থেকে টাকা ধার করছে। তাছাড়া কলমানি মার্কেটে সুদহার কম থাকায় অর্থের জোগান দিতে আমানত সংগ্রহের দিকে না ঝুঁকে কলমানিতে বেশি আগ্রহী ব্যাংকগুলো। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, কলমানি মার্কেট স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অলিখিত নির্দেশনা রয়েছে। কোনো ব্যাংক ইচ্ছা করলেই বেশি সুদহারে ধার দিতে পারবে না। আর ব্যাংকগুলোর কাছে বেশি পরিমাণ তারল্য থাকায় কলমানি মার্কেটের ওপর চাপ কমে গিয়েছিল। তবে ব্যাংকগুলো প্রয়োজন মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্কিমে না গিয়ে স্বল্প সুদে কলমানি থেকে ধার করে চলেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, জুন মাসের শুরু থেকে কলমানি মার্কেটে সাত হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। গত ২০ জুন লেনদেন হয়েছিল ৭ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা, এরপর ২৭ জুনে গিয়ে লেনদেন হয় ৫ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা। ২৮ জুন লেনদেন হয় ৬ হাজার ৭০০। ২৯ জুন লেনদেন হয় ৭ হাজার ৩২০। সর্বশেষ ৩০ জুন লেনদেন হয় ৭ হাজার ৪২০। জুন মাসে গড় সুদহার ছিল সাড়ে তিন শতাংশের ওপরে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো কলমানি মার্কেট থেকে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত হাজার কোটি টাকা নগদ লেনদেন করছে, তারপরও মার্কেটে সুদের হার স্বাভাবিক রয়েছে। এটা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দূরদর্শিতার কারণে। তাদের মতে, কলমানি মার্কেট স্বাভাবিক থাকলে তার প্রভাবে পুঁজিবাজার নতুন করে তারল্য সঙ্কটে পড়ার সম্ভাবনা কম। আন্তঃব্যাংক কলমানি বাজার হলো এমন একটি মার্কেট-যা মূলত অবিলম্বে তারল্য সঙ্কট মেটানোর জন্য ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাহায্য করে।