১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি অপসারিত, ডিএমডি গ্রেপ্তার


অগ্রণী ব্যাংকের এমডি অপসারিত, ডিএমডি গ্রেপ্তার

অথনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঋণে অনিয়মের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খানকে।

বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমডি হামিদকে অপসারণের পর দুপুরে ডিএমডি মিজানকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিকালেই তাকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম পাওয়ায় এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশ পাঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এই অনিয়মের মধ্যে মুন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজকে দেওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে, যার অনুসন্ধান চালাচ্ছিল দুদক।

ওই ঋণ তুলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায়ই মতিঝিল থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদকের মুখপাত্র প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান।

মুন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গত জানুয়ারিতে মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অগ্রণী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন তাকে ব্যাংকের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াও হয়েছিল।

প্রণব বলেন, বিকালে মতিঝিল থেকে মিজানের সঙ্গে ব্যাংকটির ডিজিএম মো. আখতারুল আলম এবং এজিএম মো. শফিউল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

“ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার একটি জমিতে ভবন নির্মাণের নামে আয়-ব্যয়ের ভুয়া হিসাব দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

মুন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওই জমিটির (মিজান টাওয়ার) মালিকানা দাবি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও তার মালিকানা স্বত্বের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, “আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ওই জমির গ্রাহক মিজানুর রহমানকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে পর্যায়ক্রমে ৯৪.৮ কোটি টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করে ব্যাংকের তথা রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করেছেন।”

সকালে এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশনা আসার পর ডিএমডি মিজানকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

তিনি বলেন, “এমডি অপসারণের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এক চিঠি দিয়ে সিনিয়র ডিএমডিকে ভারপ্রাপ্ত এমডি করতে বলেছিল। সে মোতাবেক মিজানুর রহমান খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।” এমডি অপসারণের পর ভারপ্রাপ্ত এমডি গ্রেপ্তার হওয়াকে বড় ধাক্কা মনে করছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।

সে বিষয়ে জায়েদ বখত বলেন, “আমরা যতটুকু জেনেছি, মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে নেওয়া হয়েছে। যদি সত্যিই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয় যে ব্যবস্থা নিতে বলে আমরা সে ব্যবস্থাই নেব।”

এর আগে সকালে তিনি জানান, ৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম পাওয়ায় এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সঙ্গে সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির পরও গত বছরের ১১ জুলাই এমডি পদে হামিদের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে আদেশ জারি করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী, কয়েক দিন পরই ১০ জুলাই তার মেয়াদ শেষের কথা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: