২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্রসফায়ারে র্যাবের চেয়ে পুলিশ এগিয়ে: আসক


ক্রসফায়ারে র্যাবের চেয়ে পুলিশ এগিয়ে: আসক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এক যুগ আগে র্যাব গঠনের পর ‘ক্রসফায়ার’ আলোচনায় উঠে এলেও এখন এই ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা বেশি বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনটি বলছে, চলতি ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে বা ‘ক্রসফায়ারে’ ৭৯ জন মারা গেছেন, এর মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যুতে পুলিশ জড়িত।

৩৭ জনের মধ্যে ৩০ জন থানা পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছেন, ডিবি পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন ৭ জন। র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ২৪ জন এবং বিজিবির ‘ক্রসফায়ারে’ ১ জন নিহত হয়েছেন বলে আসকের পরিসংখ্যানে বলা হয়। এই সময়ে পুলিশের ‘নির্যাতনে’ ৫ জন, ডিবি পুলিশের ‘নির্যাতনে’ ১ জন, পুলিশের গুলিতে ৫ জন, বিজিবির গুলিতে ১ জন মারা যান বলে আসক জানায়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের এই প্রতিবেদনে থানা হাজতে ‘অসুস্থ’ হয়ে ৪ জন এবং ‘রহস্যজনকভাবে’ ১ জনের মৃত্যুর তথ্যও স্থান পায়। প্রধান জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে আসক জানিয়েছে।

আসকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে সাদা পোশাকে এসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৫০ জনকে তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছয়জনের লাশ পরে পাওয়া যায়, দুজন ফেরত এসেছে, চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকিদের কোনো খবর মেলেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মোট ৬৯৩ ঘটনায় ১৪২ জন নিহত এবং ৯ হাজার ৮৫ জন আহত হন। এর বাইরে রাজনৈতিক সহিংসতার মোট ১১৮টি ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং এক হাজার ২০৫ জন আহত হন। ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৪২জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর মধ্যে ১৪জন কয়েদি এবং ২৮ জন হাজতি।

আসকের হিসাব অনুযায়ী, ছয় মাসে সীমান্তে ভারতীয় বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ১২ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। অপহরণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন, যাদের মধ্যে ১৭ জন ফেরত এসেছে বিজিবির মধ্যস্থতায়। আসকের প্রতিবেদনে শিশু নির্যাতন ও হত্যা, রাজনৈতিক সংঘাত, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি, সীমান্ত সংঘাত, কারা হেফাজতে মৃত্যু, ধর্ষণ ও পারিবারিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয়ের সংখ্যাগত হিসাবও দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ে ৫৯১টি শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ২৩৫জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে এবং ১৫জন আত্মহত্যা করেছে। গত ছয় মাসে ৭৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে আসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: