২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

তিন মেডিক্যাল কলেজকে শর্ত পূরণের সময় বেঁধে দিল মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৬
  • অন্যথায় ভর্তি স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর তিনটি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজকে শর্ত পূরণ করার জন্য তিন মাসের সময় বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই সময়ের মধ্যে কলেজের নামে নিজস্ব জমি নিবন্ধন করতে হবে। অন্যথায় কলেজের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হবে। কলেজ তিনটি হলো ধানম-ির বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও পপুলার মেডিক্যাল কলেজ। বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা সংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ শহীদুল্লাহসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই তিন কলেজ ছাড়াও যেসব মেডিক্যাল কলেজ তাদের কলেজের নামে নিজস্ব জমি নিবন্ধন করেনি তাদেরও আগামী তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য সভা থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মেডিক্যাল শিক্ষার মানের বিষয়ে কোন আপোস করা হবে না। মেডিক্যাল শিক্ষা মানসম্মত না হলে যোগ্য ও মানসম্মত চিকিৎসক বের হবে না। এ বিষয়টির সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের সম্পর্ক রয়েছে। মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ শর্ত পূরণ করতেই হবে। অন্যথায় নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কলেজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দ্বিধা করব না। মেডিক্যাল কলেজসমূহ পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের কিছুসংখ্যক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা ও গবেষণার মানসহ অনুমোদন নেয়ার সময় দেয়া শর্তসমূহ যথার্থভাবে পূরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এরই প্রেক্ষিতে দেশের সব ক’টি মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোন ভাড়া বাড়িতে কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা যাবে না। কলেজ একাডেমিক ভবন ও হাসপাতাল ভবন আলাদা থাকতে হবে। কোন অবস্থাতেই দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ধারণা গ্রহণযোগ্য হবে না। হাসপাতালে দরিদ্র জনগণের জন্য বিনা ভাড়ায় কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ বেড সংরক্ষণসহ ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। কলেজে প্রতি শিক্ষার্থীর বিপরীতে হাসপাতালে থাকতে হবে পাঁচটি শয্যা। সর্বনিম্ন ৫০ ছাত্রছাত্রীর আসন বিশিষ্ট বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য মহানগর এলাকায় কমপক্ষে কলেজের নামে দেড় একর জমিতে অথবা নিজস্ব জমিতে কলেজের একাডেমিক ভবনের জন্য ১ লাখ বর্গফুট এবং হাসপাতাল ভবনের জন্য ১ লাখ বর্গফুট ফ্লোরস্পেস থাকতে হবে। আর মহানগরীর বাইরে ৩ একর নির্মাণযোগ্য জমিতে অথবা নিজস্ব জমিতে ১ লাখ বর্গফুট ফ্লোরস্পেস থাকতে হবে। তবে প্রারম্ভে একাডেমিক ও হাসপাতাল মিলে সর্বনিম্ন মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুট প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসহ ফ্লোর স্পেস থাকলে মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয়া যাবে। তবে পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২ লাখ বর্গফুট ফ্লোরস্পেসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে হবে। আর বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল শুধু নির্ধারিত প্লট/জমিতেই স্থাপন করতে হবে। কলেজের নামে কোন তফশিলী ব্যাংকে ১ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রাখতে হবে। কলেজ অনুমোদিত হলে স্থায়ী আমানতটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া এই অর্থ উত্তোলন বা ব্যয় করা যাবে না। তবে গবর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে কলেজ কর্তৃপক্ষ শুধু বছরান্তে প্রাপ্ত সুদ উত্তোলন করে কলেজের হিসাবে স্থানান্তর করতে পারবে। ৫০ শয্যার একটি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কমপক্ষে ২ বছর পূর্ব হতে প্রস্তাবিত ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোসমূহ ন্যূনতম ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল চালু থাকতে হবে। পরবর্তীতে চিকিৎসা শিক্ষার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ হাসপাতালে রূপান্তর করা যাবে। পরিদর্শনকালে কোন কলেজ যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কলেজে আসন সংখ্যা হ্রাস বা ছাত্রছাত্রী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা যাবে। অনিয়ম গুরুতর অথচ সংশোধনযোগ্য না হলে প্রয়োজনে কলেজের অনুমোদন স্থগিত/বাতিল করা যাবে।

প্রকাশিত : ৩০ জুন ২০১৬

৩০/০৬/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: