মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভয়ে থাকে প্রশাসন

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৬, ০১:০৬ পি. এম.
মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভয়ে থাকে প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক॥ হয়তো কথার কথা। কিন্তু তিনি বলেন, তার নজর সর্বত্র। তাতেই ধরা পড়ার ভয়ে থাকে প্রশাসন। আতঙ্কে থাকেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারাও। কারণ, তারা জানেন, পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অজস্র ‘কর্ষিকা’। সময়ে-অসময়ে সেগুলোকে সক্রিয় করে তোলেন তিন। কখনও দলীয় স্তরে। কখনও প্রশাসনিক। ফলে খবর পৌঁছতে তার কাছে দেরি হয় না।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখন আর ‘কর্ষিকা’র উপরেও ভরসা করছেন না রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি নিজে সবকিছু দেখতে চান। নিজের চোখে। মাউসের এক ‘ক্লিকে’ই তৃণমূল স্তরে পৌঁছে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুমাত্র তারই প্রশাসনিক নজরদারির জন্য বিশেষ এক ধরনের সফটওয়্যার শীঘ্রই চালু হতে চলেছে সরকারের শীর্ষমহলে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘সমীক্ষা’।

প্রাথমিকভাবে পূর্ত দফতরের জন্য এই সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে। অর্থাৎ, সবার আগে দিদির 'নজরবন্দি' হলেন তার আস্থাভাজন পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পরে অবশ্য সমস্ত দফতরেই এটি চালু হওয়ার কথা। ফলে কালক্রমে কোন ভাইবোনই বাদ পড়বেন না।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা, প্রযুক্তিটির দু’টি দিক রয়েছে। প্রথম ভাগে বাছাই করা পদাধিকারীদের ডেস্কটপে ‘সমীক্ষা’ সফটওয়্যারটি থাকবে। দ্বিতীয় ভাগে সংশ্লিষ্ট কর্তাদের স্মার্টফোনে সেটি থাকবে ‘অ্যাপ’ হিসাবে। ‘সমীক্ষা’য় মাউসের ক্লিক হলেই গোটা রাজ্যে পূর্ত দফতরের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ ফুটে উঠবে। তথ্য পাওয়া যাবে জেলা, ব্লক, এলাকা ভাগ করে কোথায় কী ধরনের কাজ চলছে তার। প্রকল্পগুলি কী পর্যায়ে রয়েছে, কোথায় কী সমস্যা, কাজ শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে, অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তাও জানা যাবে ‘সমীক্ষা’ থেকে।

মোবাইলের সংশ্লিষ্ট ‘অ্যাপ’টি ব্যবহার করবেন একেবারে তৃণমূল স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পূর্ত দফতরের অফিসারেরা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ যে প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন, তাকে সময় সময় প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখতে হবে। এমনকি মোবাইলে কাজের অগ্রগতির ছবি তুলে তা ‘আপলোড’ করতে হবে ‘সমীক্ষা’র জন্য। সেখানেও চমক! ছবি তোলার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবস্থানের অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশও নথিবদ্ধ হয়ে যাবে ‘সমীক্ষা’য়। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘জিপিএস থাকায় অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশই প্রমাণ করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবস্থান। তিনি নিজে প্রকল্পের কাছে গিয়ে ছবি তুলেছেন না কি আগের কোন ছবি পাঠিয়ে দিয়েছেন, তাও প্রমাণ হয়ে যাবে। ফলে গাফিলতি দেখালে আমরা সহজে তাকে চেপে ধরতে পারব।’’

প্রশাসনের অন্দর মহলের খবর, সাধারণভাবে দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে ‘সমীক্ষা’। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীও তার ইচ্ছেমতো এটি পরখ করে দেখতে পারবেন। এক কর্মকর্তার ব্যাখ্যা, এখন মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ করে কোন প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য চেয়ে পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে তা দেওয়া কঠিন হয়। প্রথমে দফতরের ফাইল দেখতে হয়। তার পরে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ যায়। তিনি আবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের থেকে তা সংগ্রহ করে পাঠান। তার পরে তৈরি হয় রিপোর্ট। সময়সাপেক্ষ ওই পদ্ধতির পরিবর্তে ‘সমীক্ষা’ থেকেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৬, ০১:০৬ পি. এম.

৩০/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি মিয়ানমারের ॥ সমাধান ওদের হাতে || বাবার ফেরার অপেক্ষায় পিতৃহারা অবোধ রোহিঙ্গা শিশুরা || বছরে রফতানি আয় বাড়ছে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার || চালের বাজারে স্বস্তি প্রতিদিন দাম কমছে || বিদ্যুতের পাইকারি দর ১১.৭৮ ভাগ বৃদ্ধির সুপারিশ || মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধ নির্ভর করছে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর || রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য সেবায় ২৫ কোটি ডলার চেয়েছে বাংলাদেশ || আরও মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক || অপকৌশলে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, বিপুল অর্থ আদায় || জেলে মাদক ও মোবাইল ফোন ব্যবহার ॥ সারাদেশে দুই শতাধিক কারারক্ষী গোয়েন্দা নজরদারিতে ||